শ্রী ব্যাংকে বিহারীর আরতি
এটি শ্রীকৃষ্ণের একটি প্রেমময় আরতি বা প্রদীপ নিবেদনের গান, যেখানে ভক্ত ময়ূরপুচ্ছের মুকুট, বাঁশি ও চরণকমলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নিজেকে সমর্পণ করেন।
শ্লোক
শ্রী বাঁকে বিহারি, তোমার আরতি গাই। হে গিরিধর, তোমার আরতি গাই। প্রিয়তম, তোমাকে সন্তুষ্ট করতে আরতি গাই। শ্যামসুন্দর, তোমার আরতি গাই। বালকৃষ্ণ, তোমার আরতি গাই।
শ্লোক 1
ময়ূরের মুকুট প্রিয় তোমার মস্তকে শোভা পায়। প্রিয় বাঁশি আমার মন মোহিত করে। তোমার রূপ দেখে আমি বলিহারি যাই। শ্রী বাঁকে বিহারি, তোমার আরতি গাই।
শ্লোক 2
তোমার চরণ থেকে পবিত্র গঙ্গা নির্গত হয়েছে, যা সমগ্র বিশ্বকে ত্রাণ করেছে। আমি সেই চরণের দর্শন লাভ করি। শ্রী বাঁকে বিহারি, তোমার আরতি গাই।
শ্লোক 3
তুমি দাস অনাথের নাথ। দুঃখ-সুখে, জীবনে, প্রিয় তুমি আমার সঙ্গী। হরি, তোমার চরণে মাথা নত করি। শ্রী বাঁকে বিহারি, তোমার আরতি গাই।
শ্লোক 4
তুমি শ্রী হরিদাসের প্রিয়। তুমি আমার মোহন, জীবনের ধন। যুগল রূপ দেখে আমি বারবার বলিহারি যাই। শ্রী বাঁকে বিহারি, তোমার আরতি গাই।
শ্লোক 5
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
বুধবার, বৃহস্পতিবার ও একাদশী
ব্রাহ্ম মুহূর্ত অথবা সন্ধ্যাবেলা
তুলসী পাতা, মাখন-মিছরি ও হলুদ ফুল
- পরম ভক্তি, চিত্তের আনন্দ ও সর্বপ্রকার উদ্বেগ থেকে মুক্তি
প্রেক্ষাপট
এই আরতি ব্রজভূমি তথা বৃন্দাবনের বিখ্যাত মন্দিরে শ্রী ব্যাংকে বিহারীর সন্ধ্যা আরতিতে গীত হয়। এটি রাধা-কৃষ্ণের ভক্তিমূলক গানের ঐতিহ্যের অংশ, যেখানে শ্রী হরিদাসের মতো ভক্তদের প্রেমভক্তির কথা স্মরণ করা হয়।
আপনি কি জানেন?
বাঁকে বিহারীর অর্থ
'বাঁকে' মানে বাঁকা বা তির্যক, আর 'বিহারী' মানে বিহারকারী বা বিচরণকারী — অর্থাৎ যিনি বাঁকা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকেন। বৃন্দাবনের এই বিখ্যাত মূর্তিতে কৃষ্ণ ত্রিভঙ্গ姿态ে দাঁড়িয়ে, যা তাঁকে অন্য সব কৃষ্ণমূর্তির থেকে আলাদা করেছে।
আরতির ঐতিহ্য
আরতি হলো দেবতার সামনে প্রদীপ বা বাতি ঘুরিয়ে ভক্তি নিবেদনের একটি প্রাচীন হিন্দু রীতি। এই গানটি সেই আরতির সময় গাওয়া হয়, যেখানে ভক্ত গান গেয়ে কৃষ্ণকে খুশি করার চেষ্টা করেন — 'রিজ়hāūं' শব্দটির অর্থই হলো 'আমি তোমাকে তুষ্ট করব'।
ময়ূরের মুকুট ও বাঁশি
কৃষ্ণের মাথায় ময়ূরপুচ্ছের মুকুট এবং হাতে বাঁশি — এই দুটি চিহ্নই তাঁকে গোপালক বা রাখাল রূপে চিহ্নিত করে। এই গানে বলা হয়েছে যে তাঁর বাঁশির সুর ভক্তের মনকে এমনভাবে মোহিত করে যে সবকিছু ভুলে যায়।
পদ্মা-গঙ্গার সংযোগ
দ্বিতীয় স্তবকে বলা হয়েছে কৃষ্ণের চরণ থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি। এটি হিন্দু পুরাণের একটি বিখ্যাত কাহিনি — ভগবান বিষ্ণুর (কৃষ্ণের অবতার) পা থেকে গঙ্গা প্রবাহিত হয়ে পৃথিবীকে পবিত্র করেছে।
হরিদাসের প্রসঙ্গ
শেষ স্তবকে 'শ্রী হরিদাস' নাম এসেছে — এটি স্বামী হরিদাস, যিনি ১৬শ শতকের বৃন্দাবনের একজন মহান ভক্ত ও সংগীতজ্ঞ ছিলেন। কথিত আছে, বাঁকে বিহারী মূর্তিটি তাঁরই ভক্তির ফলস্বরূপ আবির্ভূত হয়েছিল, তাই তাঁকে এই মূর্তির 'আবিষ্কারক' বলা হয়।
ভক্তির ভাষা
এই আরতিটি ব্রজভাষায় রচিত — এটি উত্তর ভারতের মথুরা-বৃন্দাবন অঞ্চলের একটি প্রাকৃত ভাষা, যা কৃষ্ণভক্তির গানে বহুল ব্যবহৃত। সহজ, সুরেলা এই ভাষা সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এই প্রার্থনাকে পৌঁছে দিয়েছে।
Krishna
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
