সত্য বৈষ্ণবের লক্ষণ ও ভক্তিবিনোদের শরণাগতি
এই রচনাটি একটি ভক্তিমূলক গান (ভজন) যেখানে ভক্তিবিনোদ ঠাকুর নিজেকে অতি দীনহীন মনে করে শ্রীকৃষ্ণের চরণে শরণ নিচ্ছেন এবং প্রকৃত বৈষ্ণবের পরিচয় ব্যাখ্যা করছেন।
শ্লোক
কে বৈষ্ণব? হয়, হয়, এই কথা সেই কয়, যিনি সংসার ছেড়ে তাঁর সংশয় ভেঙে ফেলেছেন।
শ্লোক 1
আমি কাম ও লোভে মত্ত হই, কামের বশে হাড়ি ও চাণ্ডালের মতো হই, আমার মন প্রপঞ্চে লীন। আমি বৈষ্ণব-অভিমানে সংসারে নিমজ্জিত, বিষয়-ধন ত্যাগ করতে অক্ষম।
শ্লোক 2
কৃষ্ণপদের ছায়ার আশা ও বিষয়-অভিলাষা ত্যাগ করে আমি সদা শ্রীকৃষ্ণের চরণ ভজি। আমি তাঁর দাসের দাস হই, এবং এখন এই বাঞ্ছা করি—আমাকে তৃণাধম করে তোমার চরণে স্থান দাও।
শ্লোক 3
আমি অভিমানশূন্য, বন্ধুহীন, দীন হই। সবাই আমায় দয়া কর। এখন এই দীন-হীন ভকতিবিনোদ ক্ষীণ, ভাই, তোমার চরণে শরণ মাগে।
শ্লোক 4
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
বুধবার, বৃহস্পতিবার ও একাদশী
ব্রাহ্ম মুহূর্ত অথবা সন্ধ্যাবেলা
তুলসী পাতা, মাখন-মিছরি ও হলুদ ফুল
- পরম ভক্তি, চিত্তের আনন্দ ও সর্বপ্রকার উদ্বেগ থেকে মুক্তি
প্রেক্ষাপট
এই ভজনটি গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান আচার্য শ্রী ভক্তিবিনোদ ঠাকুর রচিত। এটি সাধারণত ভক্তরা সকালে বা সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত ধ্যানে অথবা সংকীর্তনে গেয়ে থাকেন। এখানে একজন সত্যিকারের বৈষ্ণবের লক্ষণ ও নম্রতার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।
এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Bhaktivinoda Thakur
Bhaktivinoda Thakur-এর আরও
গৌড়ীয় বৈষ্ণব থেকে আরও
আপনি কি জানেন?
রচয়িতা
এই পদটি শ্রী ভক্তিবিনোদ ঠাকুর (১৮৩৮–১৯১৪) রচিত ‘কেন বৈষ্ণব?’ গানের অংশ। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট গৌড়ীয় বৈষ্ণব আচার্য ও লেখক, যাঁর রচনা বাংলা ভক্তিগীতির ধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
প্রসঙ্গ
পদটির মূল প্রশ্ন—‘কে বৈষ্ণব?’—উত্তরে ভক্তিবিনোদ দেখিয়েছেন, প্রকৃত বৈষ্ণব কাম-লোভে মত্ত নন, বরং কৃষ্ণপদাশ্রয়ে সংসারের মায়া ত্যাগ করেন। এটি গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের ‘তৃণাদপি সুনীচেন’ (ঘাসের চেয়েও নম্র) আদর্শের সরল ব্যাখ্যা।
ভাষা ও ছন্দ
পদটি বাংলা ও ব্রজবুলির মিশ্রণে রচিত, যেখানে ‘হাॅয়’, ‘ছাড়িয়া’ প্রভৃতি আঞ্চলিক রূপ ব্যবহার করে ভক্তের অন্তরঙ্গ স্বর ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছন্দটি ‘পয়ার’ ও ‘ত্রিপদী’র মিশ্রণে গীতধর্মী, যা সহজেই কীর্তনে গাওয়া যায়।
আত্মসমালোচনার গভীরতা
দ্বিতীয় স্তবকে ভক্তিবিনোদ নিজেকে ‘বৈষ্ণব-অভিমানে ডুবিআছি’ বলে স্বীকার করেছেন—অর্থাৎ, তিনি নিজেকে বৈষ্ণব ভেবে অহংকারে আচ্ছন্ন হয়েছেন। এই আত্ম-উন্মোচন ভক্তির পথে অহংকার ত্যাগের গুরুত্বকে চিহ্নিত করে।
শরণাগতির মর্ম
শেষ স্তবকে ‘অভিমান শূন্য’, ‘বন্ধুহীন’, ‘দীন’ হয়ে ভক্তিবিনোদ সকলের কাছে দয়া প্রার্থনা করেন। এটি ‘শরণাগতি’র চরম রূপ—যেখানে ভক্ত নিজেকে তৃণাধম জ্ঞান করে কেবল কৃষ্ণপদে আশ্রয় চান।
Krishna
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
