সীতাতপত্রা বোধিসত্ত্বের মন্ত্র
বুদ্ধের উষ্ণীষ থেকে জাত শ্বেত ছত্রদেবী সিতাতপত্রার আবাহনে রচিত একটি রক্ষাকারী বৌদ্ধ ধারণী, যা সাধকদের ক্ষতি থেকে আড়াল করে।
শ্লোক
সমস্ত বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বগণকে সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করি।
শ্লোক 1
ওঁ। সকল তথাগতের উষ্ণীষ হতে উদ্ভূতা শ্বেতচ্ছত্রা দেবীকে হূঁ ফট্। হূঁ মম হূঁ নী স্বাহা।
শ্লোক 2
ওঁ। ঋষিগণ কর্তৃক প্রশংসিতা, সকল তথাগতের উষ্ণীষ হতে উদ্ভূতা শ্বেতচ্ছত্রা দেবীকে হূঁ ফট্। হূঁ মম হূঁ নী স্বাহা।
শ্লোক 3
ওঁ। সকল তথাগতের উষ্ণীষ হতে উদ্ভূতা শ্বেতচ্ছত্রা দেবীকে হূঁ ফট্। হূঁ মম হূঁ নী স্বাহা।
শ্লোক 4
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই পাঠটি একটি বৌদ্ধ ধারণী (রক্ষাকারী জপ বা মন্ত্র), যা দেবী সিতাতপত্রার সঙ্গে যুক্ত। 'শ্বেত ছত্র' নামে পরিচিত এই দেবী প্রাণীদের ক্ষতি, ভয় ও নেতিবাচক শক্তি থেকে আশ্রয় দেন। এটি বজ্রযান বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অংশ, বিশেষত তিব্বতি ও নেপালি বৌদ্ধধর্মে এর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ঐতিহ্য অনুযায়ী রক্ষা, শুদ্ধি ও বাধা অপসারণের জন্য, প্রায়ই নিত্য অনুশীলনের অংশ হিসেবে বা বিপদের সময়ে এটি পাঠ করা হয়। শ্লোকগুলিতে সকল বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের শক্তির আবাহন করা হয়, এবং বিশ্বাস করা হয় যে মন্ত্রটি বুদ্ধের উষ্ণীষের (জ্ঞানের প্রতীক মস্তকের উর্ধ্বাংশ) রক্ষাকারী শক্তিকে ধারণ করে। ধারণীটি তিব্বতি কাঞ্জুরের তন্ত্র বিভাগে আর্য-তথাগতোষ্ণীষ-সিতাতপত্রা-অপরাজিতা-মহাপ্রত্যঙ্গিরা-পরমসিদ্ধি-নাম-ধারণী নামে সংরক্ষিত, যার তোহ ক্রমিক ৫৯০; এই পাঠের একটি সংস্কৃত-তিব্বতি সংস্করণ ইন্টারনেট আর্কাইভের বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপি সংগ্রহে রক্ষিত আছে।
আপনি কি জানেন?
উৎস
এটি একটি বৌদ্ধ রক্ষাকবচ বা ধারণী, যা 'সীতাতপত্র' (শ্বেতচ্ছত্র) নামে পরিচিত। এটি মহাযান বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অন্তর্গত এবং মূলত সংস্কৃত ভাষায় রচিত, যা পরবর্তীতে তিব্বতি ও চৈনিক বৌদ্ধ ধর্মে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।
অর্থ
'সীতাতপত্র' শব্দের অর্থ 'শ্বেতচ্ছত্র' বা সাদা ছাতা — যা বুদ্ধের সুরক্ষা ও করুণার প্রতীক। এই মন্ত্রটি পাঠ করলে ভয়, রোগ, বিপদ ও অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
কাঠামো
মন্ত্রটি তিনটি অংশে বিভক্ত — প্রথমে 'নমো' দিয়ে বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বদের প্রণাম, তারপর মূল ধারণী (মন্ত্র) এবং শেষে 'স্বাহা' দিয়ে সমাপ্তি। প্রতিটি পংক্তিতে 'হূঁ ফট্' ও 'হূঁ মম হূঁ নি' বীজমন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে।
বিশ্বাস
এই ধারণীটি পাঠ করলে শুধু ব্যক্তিগত সুরক্ষাই নয়, বরং সমগ্র পরিবার, বাড়ি ও সমাজের কল্যাণ সাধিত হয়। তিব্বতি বৌদ্ধ ঐতিহ্যে এটি 'সীতাতপত্র অপরাজিতা' নামে পরিচিত, যা সকল বাধা ও শত্রুকে পরাজিত করার ক্ষমতা রাখে।
প্রচলন
এই মন্ত্রটি মূলত তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মে অত্যন্ত জনপ্রিয়, যেখানে এটি প্রতিদিনের প্রার্থনা ও ধ্যানের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চৈনিক বৌদ্ধ ধর্মেও এটি 'ফো শুও ফো দিং জুন শেং তুও লুও নি জিং' নামে সংরক্ষিত আছে।
Buddha
বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
