শ্রী ললিতাষ্টোত্তর শতনামাবলী
শ্রীবিদ্যা ঐতিহ্যে দেবী ললিতা (ত্রিপুরসুন্দরী)-র ১০৮টি নামের স্তোত্র, একটি ধ্যান-শ্লোক ও সমাপনী নিবেদন সহ।
শ্লোক
ধ্যান ও মঙ্গলাচরণ
১০৮টি নামের জপের পূর্বে দেবতার দিব্য রূপের ধ্যান ও বীজ মন্ত্র।
শ্রী মঙ্গলময়ী হোন।
শ্লোক Invocation
এখন শুরু হচ্ছে শ্রীললিতাষ্টোত্তরশতনামাবলী।
শ্লোক Invocation
ওঁ-ঐঁ-হ্রীঁ-শ্রীঁ।
শ্লোক Bīja Mantra
এখন ধ্যান করা হচ্ছে—
শ্লোক Dhyāna 1
সিঁদুরের মতো আরুণ বর্ণের দেহা, ত্রিনয়না, মাণিক্যের মুকুটে ঝলমল করা চন্দ্রশেখরা, মৃদু হাস্যময়ী মুখশ্রী, পূর্ণ ও উন্নত বক্ষস্থল যাঁর।
শ্লোক Dhyāna 2
দুই হাতে অতি পূর্ণ রত্নপাত্র ও রক্তপদ্ম ধারণ করেন যিনি, সৌম্যমূর্তি, রত্নঘটের ওপর রক্তচরণা— সেই পরাম্বিকাকে ধ্যান করি।
শ্লোক Dhyāna 3
১০৮টি পবিত্র নামাবলী
ভগবানের ১০৮টি পবিত্র নাম, যা 'ওঁ' ও 'নমঃ' সহযোগে অর্চনা ও জপে পাঠ করা হয়।
রজতাচলের শৃঙ্গাগ্রের মধ্যস্থিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 1
হিমালয়ের মহাবংশকে পবিত্রকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 2
শঙ্করের অর্ধাঙ্গের সৌন্দর্যময়ী দেহধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 3
ঝলমল করা মরকত মণির ন্যায় স্বচ্ছ দেহধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 4
অত্যন্ত আশ্চর্য সৌন্দর্য ও লাবণ্যময়ীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 5
চন্দ্রশেখরের প্রাণবল্লভাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 6
সর্বদা পঞ্চদশী বিদ্যার একত্ম স্বরূপিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 7
বজ্র ও মাণিক্যের কঙ্কণ ও কিরীটধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 8
কস্তুরীর তিলক উজ্জ্বল ললাটধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 9
ভস্মরেখায় চিহ্নিত ও শোভিত মস্তকধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 10
বিকশিত পদ্মের পাপড়ির ন্যায় নয়নধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 11
শরৎকালের কাঞ্চন (চম্পা) ফুলের ন্যায় নাসিকাধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 12
শোভমান সুবর্ণের কানের দুলের যুগলধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 13
মণিদর্পণের ন্যায় প্রতিফলিত কপোলধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 14
তাম্বূলে পূর্ণ ও স্মের (মৃদু হাস্য) বদনধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 15
উত্তম পাকা ডালিমের বীজের ন্যায় দন্তধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 16
শঙ্খ ও পূগফলের ন্যায় কণ্ঠধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 17
স্থূল মুক্তাফলের উদার সুন্দর হারধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 18
গিরীশ (শিব) কর্তৃক বদ্ধ মঙ্গলসূত্রের মঙ্গলময়ীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 19
পদ্ম, পাশ ও অঙ্কুশ শোভিত করপদ্মধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 20
পদ্ম, কৈরব (শ্বেতপদ্ম) ও মন্দার পুষ্পের মালাধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 21
সুবর্ণের কলস যুগলের ন্যায় সুন্দর স্তনধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 22
রমণীয় চার বাহুতে সংযুক্তাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 23
সুবর্ণের অঙ্গদ ও কেয়ূর দ্বারা ভূষিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 24
বৃহৎ সুবর্ণের সৌন্দর্যময় বস্ত্রধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 25
বৃহৎ নিতম্বে শোভিত জঙ্ঘাধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 26
সৌভাগ্যজাত শৃঙ্গারময়ী মধ্যমাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 27
দিব্য ভূষণের সমাহারে রঞ্জিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 28
পারিজাতের গুণে অধিক্য পাদপদ্মধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 29
উত্তম পদ্মরাগ মণির ন্যায় চরণধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 30
কামকোটির মহাপদ্মপীঠে স্থিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 31
শ্রীকণ্ঠ (শিব) নেত্রের কুমুদপুষ্পের চন্দ্রিকাস্বরূপিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 32
সঞ্চারিণী লক্ষ্মী ও সরস্বতী কর্তৃক সেবিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 33
ভক্তরক্ষণের দাক্ষিণ্যময় কটাক্ষধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 34
ভূতেশ (শিব) আলিঙ্গনে উদ্ভূত পুলকিত অঙ্গধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 35
অনঙ্গ (কামদেব) জনক অপাঙ্গ বীক্ষণধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 36
ব্রহ্মা ও ইন্দ্রের শিরোরত্নে রঞ্জিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 37
শচী প্রমুখ দেববধূগণ কর্তৃক সেবিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 38
লীলায় কল্পিত ব্রহ্মাণ্ডমণ্ডলধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 39
অমৃতাদি মহাশক্তি দ্বারা পরিবৃতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 40
একচ্ছত্র সাম্রাজ্য দায়িনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 41
সনকাদি ঋষিগণ কর্তৃক আরাধ্য পাদুকাধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 42
দেবর্ষিগণ কর্তৃক স্তূয়মান বৈভবাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 43
কলশোদ্ভব (অগস্ত্য) ও দুর্বাসা ঋষি কর্তৃক পূজিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 44
মত্তহস্তিমুখ (গণেশ) ও ষড়ানন (কার্তিক) প্রতি বৎসলাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 45
চক্ররাজ মহাযন্ত্রের মধ্যস্থিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 46
চিদগ্নিকুণ্ডে সম্ভূত সুন্দর দেহধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 47
চন্দ্রখণ্ডে যুক্ত মকুটধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 48
মত্ত হংসবধূর ন্যায় মন্দ গমনধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 49
বন্দীজনসমূহ কর্তৃক বন্দিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 50
অন্তর্মুখী জনগণের আনন্দফলদায়িনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 51
পতিব্রতা নারীদের অভীষ্ট ফলদায়িনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 52
অকপট করুণাপূর দ্বারা পূর্ণাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 53
নিতান্ত সচ্চিদানন্দে যুক্তাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 54
সহস্র সূর্যের সমান প্রকাশধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 55
রত্নচিন্তামণি গৃহের মধ্যস্থিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 56
হানি ও বৃদ্ধির গুণাধিক্য রহিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 57
মহাপদ্ম অরণ্যের মধ্যস্থিত নিবাসিনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 58
জাগ্রৎ, স্বপ্ন ও সুষুপ্তির সাক্ষীভূতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 59
মহাপাপরাশি ও পাপসমূহের বিনাশিনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 60
দুষ্টের ভীতি ও মহাভীতি ভঞ্জনকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 61
সমস্ত দেব ও দানবের প্রেরককে নমো নমঃ।
শ্লোক 62
সমস্ত হৃদয়পদ্মের নিলয়াকে নমো নমঃ।
শ্লোক 63
অনাহত মহাপদ্মের মন্দিরধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 64
সহস্রার কমলে বাসিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 65
পুনরাবৃত্তি রহিত পুরে (শিবপুরে) স্থিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 66
বাণী, গায়ত্রী ও সাবিত্রী কর্তৃক স্তুতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 67
লক্ষ্মী ও ভূমিদেবী কর্তৃক আরাধ্য পাদপদ্মধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 68
লোপামুদ্রা কর্তৃক পূজিত শ্রীচরণধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 69
সহস্র রতির সৌন্দর্যময় শরীরধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 70
ভাবনামাত্রে সন্তুষ্ট হৃদয়ধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 71
সত্য ও সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সিদ্ধিদায়িনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 72
শ্রীলোচন (শিব) কৃত উল্লাসের ফলদায়িনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 73
শ্রীসুধাসমুদ্রের মণিদ্বীপের মধ্যস্থিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 74
দক্ষযজ্ঞ বিদারণের সাধনাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 75
শ্রীনাথ (বিষ্ণু) এর সোদরী রূপে শোভিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 76
চন্দ্রশেখর (শিব) ভক্তের আর্তি ভঞ্জনকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 77
সর্ব উপাধি বিনির্মুক্ত চৈতন্যস্বরূপিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 78
নামপারায়ণের অভীষ্ট ফলদায়িনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 79
সৃষ্টি, স্থিতি ও তিরোধানের সঙ্কল্পধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 80
শ্রীষোড়শাক্ষরী মন্ত্রের মধ্যস্থিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 81
অনাদি-অনন্ত স্বয়ম্ভূত দিব্যমূর্তিধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 82
ভক্তহংস ও পরমহংসের (যোগীর) বিযোগকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 83
মাতৃমণ্ডলে যুক্ত ললিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 84
ভণ্ড দৈত্যের মহাসত্ত্ব নাশকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 85
ক্রূর ভণ্ডের শিরশ্ছেদনে নিপুণাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 86
ব্রহ্মা, অচ্যুত (বিষ্ণু) ও সুরাধীশ (ইন্দ্র) কে সুখদায়িনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 87
চণ্ড, মুণ্ড ও নিশুম্ভাদির খণ্ডনকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 88
রক্তাক্ষ ও রক্তজিহ্বা প্রভৃতির শিক্ষাদায়িনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 89
মহিষাসুরের বাহুবীর্য নিগ্রহকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 90
অম্বরকেশ (শুম্ভ?) মহোৎসাহের কারণকে নমো নমঃ।
শ্লোক 91
মহেশ্বরের সাথে নটনে তৎপরাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 92
নিজ স্বামীর মুখপদ্ম চিন্তনকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 93
বৃষভধ্বজ (শিব) এর বিজ্ঞান ভাবনাধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 94
জন্ম, মৃত্যু, জরা ও রোগ ভঞ্জনকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 95
বিধেয় (ব্রহ্মা) মুক্ত বিজ্ঞান সিদ্ধিদায়িনীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 96
কাম, ক্রোধাদি ষড়বর্গ নাশকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 97
রাজরাজ (কুবের) কর্তৃক পূজিত পদ্মপাদধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 98
সর্ববেদান্তে সিদ্ধ সুতত্ত্বস্বরূপিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 99
শ্রীবীরভক্তের বিজ্ঞান বিধানকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 100
অশেষ দুষ্ট দানবের সূদনকারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 101
সাক্ষাৎ শ্রীদক্ষিণামূর্তির ন্যায় মনোজ্ঞাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 102
অশ্বমেধ যজ্ঞের অগ্রে সম্পূজ্য মহিমাধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 103
দক্ষপ্রজাপতির কন্যারূপে বেষ্টিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 104
পুষ্পবাণ, ইক্ষুধনু ও কোদণ্ডে মণ্ডিতাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 105
নিত্য যৌবনা, মাঙ্গল্যময়ী মঙ্গলাকে নমো নমঃ।
শ্লোক 106
মহাদেবের সাথে যুক্ত শরীরধারিণীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 107
মহাদেবের রতিতে উৎসুকা মহাদেবীকে নমো নমঃ।
শ্লোক 108
সমাপন ও ফলশ্রুতি
পাঠের সমাপ্তি, ঈশ্বরার্পণ ও ফলশ্রুতি।
শ্রীজগদম্বার চরণে অর্পণ করি।
শ্লোক Colophon
ইতি শ্রীললিতাষ্টোত্তরশতনামাবলী সম্পূর্ণা।
শ্লোক Colophon
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই পাঠটি শাক্ত ধারার শ্রীবিদ্যা ঐতিহ্যের অন্তর্গত, যেখানে দেবী ললিতা (ত্রিপুরসুন্দরী)-কে পরম দেবতারূপে পূজা করা হয়। সংস্কৃত ডকুমেন্টস-এর এই পাঠে কোনো নির্দিষ্ট রচয়িতার নাম নেই (রচয়িতা: ঐতিহ্যগত), এবং নামগুলি ১ থেকে ১০৮ পর্যন্ত সংখ্যাযুক্ত। ১০৮টি নাম ঐতিহ্যগতভাবে নিত্য পূজায় বা বিশেষ উৎসবের দিনে পাঠ করা হয়, ব্রহ্মাণ্ড পুরাণের দীর্ঘতর ললিতা সহস্রনামের একটি সংক্ষিপ্ত বিকল্প হিসেবে। তালিকায় একটি ধ্যান-শ্লোক আছে এবং একটি নিবেদন দিয়ে শেষ হয়, ফলে এটি ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত ভক্তির জন্য একটি সম্পূর্ণ উপাসনামূলক রচনা।
আপনি কি জানেন?
গঠন ও বীজমন্ত্র
১০৮ নামের এই নামাবলী তিনটি বীজাক্ষর ওঁ ঐং হ্রীং শ্রীং দিয়ে শুরু হয়, যা শ্রীবিদ্যা ঐতিহ্যের মূল বীজমন্ত্র। এই ধ্বনিগুলি দেবীর সৃষ্টি, পালন ও লয়ের শক্তির প্রতীক বলে বিশ্বাস করা হয়, এবং তাঁর নাম উচ্চারণের আগে তাঁর উপস্থিতি আহ্বান করতে প্রায়ই জপ করা হয়।
ধ্যান-শ্লোকের বর্ণনা
বীজের পরে আসা ধ্যান-শ্লোক এক উজ্জ্বল প্রতিমাচিত্র আঁকে: ললিতা সিঁদুরের মতো রক্তবর্ণা, ত্রিনয়না, অর্ধচন্দ্র-মুকুটধারিণী, হাতে রত্নখচিত পানপাত্র ও রক্তপদ্ম, এবং তাঁর চরণ রত্নখচিত কলসের ওপর স্থাপিত। প্রতিটি উপাদান, রং, বস্তু ও ভঙ্গিমা, প্রতীকী অর্থে পূর্ণ এবং তাঁকে শ্রীচক্র ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে।
পৌরাণিক উল্লেখ
বেশ কয়েকটি নাম দেবীর ভাণ্ডাসুরের ওপর বিজয়কে সরাসরি উল্লেখ করে (যেমন 'ভাণ্ডদৈত্য মহাসত্ত্বনাশনা' ও 'ক্রূর ভাণ্ডশিরশ্ছেদ নিপুণা')। এই কাহিনি ব্রহ্মাণ্ড পুরাণের ললিতা সহস্রনামের (ললিতোপাখ্যান) কেন্দ্রীয় বিষয়, যেখানে ললিতা দেবতাদের নিয়ে দৈত্য ও তার সেনাবাহিনীর বিনাশ করেন, এবং তাঁকে পরম যোদ্ধা দেবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
শ্রীচক্রের সঙ্গে সংযোগ
'চক্ররাজ মহাযন্ত্র মধ্যবর্তিন্যৈ' (যন্ত্ররাজ শ্রীচক্রের মধ্যবর্তিনী) ও 'মহাপদ্ম অটবী মধ্য নিবাসায়ৈ' (মহাপদ্মবনের মধ্যে বাসিনী) নামগুলি তাঁকে শ্রীচক্রের কেন্দ্রে ও এক বিশাল পদ্মবনে স্থাপন করে। এই উপাধিগুলি তাঁকে শ্রীবিদ্যা ঐতিহ্যের কেন্দ্রীয় দেবতা হিসেবে চিহ্নিত করে, যেখানে শ্রীচক্র একই সঙ্গে একটি জ্যামিতিক চিত্র এবং বিশ্বের মানচিত্র।
দার্শনিক ও যৌগিক মাত্রা
নামাবলীতে আছে এমন নাম যা তাঁকে জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্ত, এই ত্রিবিধ চেতনার সাক্ষী বলে, অনাহত (হৃদয়) ও সহস্রার (মস্তক) চক্রে অধিষ্ঠিত বলে, এবং পুনর্জন্মের অতীত মুক্তিদাত্রী বলে ('পুনরাবৃত্তিরহিত পুরস্থায়ৈ')। এটি তান্ত্রিক ও বৈদান্তিক ধারণাকে একত্র করে, ললিতাকে একই সঙ্গে অন্তর্যামী ও অতীন্দ্রিয় রূপে উপস্থাপন করে।
Devi
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
