বর্ধমান প্রণাম মন্ত্র
এটি জৈন ধর্মের একটি স্তব, যা ভগবান বর্ধমান (মহাবীর)-কে নমস্কার জানাচ্ছে। তাঁকেই এই শাস্ত্রের প্রবর্তক বলে মনে করা হয়, যা সংসাররূপী সমুদ্র পার হবার উপায় শেখায়।
শ্লোক
বর্ধমানকে নমস্কার, যিনি নির্মমত্বের প্রকাশক। তাঁর দ্বারা প্রণীত এই শাস্ত্র সংসার-সাগর পার হওয়ার তরণী।
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই শ্লোকটি জৈন ভক্তিমূলক সাহিত্যের অংশ, যা চব্বিশতম তীর্থঙ্কর বর্ধমান (মহাবীর)-কে সম্মান জানাতে রচিত। এটি সাধারণত প্রার্থনা বা ধ্যানের সময় আবৃত্তি করা হয়, যাতে ভক্তরা সংসারের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে পথনির্দেশনা চান। জৈন ধর্মে এই স্তবটি নিয়মিত উপাসনা ও উৎসব যেমন পর্যুষণ পর্বে ব্যবহৃত হয়।
আপনি কি জানেন?
শ্রদ্ধার্ঘ্য
এই শ্লোকটি জৈনধর্মের তীর্থঙ্কর বর্ধমান (মহাবীর) কে উদ্দেশ্য করে রচিত, যিনি 'নির্বাণ' বা মোক্ষের পথ দেখিয়েছিলেন।
নির্মমত্বের আলো
'নির্মমত্বপ্রকাশিনি' শব্দটি ইঙ্গিত দেয় যে মহাবীরের শিক্ষার মূল হল 'মমতা' বা আসক্তি ত্যাগ করা, যা জৈন দর্শনের কেন্দ্রীয় ধারণা।
শাস্ত্রের উল্লেখ
'ইদং শাস্ত্রং' বলতে সম্ভবত জৈন আগম সাহিত্য বা মহাবীরের উপদেশমূলক গ্রন্থকে বোঝানো হয়েছে, যা সংসার-সাগর পার হওয়ার নৌকা হিসেবে বিবেচিত।
সংসার-সাগর রূপক
'সংসারার্ণব' অর্থ জন্ম-মৃত্যুর চক্ররূপী মহাসমুদ্র; এই শ্লোকে শাস্ত্রকে সেই সাগর পার করার উপায় বলা হয়েছে, যা ভারতীয় ধর্মসাহিত্যে বহুল ব্যবহৃত একটি চিত্রকল্প।
মহাবীরের পরিচয়
বর্ধমান ছিলেন ২৪তম ও শেষ তীর্থঙ্কর, খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে বিহারের বৈশালী অঞ্চলে জন্মেছিলেন এবং কঠোর তপস্যার পর কৈবল্য (সর্বজ্ঞতা) লাভ করেছিলেন।
Mahavira
জৈনধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
