তারা মন্ত্র
এটি একটি পবিত্র মন্ত্র, যা তারা দেবীকে সম্বোধন করে। এই মন্ত্রটি জপ করলে করুণা, সুরক্ষা এবং ভয় থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
শ্লোক
ওঁ, হে তারা, হে ত্রাণকর্ত্রী, হে ত্বরা-প্রদায়িনী, স্বাহা।
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এটি তিব্বতি ও ভারতীয় বৌদ্ধধর্মের একটি শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব তারা দেবীর সাথে সম্পর্কিত একটি বৌদ্ধ মন্ত্র। এটি ঐতিহ্যগতভাবে সুরক্ষা, করুণা এবং বাধা দূর করার জন্য একটি প্রার্থনা হিসাবে পাঠ করা হয়, প্রায়শই ধ্যান বা ভক্তি অনুশীলনের সময়। মন্ত্রটি বৃহত্তর তারা ঐতিহ্যের অংশ, যা দেবীর দ্রুত ও করুণাময় ত্রাণকর্তার ভূমিকার উপর জোর দেয়।
আপনি কি জানেন?
মন্ত্রের পরিচয়
এটি বৌদ্ধ তন্ত্রের একটি বিখ্যাত মন্ত্র, যা 'তারা মন্ত্র' নামে পরিচিত। 'তারে তুত্তারে তুরে' শব্দগুলো তারা দেবীকে সম্বোধন করে, আর 'স্বাহা' হল আহুতি দেওয়ার সময় উচ্চারিত একটি পবিত্র শব্দ, যার অর্থ 'এই বলি গ্রহণ করুন'।
তারা কে?
তারা হলেন বৌদ্ধ ও হিন্দু উভয় ঐতিহ্যে পূজিত একজন দেবী, যিনি করুণা ও রক্ষার প্রতীক। তাঁকে 'উদ্ধারকারিণী' বলা হয়, কারণ তিনি ভক্তদের সংসার-সাগর (জন্ম-মৃত্যুর চক্র) থেকে পার করে দেন।
মন্ত্রের গঠন
এই মন্ত্রটি মূলত তিনটি শব্দের পুনরাবৃত্তি — 'তারে', 'তুত্তারে', 'তুরে' — যা তারা দেবীর তিনটি রূপ বা শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিটি শব্দের সঙ্গে 'স্বাহা' যোগ করে মন্ত্রটি সম্পূর্ণ হয়, যা এটিকে একটি আহুতি-মন্ত্রে পরিণত করে।
ব্যবহার ও প্রভাব
এই মন্ত্রটি সাধারণত ধ্যান, জপ বা হোম (অগ্নি-আহুতি) অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। বৌদ্ধ ঐতিহ্যে বিশ্বাস করা হয় যে এই মন্ত্র জপ করলে ভয়, বিপদ ও নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং মনের শান্তি লাভ হয়।
ভাষাগত বৈশিষ্ট্য
মন্ত্রটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত, তবে এটি বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্যে প্রচলিত একটি বিশেষ ছন্দে উচ্চারিত হয়। 'স্বাহা' শব্দটি বৈদিক যুগ থেকে অগ্নি-আহুতির সঙ্গে যুক্ত, যা এই মন্ত্রকে প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
Tara
বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
