নীলকণ্ঠ ধারণী — বৌদ্ধ ভক্তিমূলক পাঠ
এটি একটি পবিত্র বৌদ্ধ ধারণী (মন্ত্রের মতো পবিত্র শব্দসমষ্টি) যা করুণার বোধিসত্ত্ব আর্য অবলোকিতেশ্বরকে (লোকেশ্বর) সম্বোধন করে। পাঠটি মঙ্গল ও সুরক্ষার জন্য আবৃত্তি করা হয়।
শ্লোক
ত্রিরত্নে নমস্কার। আর্য লোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্ব, মহাসত্ত্ব, মহাকারুণিককে নমস্কার। সর্ব ধৈর্যের সাথে ত্রিশরণ গ্রহণ করি, এই আর্য লোকিতেশ্বরকে নমস্কার, নীলকণ্ঠ, হ্রীঁ, মহাবদিশাম, সর্বার্থ-শুভে অচ্যুত, সর্বভূতের পথে সত্ত্বগণের নাম— যথা—
শ্লোক 1
ওঁ আলোকে, আলোককারী, ক্রতিকরণ, হী মহাবোধিসত্ত্ব। সর্বং সর্বং মলং মলং, মতিম্ মতিম্, হৃদয়ং কুরু কুরু, কর্মং ধুরু ধুরু, বিজয়তে মহাবিজয়তে, ধারা ধারা, ধারিণি রাজা, চল চল, মম বিমলমূর্তে, জিনেবিষ চল, বিষং চল, মনোহৃদয় স্মর, হর হর, কার্মং, তার ম তার, বিমল বিমল, মুক্তে মুক্তে, চর চর, ধারিণি রাজ্ঞী, চলং চলং, মম শুদ্ধং শুদ্ধং, মহামঙ্গল, সত্যে সত্যে, নিমঙ্গল, কুসুমে কুসুমে, বরজনী, জয়াম বসিণী, সুধর্ম মনসি, সুমুখে, মহাসুমুখে, অচ্যুত, মরুত, সুরুত, সিদ্ধযোগী, হৃদয়ে হৃদয়ং, হুর হুর মলং, হুর হুর হর হি, মহাযোজনায় সিদ্ধায় যোগীয়ৈ নমোঽস্তুতে।
শ্লোক 2
আমি সিদ্ধ মন্ত্রপদগুলি সাধন করি, সিদ্ধ যোগিনীর নমস্কার।
শ্লোক 3
নীলকণ্ঠের নমস্কার।
শ্লোক 4
বরাহমুখের নমস্কার।
শ্লোক 5
মহাসিংহমুখের নমস্কার।
শ্লোক 6
সিদ্ধ বিদ্যাধরের নমস্কার।
শ্লোক 7
পদ্মহস্তের নমস্কার।
শ্লোক 8
চক্রহস্তের নমস্কার।
শ্লোক 9
মৃগস্কন্ধরোপণের নমস্কার।
শ্লোক 10
মহালকুটীধরের নমস্কার।
শ্লোক 11
ত্রিরত্নে নমস্কার। আর্য লোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্ব, মহাসত্ত্ব, মহাকারুণিককে নমস্কার।
শ্লোক 12
আমার মন্ত্রপদগুলি সিদ্ধ হোক, নমস্কার, স্বাহা।
শ্লোক 13
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই ধারণীটি মহাযান বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অংশ এবং বিশেষ করে অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্বের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করে। 'নীলকণ্ঠ' অর্থ 'নীলগলা', যা অবলোকিতেশ্বরের একটি রূপকে নির্দেশ করে। ধারণীটি সাধারণত পাপ-পুণ্য শুদ্ধিকরণ, সংকট দূরীকরণ এবং জ্ঞানলাভের পথে সহায়তার জন্য নিয়মিত পাঠ করা হয়। এর সঠিক রচয়িতা বা নির্দিষ্ট সময়কাল অজ্ঞাত, তবে এটি প্রাচীন সংস্কৃত বৌদ্ধ সাহিত্যের অংশ।
আপনি কি জানেন?
ধারণীর পরিচয়
এটি নীলকণ্ঠ ধারণী নামে পরিচিত একটি বৌদ্ধ মন্ত্র, যা মহাযান ও বজ্রযান ঐতিহ্যে অত্যন্ত পবিত্র। ধারণী অর্থ এমন একটি মন্ত্র যা ধারণ করে রাখে ও রক্ষা করে — এটি পাঠ করলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় ও আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়।
কাকে উৎসর্গিত
এই মন্ত্রটি আর্য লোকিতেশ্বর অর্থাৎ অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্বকে উৎসর্গিত, যিনি করুণার প্রতীক। তাঁকে 'মহাকারুণিক' অর্থাৎ মহাকরুণাময় বলে সম্বোধন করা হয়েছে, এবং শুরুতে রত্নত্রয় (বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ)-কে প্রণাম জানানো হয়েছে।
নীলকণ্ঠ নামের অর্থ
'নীলকণ্ঠ' অর্থ নীল গলা — এটি শিবেরও একটি নাম, তবে বৌদ্ধ ধারণীতে এটি অবলোকিতেশ্বরের একটি রূপ। ধারণীতে 'নীলকণ্ঠায় নমঃ' বলে তাঁকে প্রণাম জানানো হয়েছে, যা তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
বিভিন্ন রূপের উল্লেখ
ধারণীতে বরাহমুখ (শুয়োরের মুখ), মহাসিংহমুখ (বড় সিংহের মুখ), পদ্মহস্ত (পদ্মধারী হাত), চক্রহস্ত (চক্রধারী হাত) ইত্যাদি রূপের প্রতি প্রণাম আছে। এগুলি অবলোকিতেশ্বরের বিভিন্ন শক্তিশালী প্রকাশ, যা ভক্তদের রক্ষা ও আশীর্বাদ প্রদান করে।
ধারণীর উদ্দেশ্য
শেষের অংশে বলা হয়েছে 'সিদ্ধয়ন্তু মে মন্ত্রপদানি' অর্থাৎ আমার এই মন্ত্রগুলো সিদ্ধ হোক। এটি উচ্চারণ করে ভক্তরা আধ্যাত্মিক সিদ্ধি, পাপমোচন ও মঙ্গল কামনা করে, এবং 'শুদ্ধং শুদ্ধং' বলে পবিত্রতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মহামঙ্গল ও সত্যের আহ্বান
ধারণীর মাঝে 'মহামঙ্গল সত্যে সত্যে' বলছে — সত্য ও মহামঙ্গলের জন্য প্রার্থনা। এছাড়া 'সর্বার্থ'-এর উল্লেখ আছে, অর্থাৎ সমস্ত অর্থ বা উদ্দেশ্যের সিদ্ধি কামনা করা হয়েছে, যা এই মন্ত্রকে সর্বজনীন কল্যাণের জন্য শক্তিশালী করে তোলে।
Avalokiteshvara
বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
