Bharat Devotion
Embroidered artwork for কিশা গোতমী ও সরিষার দানাঃ মৃত্যুর সর্বজনীনতার শিক্ষা: Embroidered Buddha seated in meditation on a pink lotus, with a golden dharma wheel and a white stupa in the mountains

কিশা গোতমী ও সরিষার দানাঃ মৃত্যুর সর্বজনীনতার শিক্ষা

কিশা গোতমী ও সরিষার দানাঃ মৃত্যুর সর্বজনীনতার শিক্ষা

এই নিবন্ধে কিশা গোতমী—একজন শোকার্ত মা—এর গল্প বর্ণিত হয়েছে, যিনি বুদ্ধের কাছে তার মৃত শিশুকে পুনরুজ্জীবিত করতে অনুরোধ করেছিলেন, এবং বুদ্ধ তাকে একটি সরিষার দানার উপমা দিয়ে মৃত্যুর সর্বজনীনতা ও অনিত্যতা শিখিয়েছিলেন।

কিশা গোতমী নামে এক তরুণী মা ছিলেন। তার একমাত্র পুত্র সন্তানটি মারা যায়। গভীর শোকে ভেঙে পড়ে তিনি শিশুটিকে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান, কাউকে তার ছেলেকে বাঁচাতে বলতে। সবাই তাকে পাগল ভাবত, কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করতে পারল না। একদিন তিনি বুদ্ধের কাছে গেলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বললেন, 'হে প্রভু, আমার ছেলেকে বাঁচান! তাকে আবার জীবিত করুন!' বুদ্ধ তাকে স্নেহের সাথে বললেন, 'ঠিক আছে, আমি তোমার ছেলেকে বাঁচাতে পারি। কিন্তু তুমি আমাকে একটি সরিষার দানা আনতে হবে— এমন একটি বাড়ি থেকে, যেখানে কখনো কোনো মৃত্যু হয়নি।' কিশা গোতমী আশায় উজ্জীবিত হয়ে সরিষার দানা খুঁজতে বেরোলেন। তিনি একের পর এক বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'এ বাড়িতে কি কখনো কেউ মারা যায়নি? যদি তাই হয়, তবে আমাকে একটু সরিষার দানা দিন।' প্রতিটি বাড়ির লোকই বলল, 'আমাদের বাড়িতে অনেক মৃত্যু হয়েছে— পিতা-মাতা, ভাই-বোন, সন্তান।' কেউ কেউ সহানুভূতি দেখিয়ে তাকে সরিষার দানা দিতে চাইল, কিন্তু কিশা গোতমী বুদ্ধের কথা মনে করে শুধু সেই বাড়ি থেকে সরিষা নিতে চাইলেন যেখানে মৃত্যু হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝতে পারলেন, পৃথিবীর সব বাড়িতেই মৃত্যু এসেছে। তার শোকের গভীরতা ধীরে ধীরে কমে গেল, এবং তিনি বুদ্ধের কাছে ফিরে এলেন। বুদ্ধ তাকে বললেন, 'তুমি এখন বুঝতে পেরেছ— মৃত্যু সবার জন্যই আসে। কেউই তার থেকে রেহাই পায় না। তোমার সন্তানের মৃত্যু যেমন দুঃখের, তেমনি অন্যের সন্তান, পিতা-মাতা, প্রিয়জনের মৃত্যুতেও তারা শোকাহত হয়। এই দুঃখ থেকে মুক্তির পথ হলো মৃত্যুর স্বাভাবিকতা ও অনিত্যতা (অস্থায়িত্ব) উপলব্ধি করা।' এই শিক্ষা পেয়ে কিশা গোতমী শান্ত হলেন এবং পরে তিনি বুদ্ধের শিষ্যা হয়ে ধর্মপথে জীবন যাপন করলেন। এই গল্পটি বিভিন্ন বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত আছে, এবং অঞ্চলভেদে বিবরণে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। মূল শিক্ষাটি এক: মৃত্যু সবার জীবনেরই অংশ, এবং এই সত্যকে মেনে নেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত শান্তি।

আপনি কি জানেন?

গল্পের মূল চরিত্র

কিশা গোতমী ছিলেন এক তরুণী মা, যাঁর একমাত্র পুত্র মারা যাওয়ায় তিনি শোকে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েন। বুদ্ধের কাছে সাহায্য চাইলে তিনি তাকে একটি শর্ত দেন—এমন একটি বাড়ি থেকে সরিষার দানা আনতে হবে যেখানে কখনো মৃত্যু হয়নি। এই শর্তই তাকে মৃত্যুর সর্বজনীনতা উপলব্ধি করায়।

সরিষার দানার প্রতীকী অর্থ

সরিষার দানা ছিল প্রাচীন ভারতে অতি সাধারণ একটি গৃহস্থালি উপাদান। বুদ্ধের শর্তটি ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্ভব ছিল—কারণ পৃথিবীর কোনো বাড়িতেই মৃত্যু আসেনি এমন নয়। এই উপমার মাধ্যমে তিনি কিশা গোতমীকে শোকের গভীরতা থেকে বের করে এনে বাস্তবতা দেখান।

শিক্ষার মূল ভিত্তি: অনিত্যতা

বুদ্ধ কিশা গোতমীকে শিখিয়েছিলেন যে মৃত্যু ও ক্ষয়—এগুলোই জীবনের স্বাভাবিক অংশ, যাকে বৌদ্ধধর্মে ‘অনিত্যতা’ বা অস্থায়িত্ব বলা হয়। এই সত্যকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত শান্তি লাভ সম্ভব, শোকের মধ্যে ডুবে থাকা নয়।

কিশা গোতমীর রূপান্তর

সরিষার দানা খুঁজতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন যে প্রতিটি পরিবারই কোনো না কোনো প্রিয়জনকে হারিয়েছে। এই উপলব্ধি তাঁর শোককে প্রশমিত করে এবং তিনি বুদ্ধের শিষ্যা হয়ে ধর্মপথে জীবনযাপন শুরু করেন। তাঁর এই রূপান্তর বৌদ্ধ সাহিত্যে ভক্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বর্ণনা

কিশা গোতমীর এই গল্পটি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের একাধিক শাখায় পাওয়া যায়, যেমন ধম্মপদের টীকা ও থেরীগাথা। অঞ্চলভেদে বিবরণে সামান্য পার্থক্য থাকলেও মূল শিক্ষাটি অপরিবর্তিত: মৃত্যু সবার জীবনেরই অংশ, এবং এই সত্যকে গ্রহণ করাই দুঃখ থেকে মুক্তির পথ।

Buddhaর সম্পূর্ণ স্তোত্র ও প্রার্থনা

Buddha

Buddhaর সব দেখুন →

বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও