Bharat Devotion
Embroidered artwork for শান্তি মন্ত্র: Embroidered Om symbol above a brass diya, marigolds and a temple spire at sunrise

শান্তি মন্ত্র

শান্তি মন্ত্র

এটি একটি পবিত্র শান্তি প্রার্থনা, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য পারস্পরিক সুরক্ষা, পুষ্টি, শক্তি, জ্ঞান এবং ভালোবাসা প্রার্থনা করে। এটি পাঠের শুরুতে বা অধ্যয়নের আগে আবৃত্তি করা হয়।

শ্লোক

ওঁ সহ নাববতু সহ নৌ ভুনক্তু সহ বীর্যং করবাবহৈ তেজস্বি নাবধীতমস্তু মা বিদ্বিষাবহৈ ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ
Om Saha Naavavatu Saha Nau Bhunaktu Saha Veeryam Karavaavahai Tejasvi Naavadheetamastu Maa Vidvishaavahai Om Shaantih Shaantih Shaantih

Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)

Auspicious Day

প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে

Best Time (Muhurta)

ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা

Sacred Offerings

ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য

Spiritual Benefits (Phalashruti)
  • মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি

প্রেক্ষাপট

এই মন্ত্রটি তৈত্তিরীয় উপনিষদ থেকে নেওয়া হয়েছে, যা কৃষ্ণ যজুর্বেদের অংশ। এটি ঐতিহ্যগতভাবে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বা আধ্যাত্মিক অনুশীলনের শুরুতে আবৃত্তি করা হয়, যাতে পরিবেশ শান্ত ও শুভ হয় এবং মনোনিবেশে বাধা না আসে।

আপনি কি জানেন?

উৎস ও প্রেক্ষাপট

এই শান্তিমন্ত্রটি তৈত্তিরীয় উপনিষদ্-এর একদম শুরুতে পাওয়া যায়, যা কৃষ্ণ যজুর্বেদের অন্তর্গত একটি প্রাচীন দার্শনিক গ্রন্থ। বৈদিক অধ্যয়ন বা পাঠ শুরু করার আগে এই মন্ত্রটি উচ্চারণ করার রীতি রয়েছে, যাতে শিক্ষা সফল ও কল্যাণকর হয়।

গুরু-শিষ্যের যৌথ যাত্রা

মন্ত্রে বারবার 'নৌ' (আমরা দুজন) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে — এটি গুরু ও শিষ্য উভয়কেই বোঝায়। এখানে শিক্ষা একতরফা নয়, বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রদ্ধা ও প্রচেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ প্রয়াস।

তিনটি শান্তির তাৎপর্য

শেষে তিনবার 'শান্তিঃ' উচ্চারণের একটি গভীর অর্থ রয়েছে — এটি তিনটি স্তরের শান্তির কামনা: আধিভৌতিক (বাহ্য জগৎ ও প্রকৃতি থেকে), আধিদৈবিক (দৈব বা প্রাকৃতিক শক্তি থেকে), এবং আধ্যাত্মিক (নিজের অন্তরের কষ্ট ও অশান্তি থেকে) মুক্তি।

'তেজস্বি' — জ্ঞানের আলো

'তেজস্বি নাবধীতমস্তু' অংশে প্রার্থনা করা হয় যে আমাদের অধ্যয়ন যেন তেজস্বী অর্থাৎ উজ্জ্বল, শক্তিমান ও ফলপ্রসূ হয়। এটি কেবল তথ্য বা জ্ঞান অর্জন নয়, বরং সেই জ্ঞান যেন জীবনে আলো ও শক্তি আনে — এই গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।

আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা

আজও ভারতের বহু বিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ শুরুর আগে এই মন্ত্রটি উচ্চারিত হয়। এটি শিক্ষার পবিত্রতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জ্ঞান অর্জনের মহৎ উদ্দেশ্যের একটি চিরন্তন প্রতীক হয়ে আছে।

হিন্দুধর্ম থেকে আরও

সব দেখুন