সীতা রাম সীতা রাম কহিয়ে
যেমন রাখেন রাম
রামের প্রতি আত্মসমর্পণের একটি ভজন: ‘সীতা রাম’ জপ করো এবং রাম যেভাবে রাখেন সেভাবেই সন্তুষ্ট থাকো (‘যেমন রাখেন রাম’)।
শ্লোক
সীতা রাম সীতা রাম সীতারাম বলো, যেভাবে রাখেন রাম সেভাবেই থাকো।
শ্লোক 1
মুখে রাম নাম, হাতে রামের সেবা; তুমি একা নও, প্রিয়, রাম তোমার সঙ্গে আছেন। বিধির বিধান জেনে হানি-লাভ সহ্য করো, যেভাবে রাখেন রাম সেভাবেই থাকো।
শ্লোক 2
অভিমান করলে সম্মান পাবে না; প্রিয়, তাই হবে যা শ্রীরামজির ভালো লাগে। ফল-আশা ত্যাগ করে শুভ কাজ করতেই থাকো, যেভাবে রাখেন রাম সেভাবেই থাকো।
শ্লোক 3
জীবনের ডোর দীনানাথের হাতে সঁপে দাও; মহলে রাখেন কিংবা কুটিরে বাস দেন— নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ জানিয়ে রাম রাম বলো, যেভাবে রাখেন রাম সেভাবেই থাকো।
শ্লোক 4
আশা একটাই রামজীর কাছে, দ্বিতীয় আশা ছেড়ে দাও; সম্পর্ক একটাই রামজীর সাথে, দ্বিতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করো। সাধুসঙ্গ ও রামরঙে অঙ্গে অঙ্গে রঞ্জিত হও, যেভাবে রাখেন রাম সেভাবেই থাকো।
শ্লোক 5
সীতা রাম সীতা রাম সীতারাম বলো, যেভাবে রাখেন রাম সেভাবেই থাকো।
শ্লোক 6
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই ভজনটি রামভক্তির (ভগবান রামের প্রতি ভক্তি) বৃহত্তর ঐতিহ্যের অংশ, যা বিশেষত উত্তর ভারতে প্রবল। এটি প্রায়শই কীর্তনে ও ভক্তিমূলক সমাবেশে গাওয়া হয়, এবং ধ্যান ও মানসিক পুনরাবৃত্তি (জপ) রূপে ব্যবহৃত হয়। সঠিক রচয়িতা নিশ্চিত নয়, তবে এটি তুলসীদাসের মতো সাধকদের চেতনা প্রতিফলিত করে, যাঁরা ঈশ্বরের পরিকল্পনার প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের উপর জোর দিয়েছেন। এর আত্মসমর্পণের ভাব তুলসীদাসের রামচরিতমানসের চেতনার প্রতিধ্বনি করে, তবে ভজনটি নিজে ওই গ্রন্থের কোনো পঙ্ক্তি নয়, এবং এর রচয়িতা নথিভুক্ত নন।
আপনি কি জানেন?
গানের মূলমন্ত্র
এই ভজনটির মূল বাণী হলো ‘জাহি বিধি রাখে রাম তাহি বিধি রহিয়ে’ – অর্থাৎ রাম যেভাবে রাখেন, সেভাবেই থাকতে হবে। এটি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয় – সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি সবকিছুকে ঈশ্বরের ইচ্ছা হিসেবে মেনে নেওয়া।
‘সীতা রাম’ নামের গুরুত্ব
ভজনটি শুরু ও শেষ হয়েছে ‘সীতা রাম সীতা রাম সীতারাম কহিয়ে’ দিয়ে। ‘সীতা রাম’ নামটি হিন্দু ভক্তি পরম্পরায় একটি অত্যন্ত প্রিয় ও শক্তিশালী মন্ত্র – এটি ভগবান রাম ও তাঁর পত্নী সীতার যুগল-মন্ত্র, যা ভক্তকে সরাসরি ঈশ্বরের সাথে যুক্ত করে।
প্রাসাদ নাকি কুটির
তৃতীয় পঙ্ক্তিতে বলা হয়েছে, ‘মহলো মে রাখে চাহে ঝোঁপড়ী মে বাস দে’ – রাম যেন তাঁকে প্রাসাদে বা কুটিরে – যেখানেই রাখেন, তাতে আপত্তি নেই। এটি শেখায় যে প্রকৃত ভক্ত বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তে ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।
অহংকার ত্যাগের শিক্ষা
দ্বিতীয় পঙ্ক্তিতে বলা হয়েছে, ‘কিয়া অভিমান তো ফির মান নহী পায়েগা’ – অহংকার করলে সম্মান পাওয়া যাবে না। ভক্তিমার্গে অহংকারী মন কখনোই ঈশ্বরের কৃপা লাভ করতে পারে না, তাই বিনয় ও নম্রতাই একমাত্র পথ।
সাধু-সঙ্গ ও রাম-রঙ
শেষ পঙ্ক্তিতে বলা হয়েছে, ‘সাধু সঙ্গ রাম রঙ অঙ্গ অঙ্গ রঙিয়ে’ – সৎ মানুষের সঙ্গ ও রামের প্রেমে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে রাঙিয়ে ফেলতে হবে। এই ভজনটি শুধু মন্ত্র জপ নয়, বরং সৎসঙ্গ ও রামের প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসার উপর জোর দেয়।
Rama
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
