হরি সুন্দর নন্দ মুকুন্দা ভজন
এটি একটি ভজন বা ভক্তিমূলক গান যা ভগবান কৃষ্ণের বিভিন্ন নাম ও গুণাবলীর পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ ও স্তব করে। গানটিতে কৃষ্ণের শৈশবের লীলা, যেমন মাখন চুরি, গোপীদের সাথে রাসলীলা, বাঁশি বাজানো এবং গিরিধারি রূপের বর্ণনা আছে।
শ্লোক
প্রভু হরি সুন্দর নন্দপুত্র মুকুন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 1
প্রভু হরি সুন্দর নন্দপুত্র মুকুন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 2
প্রভু হরি কেশব; প্রভু হরি গোবিন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 3
প্রভু হরি কেশব; প্রভু হরি গোবিন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 4
প্রভু হরি সুন্দর নন্দপুত্র মুকুন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 5
প্রভু হরি কেশব; প্রভু হরি গোবিন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 6
প্রভু হরি কেশব; প্রভু হরি গোবিন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 7
প্রভু হরি সুন্দর নন্দপুত্র মুকুন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 8
তিনি বনমালী, মুরলীধারী, গোবর্ধন গিরিধারী।
শ্লোক 9
তিনি বনমালী, মুরলীধারী, গোবর্ধন গিরিধারী; তিনি প্রতিদিন মাখন চুরি করেন এবং গোপীদের মন হরণ করেন।
শ্লোক 10
এসো, গাও, হে গোকুলের প্রিয়; এসো হে কান্হা, গোকুলের প্রিয়।
শ্লোক 11
এসো, নাচো, রাস রচনা করো; গাও, নাচো, রাস রচনা করো।
শ্লোক 12
প্রভু হরি সুন্দর নন্দপুত্র মুকুন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 13
প্রভু হরি কেশব; প্রভু হরি গোবিন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 14
প্রভু হরি কেশব; প্রভু হরি গোবিন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 15
প্রভু হরি সুন্দর নন্দপুত্র মুকুন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 16
হে ময়ূরপুচ্ছের মুকুটধারী গিরিধারী কান্হা, পীতাম্বরধারী।
শ্লোক 17
হে ময়ূরপুচ্ছের মুকুটধারী গিরিধারী কান্হা, পীতাম্বরধারী; তিনি গোপীদের সঙ্গে রাস রচনা করেন, মোহন মুরলীধারী।
শ্লোক 18
এসো, এসো, হে মোহন গিরিধারী; এসো হে কান্হা, হে কৃষ্ণ মুরারি।
শ্লোক 19
এসো, নাচো, রাস রচনা করো; গাও, নাচো, রাস রচনা করো।
শ্লোক 20
প্রভু হরি সুন্দর নন্দপুত্র মুকুন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 21
প্রভু হরি কেশব; প্রভু হরি গোবিন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 22
প্রভু হরি কেশব; প্রভু হরি গোবিন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 23
প্রভু হরি সুন্দর নন্দপুত্র মুকুন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 24
প্রভু হরি সুন্দর নন্দপুত্র মুকুন্দ; প্রভু হরি নারায়ণ; প্রভু হরি ওঁ-স্বরূপ।
শ্লোক 25
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
বুধবার, বৃহস্পতিবার ও একাদশী
ব্রাহ্ম মুহূর্ত অথবা সন্ধ্যাবেলা
তুলসী পাতা, মাখন-মিছরি ও হলুদ ফুল
- পরম ভক্তি, চিত্তের আনন্দ ও সর্বপ্রকার উদ্বেগ থেকে মুক্তি
প্রেক্ষাপট
এই ভজনটি ভারতের ভক্তিমূলক পরম্পরার অংশ, বিশেষ করে কৃষ্ণ ভক্তির ধারায় প্রচলিত। এটি সাধারণত সকালে বা সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সঙ্গীত বা কীর্তনের সময় গাওয়া হয়। গানটির কোনো নির্দিষ্ট রচয়িতা বা সময়কাল জানা যায় না, তবে এটি ভগবান কৃষ্ণের নাম-জপ এবং তাঁর মহিমা কীর্তনের একটি সহজ ও জনপ্রিয় রূপ।
আপনি কি জানেন?
নামজপের মাধুর্য
এই ভজনটি মূলত ভগবান কৃষ্ণের বিভিন্ন নাম ও রূপের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ভক্তের মনকে একাগ্র করে। 'হরি', 'সুন্দর নন্দ মুকুন্দ', 'নারায়ণ', 'কেশব', 'গোবিন্দ' - এই নামগুলোর প্রত্যেকটিই কৃষ্ণের কোনো না কোনো বিশেষ গুণ বা লীলার স্মারক। যেমন 'হরি' অর্থ যিনি পাপ ও দুঃখ হরণ করেন, 'মুকুন্দ' অর্থ যিনি মুক্তি দান করেন।
গোপালের লীলা বন্দনা
ভজনের পরের অংশে কৃষ্ণের শৈশব ও কৈশোরের লীলার সরাসরি উল্লেখ আছে - 'বনমালী' (বনপুষ্পের মালা যিনি ধারণ করেন), 'মুরলীধারী' (বাঁশি বাদক), 'গোবর্ধন গিরিধারী' (গোবর্ধন পর্বত যিনি তুলে ধরেছিলেন), 'মাখন চোর' এবং 'গোপী মন হারী'। এই ভাবে ভজনটি শ্রীকৃষ্ণের সর্বজনীন পরিচয় থেকে শুরু করে তাঁর ঘনিষ্ঠ লীলা বৃত্তান্তে প্রবেশ করে।
রাসলীলা ও নৃত্যের আহ্বান
'আও রে গাও রে গোকুল কে প্যারি' এবং 'নাচো রে রাস রচায়ো রে' পংক্তিগুলো ভক্তকে কৃষ্ণের রাসলীলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। রাসলীলা কেবল নৃত্য নয়, এটি ভগবানের সাথে প্রেমের পরম মিলনের প্রতীক। এই অংশটিতে কৃষ্ণকে 'মোহন' (মনমুগ্ধকারী) এবং 'পীতাম্বরধারী' (হলুদ বস্ত্র পরিহিত) বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
সংগঠন ও পরিবেশন রীতি
ভজনের কাঠামোটি একটি ঐতিহ্যবাহী 'হরি নাম' বা 'নাম সঙ্কীর্তন' এর নমুনা। প্রথমে সরল নাম পুনরাবৃত্তি, তারপর মাঝে মাঝে কৃষ্ণের গুণ ও লীলার বর্ণনা এবং শেষে পুনরায় নামে ফিরে যাওয়া। এই ধরনের ভজন সাধারণত দলবদ্ধভাবে গাওয়া হয়, যেখানে একজন প্রধান গায়ক একটি পংক্তি গাইলে অন্যরা ধ্বনি বা প্রতিধ্বনি দিয়ে উত্তর দেয়, যা ভক্তির আবহ সৃষ্টি করে।
পৌরাণিক প্রসঙ্গ
'গোবর্ধন গিরিধারী' অংশটি ভাগবত পুরাণের একটি বিখ্যাত কাহিনীকে নির্দেশ করে। ব্রজবাসী ইন্দ্রের পূজা বন্ধ করে গোবর্ধন পর্বতের পূজা শুরু করলে ক্রুদ্ধ ইন্দ্র প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বজ্রপাত করেন। তখন কৃষ্ণ তাঁর কনিষ্ঠা আঙুলে গোবর্ধন পর্বত তুলে ধরে সবাইকে রক্ষা করেন। এই ঘটনা কৃষ্ণের অসীম শক্তি ও ভক্তরক্ষার প্রতীক।
Krishna
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
