সর্বজনীন শান্তি প্রার্থনা
এটি একটি সংস্কৃত শান্তি মন্ত্র, যেখানে সবার সুখ, স্বাস্থ্য, মঙ্গল এবং দুঃখমুক্তির প্রার্থনা করা হয়েছে। এটি সাধারণত প্রার্থনা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শেষে পাঠ করা হয়, যাতে সবার মনে শান্তি ও কল্যাণের ভাব জাগে।
শ্লোক
সকলেই সুখী হোক, সকলেই নীরোগ হোক।
শ্লোক 1
সকলেই মঙ্গল দর্শন করুন, কেউ যেন দুঃখভাগী না হয়।
শ্লোক 2
ওঁ শান্তি, শান্তি, শান্তি।
শ্লোক 3
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই মন্ত্রটি বৈদিক ঐতিহ্যের অন্তর্গত একটি শান্তি প্রার্থনা, যা সাধারণত উপনিষদ বা বেদের অংশ হিসেবে পরিচিত। এটি প্রার্থনা, ধ্যান বা কোনো শুভ অনুষ্ঠানের শেষে পাঠ করা হয়, যাতে সবার মঙ্গল ও শান্তি কামনা করা যায়। এর কোনো নির্দিষ্ট রচয়িতা বা সঠিক কাল জানা যায় না, তবে এটি হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত।
আপনি কি জানেন?
উৎস
এটি একটি বৈদিক শান্তি মন্ত্র — বেদের অন্তর্গত তৈত্তিরীয় উপনিষদের সঙ্গে যুক্ত। হাজার হাজার বছর ধরে এই মন্ত্রটি শান্তি ও মঙ্গল কামনায় উচ্চারিত হয়ে আসছে, এবং এটি হিন্দু ঐতিহ্যের সর্বাধিক পরিচিত সার্বজনীন প্রার্থনাগুলির একটি।
অর্থ
মন্ত্রটির প্রতিটি শব্দই এক একটি প্রার্থনা — "সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ" অর্থাৎ সকলেই সুখী হোন; "সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ" অর্থাৎ সকলেই রোগমুক্ত হোন; "সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্তু" অর্থাৎ সকলেই মঙ্গল দেখুন; "মা কশ্চিদ্ দুঃখভাগ্ ভবেত্" অর্থাৎ কেউ যেন দুঃখের ভাগী না হন।
তিনটি শান্তি
শেষে তিনবার "শান্তিঃ" উচ্চারণের অর্থ — তিন স্তরের শান্তি: শারীরিক ও পার্থিব (অধিভৌতিক), দৈবিক (অধিদৈবিক) এবং আধ্যাত্মিক (অধ্যাত্মিক) জগতের শান্তি। অর্থাৎ শরীর, মন ও আত্মা — সব স্তরে শান্তি কামনা করা হয়।
সার্বজনীনতা
এই মন্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য — এতে নিজের জন্য কিছু চাওয়া হয় না। "সর্বে" (সকল) শব্দটি দিয়ে সমগ্র বিশ্বের মঙ্গল কামনা করা হয় — জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি প্রাণীর জন্য।
ব্যবহার
আধুনিক কালে যোগব্যায়াম ক্লাসের শুরু ও শেষে, আধ্যাত্মিক সমাবেশে, বিবাহ এবং বৈদিক অনুষ্ঠানে এই মন্ত্রটি সর্বাধিক প্রচলিত শান্তি-পাঠ। পাশ্চাত্য যোগ-সংস্কৃতিতেও এটি ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে।
ওঁ-র তাৎপর্য
মন্ত্রটি "ওঁ" দিয়ে শুরু এবং "ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ" দিয়ে শেষ — হিন্দু ঐতিহ্যে ওঁ হল আদি ধ্বনি, সমগ্র সৃষ্টির মূল কম্পন। এই পবিত্র ধ্বনি দিয়ে শুরু ও শেষ করলে প্রার্থনাটি পূর্ণতা লাভ করে।
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
