Bharat Devotion
Embroidered artwork for সত্য বৈষ্ণবের লক্ষণ ও ভক্তিবিনোদের শরণাগতি: Embroidered Om symbol above a brass diya, marigolds and a temple spire at sunrise

সত্য বৈষ্ণবের লক্ষণ ও ভক্তিবিনোদের শরণাগতি

ভজনগৌড়ীয় বৈষ্ণবশ্রী কৃষ্ণ

সত্য বৈষ্ণবের লক্ষণ ও ভক্তিবিনোদের শরণাগতি

এই রচনাটি একটি ভক্তিমূলক গান (ভজন) যেখানে ভক্তিবিনোদ ঠাকুর নিজেকে অতি দীনহীন মনে করে শ্রীকৃষ্ণের চরণে শরণ নিচ্ছেন এবং প্রকৃত বৈষ্ণবের পরিচয় ব্যাখ্যা করছেন।

শ্লোক

কে বৈষ্ণব? হােয, হােয, এ কথা শেইবা কয, সংসারে ছডিযা তাঁর ভাঙ্গিলা সংশয
Ke Vaishnav? Hay, hay, e katha sheiba kay, Sansare chhadiya tanr bhangila sanshay.

শ্লোক 1

কামে লোভে মাতে যাই, কামে হাডি চাণ্ডাল গাই, প্রপঞ্চে বিলীন যার মন আমি বৈষ্ণব-অভিমানে, ডুবিআছি এ সংসারে, ছাডিতে ন পারি বিষয-ধন
Kame lobhe mate yai, kame hadi chandal gai, Prapanche vilin yar man. Ami Vaishnav-abhimane, dubiachi e sansare, Chhadite na pari vishay-dhan.

শ্লোক 2

কৃষ্ণ-পদ-ছাযা-আশা, ছোডি' বিষয-অভিলাষা, ভজে সদা শ্রী-কৃষ্ণ-চরণ তাঁর দাসে দাসে হই, এবে এই বাঞ্ছা করই, তৃণাধম করহ চরণ
Krishna-pada-chhaya-asha, chhodi' vishay-abhilasha, Bhaje sada Shri-Krishna-charan. Tanr dase dase hai, eve ei vanchha karai, Trinadham karaha charan.

শ্লোক 3

অভিমান শূন্য হই, বন্ধুহীন, দীন হই, সবে দযা করহ আমায এবে এই দীন-হীন, ভকতিবিনোদ ক্ষীণ, চরণে শরণ মাঁগে ভায
Abhiman shunya hai, bandhuhin, din hai, Sabe daya karaha amay. Eve ei din-hin, Bhakativinod kshin, Charane sharan mange bhay.

শ্লোক 4

Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)

Auspicious Day

বুধবার, বৃহস্পতিবার ও একাদশী

Best Time (Muhurta)

ব্রাহ্ম মুহূর্ত অথবা সন্ধ্যাবেলা

Sacred Offerings

তুলসী পাতা, মাখন-মিছরি ও হলুদ ফুল

Spiritual Benefits (Phalashruti)
  • পরম ভক্তি, চিত্তের আনন্দ ও সর্বপ্রকার উদ্বেগ থেকে মুক্তি

প্রেক্ষাপট

এই ভজনটি গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান আচার্য শ্রী ভক্তিবিনোদ ঠাকুর রচিত। এটি সাধারণত ভক্তরা সকালে বা সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত ধ্যানে অথবা সংকীর্তনে গেয়ে থাকেন। এখানে একজন সত্যিকারের বৈষ্ণবের লক্ষণ ও নম্রতার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

এই পাঠ সম্পর্কে

রচয়িতা: Bhaktivinoda Thakur

আপনি কি জানেন?

রচয়িতা

এই পদটি শ্রী ভক্তিবিনোদ ঠাকুর (১৮৩৮–১৯১৪) রচিত ‘কেন বৈষ্ণব?’ গানের অংশ। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট গৌড়ীয় বৈষ্ণব আচার্য ও লেখক, যাঁর রচনা বাংলা ভক্তিগীতির ধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

প্রসঙ্গ

পদটির মূল প্রশ্ন—‘কে বৈষ্ণব?’—উত্তরে ভক্তিবিনোদ দেখিয়েছেন, প্রকৃত বৈষ্ণব কাম-লোভে মত্ত নন, বরং কৃষ্ণপদাশ্রয়ে সংসারের মায়া ত্যাগ করেন। এটি গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের ‘তৃণাদপি সুনীচেন’ (ঘাসের চেয়েও নম্র) আদর্শের সরল ব্যাখ্যা।

ভাষা ও ছন্দ

পদটি বাংলা ও ব্রজবুলির মিশ্রণে রচিত, যেখানে ‘হাॅয়’, ‘ছাড়িয়া’ প্রভৃতি আঞ্চলিক রূপ ব্যবহার করে ভক্তের অন্তরঙ্গ স্বর ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছন্দটি ‘পয়ার’ ও ‘ত্রিপদী’র মিশ্রণে গীতধর্মী, যা সহজেই কীর্তনে গাওয়া যায়।

আত্মসমালোচনার গভীরতা

দ্বিতীয় স্তবকে ভক্তিবিনোদ নিজেকে ‘বৈষ্ণব-অভিমানে ডুবিআছি’ বলে স্বীকার করেছেন—অর্থাৎ, তিনি নিজেকে বৈষ্ণব ভেবে অহংকারে আচ্ছন্ন হয়েছেন। এই আত্ম-উন্মোচন ভক্তির পথে অহংকার ত্যাগের গুরুত্বকে চিহ্নিত করে।

শরণাগতির মর্ম

শেষ স্তবকে ‘অভিমান শূন্য’, ‘বন্ধুহীন’, ‘দীন’ হয়ে ভক্তিবিনোদ সকলের কাছে দয়া প্রার্থনা করেন। এটি ‘শরণাগতি’র চরম রূপ—যেখানে ভক্ত নিজেকে তৃণাধম জ্ঞান করে কেবল কৃষ্ণপদে আশ্রয় চান।

Krishnaর সম্পূর্ণ স্তোত্র ও প্রার্থনা

Krishna

Krishnaর সব দেখুন →

হিন্দুধর্ম থেকে আরও

সব দেখুন