অসতো মা সদ্গময় মন্ত্র
এটি একটি প্রাচীন সংস্কৃত প্রার্থনা যা উপনিষদ থেকে নেওয়া হয়েছে। এই মন্ত্রে আমরা অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানে, অন্ধকার থেকে আলোতে এবং মৃত্যু থেকে অমৃতের দিকে পরিচালিত হওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।
শ্লোক
ওঁ, অসত্য থেকে আমাকে সত্যে নিয়ে যাও।
শ্লোক 1
অন্ধকার থেকে আমাকে আলোতে নিয়ে যাও।
শ্লোক 2
মৃত্যু থেকে আমাকে অমৃততে নিয়ে যাও।
শ্লোক 3
ওঁ, শান্তি, শান্তি, শান্তি।
শ্লোক 4
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই মন্ত্রটি বৃহদারণ্যক উপনিষদের অন্তর্গত, যা হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক গ্রন্থ। এটি সাধারণত ধ্যানের শুরুতে বা শেষে, অথবা শুভ অনুষ্ঠানের সময় পাঠ করা হয়। অনেকে শিক্ষার শুরুতে এই মন্ত্রটি উচ্চারণ করে জ্ঞান ও শান্তির জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা করে।
আপনি কি জানেন?
উৎস
এই মন্ত্রটি বৃহদারণ্যক উপনিষদ (১.৩.২৮) থেকে নেওয়া। এটি প্রাচীনতম উপনিষদগুলির একটি, যা খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ অব্দের কাছাকাছি রচিত বলে ধরা হয়।
গঠন
মন্ত্রটির তিনটি অংশ—‘অসতো মা সদ্গময়’, ‘তমসো মা জ্যোতির্গময়’, ‘মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়’—এবং শেষে তিনবার ‘শান্তি’। প্রতিটি অংশ আধ্যাত্মিক অগ্রগতির এক একটি স্তর বোঝায়: মিথ্যা থেকে সত্য, অন্ধকার থেকে আলো, মৃত্যু থেকে অমরত্ব।
অর্থ
‘অসৎ’ অর্থ মিথ্যা বা অবাস্তব, ‘সৎ’ অর্থ সত্য। ‘তমস্’ অর্থ অন্ধকার (অজ্ঞান), ‘জ্যোতি’ অর্থ আলো (জ্ঞান)। ‘মৃত্যু’ অর্থ মরণশীলতা, ‘অমৃত’ অর্থ অমরত্ব। মন্ত্রটি ঈশ্বরের কাছে পথপ্রদর্শনের প্রার্থনা।
প্রয়োগ
এটি একটি শান্তি মন্ত্র যা পাঠ শুরু ও শেষে বা অধ্যয়নের সময় উচ্চারিত হয়। যোগ ও ধ্যানেও এটি জপ করা হয়। তিনবার ‘শান্তি’ বলার অর্থ তিন প্রকার ক্লেশ—আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক ও আদিদৈবিক—শমনের প্রার্থনা।
মাহাত্ম্য
এই মন্ত্রটি হিন্দুধর্মের সর্বাধিক পরিচিত প্রার্থনাগুলির একটি। এর সরল অথচ গভীর অর্থ সার্বজনীন, তাই এটি বৈদিক ঐতিহ্যের বাইরেও আধুনিক আধ্যাত্মিক চর্চায় ব্যাপকভাবে গৃহীত।
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
