যে মৃত্যু কখনো মরে না
কামনা ও দেহ নিয়ে কবীর
কবীরের দোহা: দেহ বারবার মরে, কিন্তু কামনা ও তৃষ্ণা কখনো মরে না। মায়া, অস্থির মন ও ত্যাগের সাধনা নিয়ে কবীর দোহাবলীর একটি দোহা।
শ্লোক
মায়া মরে নি, মন মরে নি, বারবার মরে গেছে শরীর। আশা-তৃষ্ণা মরল না, এই কথা বলে গেছেন দাস কবীর।
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই দোহাটি কবীর দোহাবলীতে ১৭ নং দোহা হিসেবে লিপিবদ্ধ (কবিতাকোশ, পৃষ্ঠা ১)। দোহাবলীতে পাঠটি 'মায়া মরী ন মন মরা, মর-মর গয়ে শরীর' আছে, যা এখানে দেওয়া পাঠের কাছাকাছি রূপ। কবীর (পঞ্চদশ শতাব্দী) বারাণসীর তাঁতি-কবি এবং নির্গুণ সন্ত ছিলেন, যাঁর কঠোর ও বিরোধাভাসী দোহা জাগতিক আসক্তিকে প্রশ্ন করে। সৎসঙ্গে এটি এই স্মরণ করাতে গাওয়া ও পাঠ করা হয় যে দেহ চলে যায় কিন্তু কামনা থেকে যায়, এবং মনের বন্ধন শিথিল করলেই মুক্তি আসে। কবীরের সাখী ও পদের মানক সংকলন, যেমন বীজক ও কবীর গ্রন্থাবলী, এই ঐতিহ্যের বৃহত্তর পাঠভিত্তি।
এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Sant Kabir · Medieval Nirguna Bhakti Poet-Saint · 15th century, Varanasi
A mystic poet and weaver by trade from Varanasi, whose blunt, image-rich couplets (dohas) rejected ritualism and caste distinctions in favor of direct, formless (nirguna) devotion. His verses are revered across Hindu, Sikh (many appear in the Guru Granth Sahib), and Sufi-influenced traditions alike.
আপনি কি জানেন?
রচয়িতা ও প্রেক্ষাপট
এই পঙ্ক্তি পঞ্চদশ শতাব্দীর রহস্যবাদী কবি কবীরের রচনা বলে গণ্য, যিনি বারাণসীর তাঁতি ছিলেন এবং যাঁর ভক্তিকাব্য হিন্দু ও ইসলামি ঐতিহ্যের মধ্যে সেতু রচনা করেছে। এটি কবীর দোহাবলীতে ১৭ নং দোহা হিসেবে লিপিবদ্ধ।
কাব্যরূপ
এই পঙ্ক্তি একটি দোহা, হিন্দি ও ব্রজভাষায় সংক্ষিপ্ত দ্বিপদী, যার প্রতি পঙ্ক্তিতে নির্দিষ্ট ১৩ মাত্রা। দোহা মৌখিক প্রচারের জন্য রচিত, যা কবীরের উপদেশকে সহজে মুখস্থ ও আবৃত্তির উপযোগী করে তোলে।
মূল শিক্ষা
কবীর নশ্বর দেহের সঙ্গে অবিনশ্বর মন, মায়া ও কামনাকে তুলনা করেন। তিনি শেখান যে দৈহিক মৃত্যুই শেষ নয়; অহংকার ও আসক্তি বিলীন হলেই প্রকৃত মুক্তি আসে।
দার্শনিক পটভূমি
'মায়া' হিন্দু চিন্তায় জাগতিক জগতের মায়াময়, ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতিকে বোঝায়। কবীর এটি ব্যবহার করে জাগতিক কামনার সমালোচনা করেন এবং সাধককে বাহ্যিক রূপের ওপারে শাশ্বতের দিকে তাকাতে আহ্বান জানান।
স্বাক্ষর-পঙ্ক্তি
সমাপ্তির পঙ্ক্তি, 'কহি গয়ে দাস কবীর' (এই বলেন সেবক কবীর), তাঁর বিনয়কে প্রতিফলিত করে। কবীর প্রায়ই নিজেকে দাস (সেবক) বলে উল্লেখ করতেন, এটা বোঝাতে যে প্রজ্ঞা আসে আত্মসমর্পণ থেকে, অহংকার থেকে নয়।
Sant Kabir
কবীর পন্থ থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
