সপ্তশত সম্যকসম্বুদ্ধকে নমস্কার
অসংখ্য বুদ্ধ ও দেবী চুন্দির আবাহনে রচিত সংক্ষিপ্ত মহাযান বৌদ্ধ ধারণী, যা শুদ্ধি, রক্ষা ও কামনাপূরণের জন্য জপ করা হয়।
শ্লোক
আমি সেই সপ্তশত সম্যকসম্বুদ্ধকোটিকে প্রণাম নিবেদন করি।
শ্লোক 1
ওঁ চলে চুলে চুন্দি স্বাহা — অর্থাৎ, হে জ্ঞানরূপিণী, হে চঞ্চলা, হে শুদ্ধা, আমাকে আলোকিত করুন, এই মন্ত্রের মাধ্যমে আমি আত্মসমর্পণ করছি।
শ্লোক 2
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই পাঠ বৃহত্তর বৌদ্ধ ঐতিহ্য থেকে এসেছে, বিশেষভাবে প্রজ্ঞাপারমিতা সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত, যা বহু মহাযান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ে শ্রদ্ধেয়। শেষের মন্ত্রটি প্রায়ই নিত্য অনুশীলন, ধ্যান বা আশীর্বাদ ও স্বচ্ছতা আহ্বানের আচারের অংশ হিসেবে পাঠ করা হয়। এই মন্ত্রটি চুন্দি ধারণী সূত্রে (তাইশো ত্রিপিটক, ক্রমিক ১০৭৭) সংরক্ষিত, যা ৭ম-৮ম শতাব্দী খ্রিস্টাব্দে বজ্রবোধি ও অমোঘবজ্রের মতো আচার্যদের দ্বারা চীনা ভাষায় অনূদিত হয়েছিল।
আপনি কি জানেন?
মহামন্ত্রের সূচনা
এই স্তোত্রের প্রথম লাইনে সাতশো কোটি (৭০০ কোটি) সম্যকসম্বুদ্ধের প্রতি প্রণাম জানানো হয়েছে। বজ্রযান বৌদ্ধ ঐতিহ্যে এই সংখ্যাটি অসীম জ্ঞান ও করুণার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা পাঠকের মনে ভক্তি ও নম্রতার ভাব জাগিয়ে তোলে।
বীজমন্ত্রের শক্তি
দ্বিতীয় লাইনের 'চলে চুলে চুন্দি' শব্দগুলো বীজমন্ত্র বা শক্তিশালী মন্ত্রবীজ হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি শব্দের কম্পন শরীর ও মনকে শুদ্ধ করে এবং নেতিবাচক শক্তি দূর করতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
স্বাহা-র অর্থ
মন্ত্রের শেষে 'স্বাহা' শব্দটি অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার সময় উচ্চারিত হয়, যা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও ভক্তির প্রতীক। এই শব্দটি মন্ত্রটিকে পূর্ণতা দেয় এবং দেবতাকে উৎসর্গ করার ভাব প্রকাশ করে।
বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের প্রভাব
এই স্তোত্রটি বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের একটি অংশ, যেখানে মন্ত্র উচ্চারণ ও দৃশ্যায়নের মাধ্যমে মুক্তি লাভের পথ দেখানো হয়। 'সম্যকসম্বুদ্ধ' শব্দটি বুদ্ধত্বের চূড়ান্ত অবস্থাকে বোঝায়, যা এই মন্ত্রের গভীর আধ্যাত্মিক লক্ষ্যকে নির্দেশ করে।
সংস্কৃত উচ্চারণের গুরুত্ব
এই মন্ত্রে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দের সঠিক উচ্চারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শব্দের কম্পনই মন্ত্রের মূল শক্তি। তাই পাঠ করার সময় ধীরে ও স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে মন্ত্রের পূর্ণ ফল লাভ করা যায়।
Buddha
বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
