শ্রী মহাবীর আরতী
এটি জৈন ধর্মের ২৪তম তীর্থঙ্কর প্রভু মহাবীরের উদ্দেশ্যে একটি ভক্তিমূলক আরতী। প্রার্থনার সময় এই স্তোত্রটি গাওয়া হয় এবং ভগবানের গুণ ও কীর্তি বর্ণনা করে।
শ্লোক
শ্রী মহাবীর আরতি। জয় মহাবীর প্রভু! স্বামী জয় মহাবীর প্রভু! জগৎনায়ক সুখদায়ক, অতি গম্ভীর প্রভু। ॐ জয় মহাবীর প্রভু।
শ্লোক 1
কুণ্ডলপুরে জন্মগ্রহণ করলেন, ত্রিশলার পুত্র। পিতা সিদ্ধার্থ রাজা, দেব-মনুষ্য আনন্দিত হলেন। ॐ জয় মহাবীর প্রভু।
শ্লোক 2
দীননাথ দয়ানিধি, মঙ্গলকারী। জগতের হিতার্থে সংযম ধারণ করলেন, প্রভু পরোপকারী। ॐ জয় মহাবীর প্রভু।
শ্লোক 3
পাপাচার দূর করলেন, সৎপথ দেখালেন। দয়াধর্মের পতাকা জগতে উড়ালেন। ॐ জয় মহাবীর প্রভু।
শ্লোক 4
অর্জুনমালী গৌতম, শ্রী চন্দনবালা—এদের তরণী জগৎ থেকে পার করে দিলেন। ॐ জয় মহাবীর প্রভু।
শ্লোক 5
পবিত্র নাম তোমার, জগৎ তারণকারী। দিনরাত যে মানুষ ধ্যান করে, তার সব কষ্ট মিটে যায়। ॐ জয় মহাবীর প্রভু।
শ্লোক 6
করুণাসাগর! তোমার মাহাত্ম্য অনন্য। জ্ঞানমুনি গুণ গান করে, চরণে বলিহারি। ॐ জয় মহাবীর প্রভু।
শ্লোক 7
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই আরতীটি জৈন ভক্তিমূলক সাহিত্যের একটি অংশ। ঐতিহ্যগতভাবে এটি জ্ঞানমুনি রচিত বলে মনে করা হয়। জৈন মন্দিরে ও বাড়িতে পূজার শেষে বা বিশেষ অনুষ্ঠানে যেমন মহাবীর জয়ন্তীতে এটি গাওয়া হয়। আরতীটি প্রভু মহাবীরের জীবন, শিক্ষা ও করুণার মহিমা বর্ণনা করে।
আপনি কি জানেন?
জন্ম ও পরিচয়
এই আরতি জৈন ধর্মের ২৪তম তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীরের স্তুতি। তিনি কুণ্ডলপুরে রাজা সিদ্ধার্থ ও রাণী ত্রিশলার পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেন, যা দেবতা ও মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়ায়।
গুণাবলী ও শিক্ষা
স্তবটিতে মহাবীরকে 'দীনানাথ', 'দয়ানিধি' ও 'করুণাসাগর' বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি সবার মঙ্গলের জন্য সংযম গ্রহণ করেন এবং পাপাচার দূর করে সৎপথ দেখান। অহিংসা ও দয়ার পতাকা জগতে উত্তোলন করেন।
শিষ্যদের উল্লেখ
আরতিতে গৌতম স্বামী (পূর্বে অর্জুনমালি নামে পরিচিত) ও চন্দনবালার নাম আসে। এরা মহাবীরের প্রধান শিষ্য ছিলেন এবং তাঁদের মাধ্যমে জগৎ সংসার-সাগর পাড়ি দিয়েছিল বলে স্তবটি জানায়।
রচয়িতা ও তাৎপর্য
শেষ পংক্তিতে 'জ্ঞানমুনি'কে রচয়িতা হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। এই আরতি ভক্তরা নিত্য গায় যাতে সমস্ত কষ্ট দূর হয়। এটি জৈন গৃহে একটি জনপ্রিয় প্রার্থনা।
আরতির ভাবনা
'ওঁ জয় মহাবীর প্রভু' ধ্বনিটি পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ভগবানের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করা হয়। আরতি শব্দটি মূলত আলোর নৈবেদ্য বোঝালেও এখানে তা স্তুতি ও প্রশংসার রূপ নিয়েছে।
Mahavira
জৈনধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
