শ্রী হনুমান চালীসা
Episode 1 of 13: Hanuman Chalisa. —
শ্রী হনুমান চালীসা
এটি একটি ভক্তিমূলক স্তোত্র যা হনুমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে। এতে হনুমানের শক্তি, জ্ঞান, রামের প্রতি ভক্তি এবং ভক্তদের রক্ষা করার ক্ষমতার বর্ণনা রয়েছে। সাধারণত বিপদ থেকে মুক্তি পেতে ও মনোবল বাড়াতে এটি পাঠ করা হয়।
শ্লোক
মঙ্গলাচরণ (দোহা)
চালীসা পাঠের পূর্বে গুরু বন্দনা ও মঙ্গলাচরণ দোহা।
গুরুর পদ্মপাদরেণু দিয়ে আমার মনরূপ আয়নাকে পরিষ্কার করে, আমি রঘুকুলশ্রেষ্ঠ রামের নির্মল যশ বর্ণনা করছি, যা ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ এই চারটি ফল প্রদান করে।
শ্লোক Dohā 1
আমার শরীর বুদ্ধিহীন জেনে আমি পবনকুমার হনুমানের স্মরণ করি। আমাকে বল, বুদ্ধি ও বিদ্যা দান করো এবং আমার সমস্ত ক্লেশ ও বিকার দূর করো।
শ্লোক Dohā 2
চালীসা (৪০টি চৌপাই)
প্রভুর অপার মহিমা, বল ও করুণার গুণকীর্তনকারী মূল ৪০টি চৌপাই।
জ্ঞান এবং গুণের সাগর হনুমানের জয়। তিন ভুবন আলোকিতকারী বানররাজের জয়।
শ্লোক 1
তিনি প্রভু রামের দিব্য দূত, অতুলনীয় বলের ধাম, এবং অঞ্জনির পুত্র ও পবনের পুত্র নামে পরিচিত।
শ্লোক 2
তিনি অত্যন্ত বীর, পরাক্রমশালী এবং বজ্রের মতো কঠিন শরীরের অধিকারী। তিনি কুমতি দূর করে সুমতির সঙ্গী হন।
শ্লোক 3
সোনালী বর্ণের দীপ্তিময়, সুন্দর বস্ত্রে সজ্জিত। কানে কুণ্ডল ও কোঁকড়া চুলে শোভিত এই দিব্য রূপ মনোমুগ্ধকর।
শ্লোক 4
তাঁর হাতে বজ্র ও ধ্বজা শোভিত; তাঁর কাঁধে মুঞ্জ ঘাসের পবিত্র জ্ঞানেয়ু শোভিত।
শ্লোক 5
তিনি যিনি শিবের পুত্র এবং কেশরীর নন্দন, তাঁর তেজ ও প্রতাপ সমগ্র বিশ্ব দ্বারা বন্দিত।
শ্লোক 6
যে ব্যক্তি বিদ্যাবান, গুণী এবং অত্যন্ত চতুর, তিনি শ্রীরামের কাজ সম্পাদন করতে সর্বদা আতুর থাকেন।
শ্লোক 7
যে ভক্ত প্রভুর চরিত্র শুনতে রস পান করে, তার মনে রাম, লক্ষ্মণ ও সীতা বিরাজ করেন।
শ্লোক 8
সূক্ষ্ম রূপ ধারণ করে সীতাকে দর্শন দিয়েছিলেন, আর ভয়ংকর রূপ ধারণ করে লঙ্কা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে ভগবান হনুমানের কোমল ভক্তি আর প্রচণ্ড শক্তির অপূর্ব সমন্বয় প্রকাশিত হয়েছে।
শ্লোক 9
ভয়ংকর ভীম রূপ ধারণ করে অসুরদের সংহার করেছিলেন এবং প্রভু রামচন্দ্রের সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন করেছিলেন, যা তাঁর অটল ভক্তি ও অপার শক্তির পরিচয় দেয়।
শ্লোক 10
সঞ্জীবনী এনেয়ে এনেয়ে এনেয়ে এনেয়ে এনেয়ে এনেয়ে এনেয়ে এনেয়ে আনি লক্ষ্মণকে বাঁচিয়ে, শ্রীরামচন্দ্র আনন্দে বুকুতে জড়িয়ে ধরলেন।
শ্লোক 11
রঘুপতি (শ্রীরাম) তোমার খুব প্রশংসা করেছেন। তুমি আমার প্রিয়, ভরতের সমান ভাই।
শ্লোক 12
সহস্র মুখ বিশিষ্ট শেষনাগ তোমার যশ গান করেন। এই বলে শ্রীপতি লক্ষ্মীপতি তোমাকে কণ্ঠে জড়িয়ে ধরেন।
শ্লোক 13
এই দিব্য সভায় সনকাদি ঋষি, ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেব ঋষি, নারদ, সরস্বতী দেবী এবং আদিশেষ—সকলেই ভক্তিভাবে একত্রিত হয়েছেন।
শ্লোক 14
যম, কুবের, দিগপালগণ—যেখানে তাঁরা সীমিত, সেখানে কবি ও পণ্ডিতেরা কি বলতে পারেন? রামের মহিমা বর্ণনাতীত।
শ্লোক 15
তুমি সুগ্ৰীৱের উপকার করেছিলে। রামের সাথে মিলিয়ে রাজপদ দান করেছিলে।
শ্লোক 16
তোমার মন্ত্র বিভীষণ মেনে নিলেন, লঙ্কেশ্বর হলেন, সারা জগৎ জানল।
শ্লোক 17
সূর্য লক্ষ কোটি মাইল দূরে থাকলেও, হনুমান তাঁর শিশুসুলভ ভক্তিতে সেটিকে মিষ্টি ফল ভেবে ধরে ফেললেন।
শ্লোক 18
প্রভুর মুদ্রিকা মুখে নিয়ে মহাসমুদ্র পেরিয়ে গেলেন, এতে আশ্চর্যের কিছুই নেই।
শ্লোক 19
জগতের যে সকল দুরূহ কাজ, তোমার অনুগ্রহে তা সহজ হয়ে যায়।
শ্লোক 20
রামের দরজায় তুমি রক্ষক। তোমার অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নেই।
শ্লোক 21
তোমার আশ্রয়েই সমস্ত সুখ লাভ হয়। তুমি রক্ষক, তাই কারও ভয় নেই।
শ্লোক 22
আপনি নিজেই নিজের তেজ সামলান; আপনার হাঁকে তিন লোক কেঁপে ওঠে।
শ্লোক 23
ভূত-পিশাচ কাছে আসে না, যখন মহাবীর নাম উচ্চারণ করা হয়।
শ্লোক 24
নিয়মিত হনুমানের বীর নাম জপ করলে সমস্ত রোগ এবং পীড়া দূর হয়।
শ্লোক 25
হনুমান সংকট থেকে উদ্ধার করেন। যে ব্যক্তি মন, কর্ম ও বাক্যে তাঁর ধ্যান করে।
শ্লোক 26
সব তপস্বীর উপরে রাম রাজা, এবং আপনি তাদের সকল কাজ সম্পন্ন করেছেন।
শ্লোক 27
যে কেউ যেকোনো মনের ইচ্ছা নিয়ে আসে, সে জীবনের অসীম ফল লাভ করে।
শ্লোক 28
চারি যুগেই তোমার প্রতাপ জগৎজুড়ে বিখ্যাত; তা দিয়ে বিশ্ব আলোকিত।
শ্লোক 29
আপনি সাধু-সন্তদের রক্ষক। হে অসুরনিকন্দন, আপনি রামের দুলাল।
শ্লোক 30
অষ্ট সিদ্ধি ও নব নিধির দাত্রী। এমন বর দেন জনকী মাতা।
শ্লোক 31
রাম নামই অমৃত, যা আপনার কাছে আছে। সর্বদা রঘুপতি শ্রীরামের ভক্ত হয়ে থাকুন।
শ্লোক 32
ও রাম, তোমার ভজন করে তোমাকে পাওয়া যায়, জন্ম জন্মান্তরের দুখ বিস্মৃত হয়।
শ্লোক 33
জীবনের শেষ মুহূর্তে, ভগবান রামের চিরন্তন নগরীতে পৌঁছানো ভক্তের জন্মই হরিভক্ত হিসেবে গণ্য হয়।
শ্লোক 34
অন্য দেবতাদের প্রতি মন দিও না। হনুমানের সেবা করলেই সমস্ত সুখ পাওয়া যায়।
শ্লোক 35
সকল সংকট কেটে যায়, সব পীড়া মিটে যায়, যে হনুমান, সেই বলবীরকে স্মরণ করে।
শ্লোক 36
জয় জয় জয় হনুমান গোসাঁই। গুরু দেবের মতো কৃপা করো।
শ্লোক 37
যে ব্যক্তি সাতবার পাঠ করে, সে বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে মহাসুখ লাভ করে।
শ্লোক 38
যে ব্যক্তি এই হনুমান চালিশা পাঠ করেন, তিনি সকল প্রকার সিদ্ধি লাভ করেন এবং গৌরীসা (শিব) এই সত্যের সাক্ষী হন।
শ্লোক 39
তুলসীদাস সর্বদা হরির সেবক। হে নাথ, আমার হৃদয়ে আপনার আবাস স্থাপন করুন।
শ্লোক 40
সমাপন দোহা
প্রভু যেন হৃদয়ে চিরকাল বাস করেন সেই প্রার্থনা ও চালীসার সমাপ্তি দোহা।
ও পবনপুত্র, তুমি সংকট হরণকারী, মঙ্গলমূর্তি। তুমি রাম, লক্ষ্মণ, সীতাসহ আমার হৃদয়ে বাস করো। তুমি দেবতাদের রাজা।
শ্লোক Dohā
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
মঙ্গলবার ও শনিবার
সকালে পূজার সময় অথবা সন্ধ্যায়
সিন্দুর, চামেলি তেল, তুলসী মালা ও বোঁদে লাড্ডু
- সাহস, শক্তি এবং সর্বপ্রকার ভয় থেকে মুক্তি
প্রেক্ষাপট
এটি হনুমান চালীসা নামে পরিচিত একটি ভক্তিমূলক স্তোত্র। এটি ষোড়শ শতাব্দীর কবি ও সাধক তুলসীদাস রচিত ‘রামচরিতমানস’ ধারার অংশ। স্তোত্রটি ৪০টি চরণে (চালীসা অর্থ ‘চল্লিশ’) হনুমানের গুণ, শক্তি ও রামের প্রতি ভক্তির বর্ণনা দেয়। বাংলা ও হিন্দি অঞ্চলে এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় এবং মঙ্গলবার ও শনিবার নিয়মিত পাঠ করা হয়—বিশ্বাস করা হয় যে এটি বিপদ দূর করে, রোগ নিরাময় করে এবং ভক্তদের জীবনে সুখ ও শান্তি আনে।
কথা ও মাহাত্ম্য
ঐতিহ্য বলে, গোস্বামী তুলসীদাস দিল্লিতে চল্লিশ দিনের বন্দিদশায় হনুমান চালিসা রচনা করেছিলেন। তিনি অলৌকিক কিছু দেখাতে অস্বীকার করে কেবল প্রভু শ্রীরামের উপর ভরসা রেখেছিলেন।
সম্পূর্ণ কথা পড়ুন →এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Goswami Tulsidas · Medieval Bhakti Poet-Saint · 16th century, Awadh & Varanasi (North India)
A Sanskrit and Awadhi poet-saint best known for the Ramcharitmanas, his Awadhi retelling of the Ramayana. Tradition holds he faced years of hardship and wandering before settling in Varanasi, where he composed most of his other major works, including the Hanuman Chalisa and Vinaya Patrika, as devotional offerings to Rama and Hanuman.
আপনি কি জানেন?
রচয়িতা ও ভাষা
হনুমান চালিশা রচনা করেছেন ষোড়শ শতকের মহান কবি ও সাধক তুলসীদাস। এটি অবধি ভাষায় লেখা, যা হিন্দির একটি প্রাচীন উপভাষা। 'চালিশা' শব্দের অর্থ ৪০টি শ্লোক; তবে এতে শুরুতে দুটি দোহা ও শেষে একটি দোহা মিলিয়ে মোট ৪৩টি পংক্তি রয়েছে।
গঠন ও মূল বক্তব্য
প্রথম দোহায় গুরু ও পবনপুত্রের প্রার্থনা, দ্বিতীয় দোহায় হনুমানের কাছে বুদ্ধি-বল প্রার্থনা। এরপর ৪০টি চৌপাই (চার লাইনের কবিতা) হনুমানের গুণ, রূপ, শক্তি ও রামায়ণের নানা ঘটনা বর্ণনা করে। শেষ দোহায় হনুমানকে রাম-লক্ষ্মণ-সীতাসহ ভক্তের হৃদয়ে বাস করতে বলা হয়েছে।
রামায়ণের ঘটনাবলি
চালিশায় হনুমানের অনেক লীলার উল্লেখ আছে—যেমন লঙ্কাদহন, সঞ্জীবনী লতা আনা, সীতাকে রামের আংটি দেওয়া, সুগ্রীব ও বিভীষণকে সাহায্য করা। প্রতিটি ঘটনার মাধ্যমে হনুমানের অপরিমেয় শক্তি, বুদ্ধি ও ভক্তির পরিচয় মেলে।
পাঠের আধ্যাত্মিক ফল
বিশ্বাস করা হয় যে নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করলে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়, সংকট দূর হয়, রোগ-শোক নাশ হয় এবং জ্ঞান ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। অনেক ভক্ত মঙ্গলবার ও শনিবার বিশেষভাবে এটি পাঠ করেন।
জনপ্রিয়তা ও প্রভাব
হনুমান চালিশা ভারতের সর্বত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। সহজ ও সুরেলা ভাষায় রচিত হওয়ায় সব বয়সের মানুষ সহজেই আবৃত্তি করতে পারেন। আধুনিক কালে গান, অডিও-ভিডিও ও সামাজিক মাধ্যমে এর প্রচার ব্যাপক, যা হিন্দু ভক্তির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।
Hanuman
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত