চত্তারি মঙ্গলং (চার মঙ্গল)
এটি একটি জৈন প্রার্থনা, যা চারটি মঙ্গলময় বস্তুকে স্বীকার করে: অরিহন্ত (জিন), সিদ্ধ (মুক্ত আত্মা), সাধু (মুনি) এবং কেবলী-প্রণীত ধর্ম (সর্বজ্ঞ কর্তৃক প্রচারিত ধর্ম)।
শ্লোক
চারটি মঙ্গল: অরিহন্ত মঙ্গল, সিদ্ধ মঙ্গল, সাধু মঙ্গল, কেবলী-প্রজ্ঞপ্ত ধর্ম মঙ্গল।
শ্লোক 1
চারটি লোকোত্তম: অরিহন্ত লোকোত্তম, সিদ্ধ লোকোত্তম, সাধু লোকোত্তম, কেবলী-প্রজ্ঞপ্ত ধর্ম লোকোত্তম।
শ্লোক 2
চারটি শরণ গ্রহণ করি: অরিহন্ত শরণ গ্রহণ করি, সিদ্ধ শরণ গ্রহণ করি, সাধু শরণ গ্রহণ করি, কেবলী-প্রজ্ঞপ্ত ধর্ম শরণ গ্রহণ করি।
শ্লোক 3
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই স্তোত্রটি জৈন ধর্মের প্রাচীন প্রার্থনাগুলির একটি। এটি প্রতিদিনের উপাসনায় বা ধ্যানের শুরুতে পাঠ করা হয়। 'চত্তারি মঙ্গলং' অর্থ 'চার মঙ্গল' এবং এটি জৈন সংঘের মৌলিক শ্রদ্ধার বস্তুগুলির প্রতি নিবেদিত। ঐতিহ্যগতভাবে এটি আরাধনা বা পূজার সময় পঠিত হয়।
আপনি কি জানেন?
চার মঙ্গল
এই স্তোত্রটি জৈন ধর্মের চারটি পরম মঙ্গলকর বস্তুকে বর্ণনা করে — অরিহন্ত (জিতেন্দ্রিয় জিন), সিদ্ধ (মুক্ত আত্মা), সাধু (সন্ন্যাসী) এবং কেবলী-প্রজ্ঞপ্ত ধর্ম (কেবলীদের দ্বারা প্রচারিত ধর্ম)। এগুলো জৈনদের কাছে সর্বোচ্চ পূজনীয়।
অরিহন্ত ও সিদ্ধের পার্থক্য
অরিহন্ত হলেন জীবিত অবস্থায় সর্বজ্ঞতা লাভ করা আত্মা, যিনি এখনও দেহধারী কিন্তু সকল কর্ম থেকে মুক্ত। সিদ্ধ হলেন দেহমুক্ত, চিরকালীন মুক্ত আত্মা। দুজনেরই সমান পূজা করা হয় জৈন ঐতিহ্যে।
লোগুত্তম অর্থ
'লোগুত্তম' শব্দের অর্থ 'জগতে শ্রেষ্ঠ' বা 'লোকোত্তম'। এই স্তোত্রের দ্বিতীয় অংশে চারটি বস্তুকে 'লোগুত্তম' বলে স্বীকার করা হয়েছে — অর্থাৎ এরা জগতের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন।
শরণ গ্রহণ
তৃতীয় অংশে বলা হয়েছে 'সরণং পব্বজ্জামি' অর্থাৎ 'আমি শরণ গ্রহণ করছি'। জৈন ধর্মে চারটি শরণ (আশ্রয়) গ্রহণের মাধ্যমে ভক্ত নিজেকে ধর্মের পথে নিবেদন করে। এটি কোনো দেবতার নয়, বরং গুণ ও আদর্শের প্রতি আত্মসমর্পণ।
কেবলী-প্রজ্ঞপ্ত ধর্ম
'কেবলী পণ্ণত্তো ধম্মো' বলতে বোঝায় সেই ধর্ম বা শিক্ষা যা কেবলীরা (সর্বজ্ঞ) প্রচার করেছেন। জৈন বিশ্বাসে কেবলী ছাড়া আর কেউই ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ জানতে পারেন না, তাই এই ধর্মই সর্বোত্তম।
Mahavira
জৈনধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
