সন্ত-কবিদের রচিত ভক্তি ও জ্ঞানের দোহা।
কবীরের এই বিখ্যাত দোহা শেখায় যে ঈশ্বরের আগে গুরুকেই প্রথম প্রণাম করতে হয়, কারণ গুরুর কৃপাতেই ঈশ্বর প্রকাশিত হন।
এটি একটি বিখ্যাত ভক্তিমূলক দোঁহা (দুই লাইনের পদ) যা গুরু ও গোবিন্দের (ঈশ্বর) মধ্যে গুরুর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে। এখানে ভক্ত বলছেন, গুরু ও গোবিন্দ উভয়েই সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে তিনি গুরুর পায়ে প্রণাম করবেন, কারণ গুরুই তাঁকে গোবিন্দের দর্শন দিয়েছেন।
কবীরের নামে প্রচলিত এই দোহা শেখায়: অন্যের মধ্যে মন্দ খুঁজতে গিয়ে কাউকে মন্দ পাওয়া যায়নি; নিজের হৃদয়ে খুঁজতে গিয়ে নিজের চেয়ে মন্দ কাউকে দেখা যায়নি।
এই পদটি আমাদের শেখায় কীভাবে নম্র ও মধুর ভাষায় কথা বলতে হয়, যাতে নিজের অহংকার দূর হয় এবং অন্যকেও শান্তি দেওয়া যায়।
এটি কবীরের একটি বিখ্যাত উপদেশমূলক পদ, যা আমাদের আজকের কাজ আজই করার তাগিদ দেয়। সময়ের ক্ষণস্থায়িত্ব ও মৃত্যুর অনিবার্যতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে এটি সৎকর্মে বিলম্ব না করার শিক্ষা দেয়।
কবীরের এই দোহা শেখায় যে আধ্যাত্মিক বিকাশ নিজের সময়েই ঘটে, যেমন গাছে ফল ধরে তার ঋতু এলে।
কবীরের বিখ্যাত দোহা (দোহাবলী ২১০): পুঁথি পড়তে পড়তে জগৎ ক্লান্ত হয়েছে, কিন্তু প্রেমের ঢাই আখর যিনি পড়েন তিনিই প্রকৃত পণ্ডিত।
চলমান জাঁতা দেখে কবীর কেঁদে উঠেছিলেন: জগতের দ্বৈততার পেষণে কেউ অক্ষত থাকে না। নশ্বরতা নিয়ে কবীর দোহাবলীর একটি দোহা।
এটি কবীরের একটি বিখ্যাত দোঁহা, যেখানে তিনি কোনো ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব বা শত্রুতা না রেখে সকলের মঙ্গল কামনা করার কথা বলেছেন।
কবীরের দোহা: দেহ বারবার মরে, কিন্তু কামনা ও তৃষ্ণা কখনো মরে না। মায়া, অস্থির মন ও ত্যাগের সাধনা নিয়ে কবীর দোহাবলীর একটি দোহা।