হে রাম ভজন
এটি একটি ভক্তিমূলক গান যেখানে ঈশ্বরকে 'রাম' নামে সম্বোধন করে বলা হচ্ছে যে জগতে কেবল তাঁর নামই সত্য। তিনি মা, বাবা, সব কিছু—সবকিছুর ভেতরে ও বাইরে বিরাজমান।
শ্লোক
হে রাম, হে রাম জগতে সত্য তোমার নাম। হে রাম, হে রাম।
শ্লোক 1
তুমিই মাতা, তুমিই পিতা। তুমিই মাতা, তুমিই পিতা। তুমিই তো রাধার শ্যাম। হে রাম, হে রাম।
শ্লোক 2
তুমি অন্তর্যামী, সকলের স্বামী। তুমি অন্তর্যামী, সকলের স্বামী। তোমার চরণে চারধাম। হে রাম, হে রাম।
শ্লোক 3
তুমিই বিগড়াও, তুমিই সাজাও। তুমিই বিগড়াও, তুমিই সাজাও। এই জগতের সমস্ত কাজ। হে রাম, হে রাম।
শ্লোক 4
তুমিই জগদাতা, বিশ্ববিধাতা। তুমিই জগদাতা, বিশ্ববিধাতা। তুমিই সকাল, তুমিই সন্ধ্যা। হে রাম, হে রাম।
শ্লোক 5
হে রাম, হে রাম জগতে সত্য তোমার নাম। হে রাম, হে রাম।
শ্লোক 6
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
বুধবার, বৃহস্পতিবার ও একাদশী
ব্রাহ্ম মুহূর্ত অথবা সন্ধ্যাবেলা
তুলসী পাতা, মাখন-মিছরি ও হলুদ ফুল
- পরম ভক্তি, চিত্তের আনন্দ ও সর্বপ্রকার উদ্বেগ থেকে মুক্তি
প্রেক্ষাপট
এটি একটি সরল ও ভক্তিমূলক ভজন যা উত্তর ভারতের ভক্তি ঐতিহ্যের অংশ। 'রাম' নামের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে এই ভজন ভগবানের প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও বিশ্বাস প্রকাশ করে। 'হে রাম, হে রাম' ধ্বনিটি কীর্তন বা গোষ্ঠীগানরূপে ব্যবহৃত হয়, যেখানে ভক্তরা একসঙ্গে গেয়ে ঈশ্বরের স্তব করে। এটি সাধারণত প্রার্থনা সভা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়, তবে কোনো নির্দিষ্ট লেখক বা নির্দিষ্ট তারিখকে দায়ী করা হয় না।
আপনি কি জানেন?
সরল ভক্তিগীতি
এই ভজনটি অত্যন্ত সরল ও পুনরাবৃত্তিমূলক, যা মুখস্থ করা সহজ। প্রতিটি স্তবকের শেষে ‘হে রাম, হে রাম’ ধ্বনিটি একটি রেফ্রেন হিসেবে কাজ করে, যা ভক্তের মনকে একাগ্র করে।
রাম ও কৃষ্ণের সমন্বয়
তৃতীয় স্তবকে ‘রাধা কা শ্যাম’ বলে কৃষ্ণের উল্লেখ রয়েছে, অথচ পুরো ভজনটি রামকে উদ্দেশ্য করে। এটি উত্তর ভারতের ভক্তি আন্দোলনের একটি বৈশিষ্ট্য—যেখানে রাম ও কৃষ্ণকে একই পরম সত্তার রূপ হিসেবে দেখা হয়।
অন্তর্যামী ও চারধাম
দ্বিতীয় স্তবকে রামকে ‘অন্তর্যামী’ (সবার অন্তরে অবস্থিত) এবং ‘সবকা স্বামী’ বলা হয়েছে। আর ‘চারো ধাম’ বলতে হিন্দুধর্মের চারটি প্রধান তীর্থস্থান—বদ্রীনাথ, দ্বারকা, জগন্নাথপুরী ও রামেশ্বরম—কে বোঝানো হয়েছে, যা ভগবানের চরণে স্থিত বলে মানা হয়।
করুণা ও নিয়ন্ত্রণ
চতুর্থ স্তবকে বলা হয়েছে ‘তু হি বিগড়ে, তু হি সবারে’—অর্থাৎ তিনিই ভাঙেন এবং গড়েন। এটি ভক্তের আত্মসমর্পণের ভাব ফুটিয়ে তোলে, যেখানে ঈশ্বরের ইচ্ছাকেই সর্বোত্তম বলে মেনে নেওয়া হয়।
নামের মাহাত্ম্য
প্রথম ও শেষ স্তবকে ‘জগ মে সাচো তেরো নাম’ কথাটি বারবার বলা হয়েছে। ভক্তি আন্দোলনে নাম-প্রতিপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা—ঈশ্বরের নামই জগতে সত্য ও পরম শরণ।
