Bharat Devotion
Embroidered artwork for অনাথপিণ্ডিক: সোনার মুদ্রায় কেনা জেতবন উদ্যান ও বুদ্ধের প্রতি মহান দান: Embroidered Buddha seated in meditation on a pink lotus, with a golden dharma wheel and a white stupa in the mountains

অনাথপিণ্ডিক

সোনার মুদ্রায় কেনা জেতবন উদ্যান ও বুদ্ধের প্রতি মহান দান

অনাথপিণ্ডিক

সোনার মুদ্রায় কেনা জেতবন উদ্যান ও বুদ্ধের প্রতি মহান দান

এই নিবন্ধে অনাথপিণ্ডিক নামক এক ধনী বণিকের গল্প বলা হয়েছে, যিনি বুদ্ধের জন্য জেতবন উদ্যানটি সোনার মুদ্রা দিয়ে ঢেকে কিনেছিলেন এবং সেখানে একটি বিহার নির্মাণ করেছিলেন — যা দান ও ভক্তির এক মহান উদাহরণ হিসেবে বৌদ্ধ ইতিহাসে স্মরণীয়।

অনাথপিণ্ডিক ছিলেন শ্রাবস্তী নগরের এক ধনী বণিক। তাঁর আসল নাম ছিল সুদত্ত, কিন্তু দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে তিনি এত বেশি দান করতেন যে, লোকেরা তাঁকে 'অনাথপিণ্ডিক' নামে ডাকতে শুরু করে — অর্থাৎ, যিনি অনাথদের (যাদের কেউ নেই) ভাত (পিণ্ড) দেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও উদার, এবং তাঁর ধনসম্পদ তিনি কেবল নিজের জন্য নয়, বরং সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করতেন।

একদিন তিনি রাজগৃহ নগরে গিয়ে বুদ্ধের উপদেশ শোনার সুযোগ পান। বুদ্ধের জ্ঞান ও শান্তিপূর্ণ জীবনদর্শনে তিনি এতটাই মুগ্ধ হন যে, তিনি বুদ্ধের শিষ্য হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বুঝতে পারেন যে, বুদ্ধের শিক্ষা মানুষের দুঃখ দূর করতে পারে, এবং তিনি চান যে, এই শিক্ষা যেন শ্রাবস্তীতেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই তিনি বুদ্ধকে অনুরোধ করেন, যেন তিনি শ্রাবস্তীতে এসে বাস করেন, যাতে সেখানকার মানুষও তাঁর উপদেশ শুনতে পারে।

বুদ্ধ তাঁর অনুরোধে সম্মত হন, কিন্তু শ্রাবস্তীতে থাকার জন্য একটি উপযুক্ত স্থানের প্রয়োজন হয়। অনাথপিণ্ডিক তখন শহরের বাইরে অবস্থিত জেতবন নামক একটি সুন্দর উদ্যানের কথা ভাবেন। এই উদ্যানটি ছিল রাজকুমার জেতের সম্পত্তি। অনাথপিণ্ডিক রাজকুমারের কাছে উদ্যানটি বিক্রি করতে চাইলে, রাজকুমার প্রথমে রাজি হননি। তিনি একটি অসম্ভব শর্ত দেন — তিনি বলেন, যদি অনাথপিণ্ডিক পুরো উদ্যানটি সোনার মুদ্রা দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন, তবেই তিনি উদ্যানটি বিক্রি করবেন।

অনাথপিণ্ডিক এই শর্তে রাজি হন। তিনি তাঁর সমস্ত ধনসম্পদ থেকে সোনার মুদ্রা এনে উদ্যানের মাটিতে বিছিয়ে দিতে শুরু করেন। একের পর এক মুদ্রা রেখে তিনি পুরো উদ্যানটি ঢেকে ফেলেন। কিন্তু শেষ প্রান্তে এসে তাঁর কিছু মুদ্রা কম পড়ে যায়। তখন রাজকুমার জেত এই দৃশ্য দেখে এতটাই বিস্মিত ও মুগ্ধ হন যে, তিনি অনাথপিণ্ডিকের এই মহান দান দেখে নিজেও উদ্যানের সেই অংশটি দান করে দেন। তিনি বলেন, "আমি এই অংশটি নিজে দান করছি, এবং উদ্যানের নাম হবে 'জেতবন' — জেতের উদ্যান।"

এইভাবে অনাথপিণ্ডিক জেতবন উদ্যানটি কিনে সেখানে একটি বিশাল বিহার (মঠ) নির্মাণ করেন। এই বিহারটি বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। বুদ্ধ এখানে বহু বছর কাটিয়েছিলেন এবং এখানেই তিনি তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছিলেন। জেতবন বিহারটি বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে একটি পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত।

অনাথপিণ্ডিকের এই কাহিনী দান ও ভক্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি কেবল অর্থ দিয়েই নয়, বরং নিজের সমস্ত হৃদয় দিয়ে বুদ্ধের শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন। তাঁর এই মহানুভবতা ও ত্যাগের কথা আজও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে প্রেরণার উৎস। কথিত আছে, অনাথপিণ্ডিক মৃত্যুর পর স্বর্গে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কারণ তাঁর এই অপরিমেয় দান ও সৎকর্মের ফল তিনি পেয়েছিলেন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত ধন কেবল অর্থ নয়, বরং দয়া, উদারতা এবং অপরের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা।

আপনি কি জানেন?

নামের গোপন অর্থ

অনাথপিণ্ডিকের আসল নাম ছিল সুদত্ত, কিন্তু দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে ভাত দান করার কারণে তিনি 'অনাথপিণ্ডিক' নামে পরিচিত হন — যার অর্থ 'যিনি অনাথদের (যাদের কেউ নেই) ভাত (পিণ্ড) দেন'। এই নামটি তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে ওঠে।

অসম্ভব শর্ত

রাজকুমার জেত উদ্যান বিক্রি করতে রাজি হননি, তাই তিনি একটি অসম্ভব শর্ত দেন — পুরো উদ্যানটি সোনার মুদ্রা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। অনাথপিণ্ডিক কোনো দ্বিধা না করে নিজের সমস্ত ধন থেকে সোনার মুদ্রা এনে মাটিতে বিছিয়ে দিতে শুরু করেন, যা দেখে রাজকুমার স্তম্ভিত হয়ে যান।

শেষ প্রান্তের অলৌকিক দান

অনাথপিণ্ডিকের মুদ্রা প্রায় শেষ হয়ে এলে উদ্যানের এক প্রান্ত অপরিচ্ছন্ন থেকে যায়। তখন রাজকুমার জেত সেই মহান ত্যাগ দেখে মুগ্ধ হয়ে নিজেই সেই অংশটি দান করে দেন এবং উদ্যানের নাম রাখা হয় 'জেতবন' — অর্থাৎ জেতের উদ্যান।

বুদ্ধের শিক্ষার পবিত্র ভূমি

জেতবন বিহারে বুদ্ধ বহু বছর কাটিয়েছিলেন এবং এখানেই তিনি তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছিলেন। এই বিহারটি বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে একটি পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে ভিক্ষু ও ভক্তরা ধ্যান ও শিক্ষার জন্য সমবেত হতেন।

দানের চিরন্তন ফল

কথিত আছে, অনাথপিণ্ডিক মৃত্যুর পর স্বর্গে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কারণ তাঁর অপরিমেয় দান ও সৎকর্মের ফল তিনি পেয়েছিলেন। তাঁর জীবন শেখায় যে প্রকৃত ধন কেবল অর্থ নয়, বরং দয়া, উদারতা এবং অপরের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা।

Buddhaর সম্পূর্ণ স্তোত্র ও প্রার্থনা

Buddha

Buddhaর সব দেখুন →

বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও