উষ্ণীষ বিজয়া ধারণী
শুদ্ধি ও দীর্ঘায়ুর মন্ত্র
বুদ্ধের আশীর্বাদ আহ্বান করে চিত্তের শুদ্ধি, বাধা অপসারণ ও জীবনরক্ষার জন্য রচিত একটি মহাযান বৌদ্ধ ধারণী, যা দীর্ঘায়ু ও শুদ্ধির জন্য পাঠ করা হয়।
শ্লোক
ভগবান ত্রৈলোক্যের বিশিষ্ট রাজা তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধকে নমস্কার।
শ্লোক 1
এভাবেই।
শ্লোক 2
ওঁ, বিশুদ্ধ করো, বিশুদ্ধ করো।
শ্লোক 3
হে অসমসম, হে সমস্ত ভাবের আভাসে স্ফুরিত গতি, হে গগনস্বরূপ বিশুদ্ধ স্বভাব।
শ্লোক 4
আমাকে অভিষিক্ত করুন।
শ্লোক 5
সুগতের শ্রেষ্ঠ বচনরূপ অমৃত অভিষেক মহামন্ত্রপদ দ্বারা।
শ্লোক 6
আনয়ন করো, আনয়ন করো।
শ্লোক 7
আয়ু ধারণ করো, ধারণ করো।
শ্লোক 8
শোধন করো, শোধন করো।
শ্লোক 9
হে গগনবিশুদ্ধে, হে উষ্ণীষবিজয়বিশুদ্ধে।
শ্লোক 10
হে সহস্ররশ্মি সঞ্চোদিতা, হে সর্বতথাগত অবলোকিতা, হে ষট্পারমিতা পরিপূরিণী।
শ্লোক 11
হে সর্বতথাগতের হৃদয়াধিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত মহামুদ্রা।
শ্লোক 12
হে বজ্রকায় সংহতবিশুদ্ধে।
শ্লোক 13
হে সর্বাবরণ, অপায় ও দুর্গতিপরিশুদ্ধি প্রতিষিদ্ধে, হে আয়ুঃশুদ্ধে।
শ্লোক 14
সমাহার করো, সমাহার করো, হে আয়ুঃসংহরণে।
শ্লোক 15
হে তথতা ও ভূতকোটির পরিশুদ্ধি।
শ্লোক 16
উদ্বোধিত করো, উদ্বোধিত করো।
শ্লোক 17
হে বুদ্ধে, হে বুদ্ধে।
শ্লোক 18
সম্বোধিত করো, সম্বোধিত করো।
শ্লোক 19
বিশুদ্ধ করো, বিশুদ্ধ করো।
শ্লোক 20
হে সমন্তবুদ্ধাধিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত মহামুদ্রা, স্বাহা।
শ্লোক 21
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এটি উষ্ণীষ বিজয়া ধারণী, একটি বৌদ্ধ ধারণী (রক্ষাকারী শক্তি বহনকারী বর্ণ ও বাক্যাংশের পবিত্র জপ), যা বুদ্ধের মস্তকের উষ্ণীষের (চূড়ার উঁচু অংশ) সঙ্গে যুক্ত। ঐতিহ্যগতভাবে নেতিবাচক কর্ম শুদ্ধ করতে, বিপদ এড়াতে ও আয়ু বাড়াতে এটি পাঠ করা হয়। তিব্বতি ও পূর্ব এশীয় বৌদ্ধ অনুশীলনে এর ব্যাপক ব্যবহার আছে, প্রায়ই নিত্য প্রার্থনার বা প্রয়াত ব্যক্তিদের জন্য আচারের অংশ হিসেবে। এই পাঠটি উষ্ণীষ বিজয় ধারণী সূত্রে (তাইশো ত্রিপিটক, ক্রমিক ৯৬৭–৯৭৪) সংরক্ষিত, যা ৭ম-৮ম শতাব্দী খ্রিস্টাব্দে চীনা ভাষায় অনূদিত হয়েছিল, এবং সাধারণত সংস্কৃতে বা স্থানীয় লিপ্যন্তরে জপ করা হয়।
আপনি কি জানেন?
উষ্ণীষবিজয় ধারণী
এটি বুদ্ধ উষ্ণীষবিজয়ের ধারণী বা মন্ত্র, যা দীর্ঘায়ু ও পুণ্যের জন্য বিখ্যাত। 'উষ্ণীষ' হলো বুদ্ধের মস্তক বা মুকুট, আর 'বিজয়' মানে জয় — একসাথে এর অর্থ 'বিজয়ী মুকুট'।
ত্রৈলোক্যের রাজা
প্রথম লাইনে 'ত্রৈলোক্যপ্রবিশিষ্টস্য রাজ্ঞঃ' বলা হয়েছে — তিন জগতের (কাম, রূপ, অরূপ) শ্রেষ্ঠ রাজা তথাগতকে প্রণাম। এটি বুদ্ধকে সর্বোচ্চ সত্তা হিসেবে সম্বোধন।
পারমিতা ও পূর্ণতা
'ষটপারমিতা' বলতে বৌদ্ধ পথের ছয়টি পূর্ণতা বোঝায় — দান, শীল, ক্ষান্তি, বীর্য, ধ্যান ও প্রজ্ঞা। এই মন্ত্রে সেই ছয়টি পূর্ণতা পূরণের প্রার্থনা আছে।
পুনরাবৃত্তির শক্তি
মন্ত্রে 'বিশোধয়', 'আহার', 'সংধারয়' — এই শব্দগুলো বারবার বলা হয়েছে। বৌদ্ধ ধারণীতে পুনরাবৃত্তি ধ্যানের গভীরতা বাড়ায় এবং মনের অশুদ্ধি দূর করে।
মহামুদ্রা
শেষে 'মহামুদ্রা' শব্দটি এসেছে — এখানে 'মুদ্রা' মানে সীল বা চিহ্ন, যা বুদ্ধত্বের অভিজ্ঞতার গভীর ছাপ বোঝায়। এটি তন্ত্রসাধনার একটি উচ্চ স্তরের প্রতীক।
অভিষেকের তাৎপর্য
'অভিষিঞ্চতু মাম্' অর্থ 'আমাকে স্নান করাও' — এটি জলের মতো পবিত্র জ্ঞান ও আশীর্বাদে স্নাত হওয়ার প্রার্থনা। বৌদ্ধ তন্ত্রে অভিষেক দীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার।
Buddha
বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
