তারার মন্ত্র — আয়ু, পুণ্য, জ্ঞান ও পুষ্টি বৃদ্ধির প্রার্থনা
এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্ত্র যা সবুজ তারা দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। এই মন্ত্র জপ করলে আয়ু, পুণ্য, জ্ঞান ও পুষ্টি (শারীরিক ও আধ্যাত্মিক) বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
শ্লোক
ওঁ হে তারা, তুত্তারে ও তুরে, আমার আয়ু, পুণ্য, জ্ঞান ও পুষ্টি প্রদান করুন। স্বাহা।
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই মন্ত্রটি বৌদ্ধধর্মের বজ্রযান (তন্ত্রযান) ঐতিহ্যের অংশ। এটি সবুজ তারা দেবীর মন্ত্র হিসেবে পরিচিত এবং ধ্যান ও জপের মাধ্যমে জীবনকাল, সূকৃত, জ্ঞান ও পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়। তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে এই মন্ত্রটি অত্যন্ত পবিত্র ও বহুল প্রচলিত। নির্দিষ্ট লেখক বা রচনাকাল অজানা, তবে এটি প্রাচীন তান্ত্রিক গ্রন্থসমূহের অংশ বলে মনে করা হয়।
আপনি কি জানেন?
মূল মন্ত্রের অর্থ
এই মন্ত্রের প্রথম অংশটি হলো সবুজ তারা (গ্রিন তারা) দেবীর মূল মন্ত্র, যেখানে 'তারে' অর্থ তারা বা মুক্তিদাত্রী, 'তুত্তারে' অর্থ সংকট থেকে উদ্ধারকারী, এবং 'তুরে' অর্থ দ্রুত গতিতে সাহায্যকারী। এই তিনটি শব্দই ভক্তকে ভয়, কষ্ট ও বাধা থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ব্যক্তিগত প্রার্থনার সংযোজন
মূল মন্ত্রের পরে যুক্ত অংশটির অর্থ 'আমাকে দীর্ঘায়ু, পুণ্য, জ্ঞান ও পুষ্টি (সমৃদ্ধি) দান করুন'। এটি মূল মন্ত্রের একটি বিশেষ প্রয়োগ, যা মূলত আয়ু ও স্বাস্থ্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়।
তারা কে?
তারা হলেন বৌদ্ধধর্মের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় নারী বোধিসত্ত্ব, যিনি করুণা ও সক্রিয় সাহায্যের মূর্ত প্রতীক। তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে তার ২১টি রূপের পূজা হয়, তবে সবুজ তারা (শ্যামা তারা) সবচেয়ে বিখ্যাত, কারণ তিনি দ্রুততম সময়ে সঙ্কটে পড়া ভক্তদের সাহায্য করেন।
'স্বাহা' শব্দের তাৎপর্য
মন্ত্রের শেষে 'স্বাহা' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, যার অর্থ 'এই বলি/অর্ঘ্য গ্রহণ করুন' বা 'তথাস্তু'। এটি মন্ত্রটিকে দেবীর কাছে সমর্পণ করার একটি সীলমোহর, যা প্রার্থনাকে পূর্ণতা দেয় এবং দেবীকে আহ্বান জানায়।
সংস্কৃত ভাষা ও তিব্বতি ঐতিহ্য
এই মন্ত্রটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত, যা বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের (তিব্বতি বৌদ্ধধর্ম) লিটার্জিক্যাল ভাষা। তিব্বতি লামারা এই মন্ত্রটি সংস্কৃতেই জপ করেন, কারণ মনে করা হয় মূল সংস্কৃত ধ্বনিই দেবীর কম্পন বহন করে এবং ধ্যানের সময় এটি বিশেষ শক্তিশালী।
কখন জপ করা হয়?
এই বিশেষ রূপটি সাধারণত দীর্ঘায়ু (আয়ু) কামনায়, অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে এবং মানসিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য জপ করা হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সাধারণ ভক্তরা প্রতিদিনের প্রার্থনা বা বিশেষ অনুষ্ঠানে (যেমন দীর্ঘায়ু পূজা) এই মন্ত্রটি ব্যবহার করেন।
