শ্রী বৃষভানুসুতার আরতি (রাধা)
রাধার প্রশংসায় একটি ভক্তিমূলক আরতি—কৃষ্ণের প্রিয়তমা, তাঁর সৌন্দর্য, প্রজ্ঞা ও করুণার জন্য, জগতের দিব্য জননী রূপে।
শ্লোক
শ্রী বৃষভানু-নন্দিনী রাধার আরতি—যিনি মোহময়ী মমতার মধুর মূর্তি, সেই মূর্তির আরতি।
শ্লোক 1
তিনি ত্রিবিধ তাপে পূর্ণ সংসার-বন্ধন নাশ করেন, নির্মল বিবেক ও বৈরাগ্যের বিকাশ ঘটান। তিনি পবিত্র প্রভুর চরণে প্রেমের প্রকাশ করেন—সেই সুন্দরতম ছবির, সেই সৌন্দর্যের আরতি। ॥ শ্রী বৃষভানু-নন্দিনীর আরতি..॥
শ্লোক 2
তিনি মুনিদের মনকে মোহিত করেন, মধুর ও মনোহর মূর্তিতে শোভিত। তিনি অবিরল প্রেমের অমিয় রস দোহন করেন, এবং সখী ললিতার অতি প্রিয়—তাঁর আরতি। ॥ শ্রী বৃষভানু-নন্দিনীর আরতি..॥
শ্লোক 3
তিনি সৎ মুনিদের দ্বারা সর্বদা সেবিত, দিব্য গুণসমূহের অমিত আকর। তিনি কৃষ্ণের তনু ও মনকে আকর্ষণ করেন—তাঁর তুলনাহীন সম্পদ, সেই সমতার আরতি। ॥ শ্রী বৃষভানু-নন্দিনীর আরতি..॥
শ্লোক 4
তিনি কৃষ্ণের আত্মাস্বরূপা, কৃষ্ণের সহচরী, চিন্ময় বৃন্দাবন-বিপিনে বিহারিণী। তিনি জগতের জননী, জগতের দুঃখ নিবারণকারিণী—আদি ও অনাদি শক্তির বিভূতির আরতি। ॥ শ্রী বৃষভানু-নন্দিনীর আরতি..॥
শ্লোক 5
শ্রী বৃষভানু-নন্দিনী রাধার আরতি—যিনি মোহময়ী মমতার মধুর মূর্তি, সেই মূর্তির আরতি।
শ্লোক 6
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
আরতি হল একটি হিন্দু ভক্তিমূলক আচার, যেখানে প্রশংসাগীতির সঙ্গে দেবতার সম্মুখে প্রদীপ আন্দোলিত করা হয়; প্রায়ই সূর্যোদয়, সূর্যাস্তের সময়, বা কোনো উৎসব-অনুষ্ঠানের অংশরূপে। এই আরতি রাধাকে সম্মান জানায়, যিনি কৃষ্ণের দিব্য প্রিয়তমা; এখানে তাঁকে বৃষভানুসুতা (রাজা বৃষভানুর কন্যা) বলা হয়েছে—ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের কৃষ্ণজন্মখণ্ডের ১৭তম অধ্যায়ে উল্লিখিত তাঁর ষোলোটি পবিত্র নামের একটি। এটি রাধা ও কৃষ্ণকেন্দ্রিক বৃহত্তর বৈষ্ণব ভক্তি-ঐতিহ্যের অন্তর্গত, এবং মন্দির ও গৃহে সন্ধ্যা উপাসনার সময় ঐতিহ্যগতভাবে গাওয়া হয়। এই স্তোত্রের সঠিক রচয়িতা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না, তবে এটি উত্তর ভারতের ব্রজ অঞ্চলের শতাব্দীপ্রাচীন ভক্তি-কাব্যের সমৃদ্ধ ধারার অংশ।
আপনি কি জানেন?
প্রথম পরিচয়
'বৃষভানুসুতা' অর্থাৎ বৃষভানুর কন্যা — এটি শ্রীরাধিকার পরিচয়। এই আরতি রাধার মাহাত্ম্য বর্ণনা করে, তাঁকে 'মঞ্জুল মূর্তি মোহন মমতা' (মোহনীয় মূর্তির মমতা) বলে স্তব করে।
তিন প্রকার তাপ
প্রথম স্তবকে 'ত্রিবিধ তাপযুত সংসৃতি নাশিনি' বলা হয়েছে। হিন্দু দর্শনে ত্রিবিধ তাপ হলো আধ্যাত্মিক (মানসিক), আধিভৌতিক (জড়জগতের) ও আধিদৈবিক (দৈবজনিত) কষ্ট। রাধা এই তিন প্রকার কষ্ট দূর করেন বলে বর্ণিত।
'মোহন' শব্দের কৌশল
দ্বিতীয় স্তবকে 'মুনি মণ মোহন মোহন মোহনী' — এখানে 'মোহন' তিনবার পুনরুক্তি হয়েছে। প্রথম 'মোহন' অর্থ মোহিতকারী (কৃষ্ণ), দ্বিতীয় 'মোহন' অর্থ মোহিনী (রাধা), তৃতীয় 'মোহনী' অর্থ রাধার মোহনীয় শক্তি। এটি একটি কাব্যিক অলংকার যা রাধার আকর্ষণশক্তির তীব্রতা বোঝায়।
ললিতার প্রসঙ্গ
দ্বিতীয় স্তবকের শেষে 'প্রিয় অতি সদা সখী ললিতা কী' — উল্লেখ আছে যে রাধা সর্বদা তাঁর প্রিয় সখী ললিতার কাছে অতিশয় প্রিয়। ললিতা ব্রজের গোপী ও রাধার প্রধান সহচরী, যিনি রাধা-কৃষ্ণের লীলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
চরম শক্তি
চতুর্থ স্তবকে রাধাকে 'কৃষ্ণাত্মিকা, কৃষ্ণ সহচারিণী, জগজ্জননী, আদি অনাদি শক্তি' বলা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি কৃষ্ণের আত্মারূপা, কৃষ্ণের সঙ্গিনী, জগতের মাতা এবং অনাদি (শুরুহীন) শক্তি। এটি তাঁকে সর্বোচ্চ দেবীস্বরূপে প্রতিষ্ঠিত করে।
Radha
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
