জয় নেমিনাথ স্বামী ভজন
এই ভজনটি ভগবান নেমিনাথের স্তব। এতে তাঁর জ্ঞান, করুণা ও ভক্তদের রক্ষা করার শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে।
শ্লোক
জয় নেমিনাথ স্বামী, প্রভু জয় নেমিনাথ স্বামী, জয় নেমিনাথ স্বামী, প্রভু জয় নেমিনাথ স্বামী।
শ্লোক 1
আপনিই সংসার-সমুদ্র পার করান, প্রভু, আপনিই সংসার-সমুদ্র পার করান। অন্তরের অন্ধকার দূরকারী স্বামী, জয় নেমিনাথ স্বামী।
শ্লোক 2
সমবসরণে আপনিই বিরাজমান, সমবসরণে আপনিই বিরাজমান। সুমধুর বাণী বর্ষিত হয়, স্বামী, জয় নেমিনাথ স্বামী।
শ্লোক 3
শ্রবণ করে ভব্য জীব পরম তত্ত্ব লাভ করে, শ্রবণ করে ভব্য জীব পরম তত্ত্ব লাভ করে। সুখ ও সম্যক জ্ঞানের অধিকারী স্বামী, জয় নেমিনাথ স্বামী।
শ্লোক 4
যক্ষ ও যক্ষিণী চামর ব্যঞ্জন করেন, যক্ষ ও যক্ষিণী চামর ব্যঞ্জন করেন। মহিমা এখন বুঝেছি, স্বামী, জয় নেমিনাথ স্বামী।
শ্লোক 5
আপনার মস্তকে তিনটি ছত্র শোভা পায়, আপনার মস্তকে তিনটি ছত্র শোভা পায়। ধ্যানরত মুনিগণ ধ্যানী স্বামী, জয় নেমিনাথ স্বামী।
শ্লোক 6
জয় নেমিনাথ স্বামী, প্রভু জয় নেমিনাথ স্বামী।
শ্লোক 7
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এটি জৈন ধর্মের ২২তম তীর্থঙ্কর ভগবান নেমিনাথের উদ্দেশ্যে রচিত একটি ভক্তিমূলক ভজন। নেমিনাথকে জ্ঞান ও মুক্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে পূজা করা হয়। এই ভজনটি সাধারণত জৈন মন্দিরে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়, যেখানে ভক্তরা প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে তার মহিমা গান করে। ভজনের ভাষা সহজ ও সরল, যা সকলের কাছে বোধগম্য।
আপনি কি জানেন?
নেমিনাথ স্বামী
হলেন জৈন ধর্মের ২২তম তীর্থঙ্কর এবং ভগবান কৃষ্ণের চাচাতো ভাই। ‘সমবশরণ’ হল একটি বিশেষ ধর্মসভা যেখানে তীর্থঙ্কররা নির্বাণের আগে ধর্মোপদেশ দেন। ভজনে বর্ণিত দৃশ্যটি সেই পবিত্র সভাকে নির্দেশ করে।
তিন ছত্র
(তিনটি ছাতা) তাঁর ত্রিভুবনের (স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল) অধিপতি হওয়ার প্রতীক। জৈন শিল্পকলায় তীর্থঙ্করদের মাথার ওপর এই তিনটি ছাতা আঁকা হয়, যা সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব বোঝায়।
যক্ষ-যক্ষিণী
হলেন জৈন ধর্মের রক্ষাকর্তা দেবদেবী। প্রতিটি তীর্থঙ্করের নির্দিষ্ট যক্ষ ও যক্ষিণী থাকেন—নেমিনাথ স্বামীর যক্ষিণী হলেন অম্বিকা দেবী, যিনি ভক্তদের বিপদ থেকে রক্ষা করেন। ভজনে তাঁদের চামর (পাখা) ঢোলাতে দেখা যায়।
ভব দধি তারক
অর্থ ‘সংসার-সাগর পার করান’—নেমিনাথ স্বামীকে মৃত্যু ও পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তিদাতা রূপে স্তব করা হয়েছে। এই ভজনটি জৈন ভক্তরা প্রায় সকালে নিয়মিত গেয়ে থাকেন, যাতে মন শুদ্ধ হয় ও শান্তি লাভ হয়।
জৈনধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
