ভগবতী পদ্যপুষ্পাঞ্জলী স্তোত্রান্তর্গত মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র
দেবী দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপের উদ্দেশে রচিত একটি সুপরিচিত সংস্কৃত স্তোত্র; ৩০ শ্লোকের একটি কাব্য থেকে ২১টি শ্লোক।
শ্লোক
ভগবতীপদ্যপুষ্পাঞ্জলীস্তোত্রের অন্তর্গত মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রের অর্থ।
শ্লোক 1
হে গিরিনন্দিনী! হে নন্দিতমেদিনী! হে বিশ্ববিনোদিনী! হে নন্দনুতে! হে গিরিবর বিন্ধ্যের শিরোদেশে অবস্থিতি করেন, হে বিষ্ণু-বিলাসিনী! হে জিষ্ণুনুতে!
শ্লোক 2
হে ভগবতি! হে শিতিকণ্ঠের (শিবের) কুটুম্বিনী! হে ভূরি কুটুম্বিনী! হে ভূরিকৃতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১)
শ্লোক 3
হে সুরবরবর্ষিণী! হে দুর্ধরধর্ষিণী! হে দুর্মুখমর্ষিণী! হে হর্ষরতে! হে ত্রিভুবনপোষিণী! হে শঙ্করতোষিণী! হে কিল্বিষমোষিণী! হে ঘোষরতে!
শ্লোক 4
হে দনুজনিরোষিণী! হে দিতিসুতরোষিণী! হে দুরমদশোষিণী! হে সিন্ধুসুতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (২)
শ্লোক 5
(তিনি নিজ তরবারি দিয় বেড়ালের মতা সেই দানবের মস্তক ভূমিতে পাতিে করিলেন এবং দুর্ধর ও দুরমুখ নামে দুই অসুরকে শরসন্ধানেয় যমলোকে প্রেরণ করলেন।)
শ্লোক 6
হে জগদম্ব! হে মদম্ব! হে কদম্ববনপ্রিয়বাসিনী! হে হাসরতে! হে শিখরিশিরোমণি তুঙ্গ হিমালয়ের শৃঙ্গে অবস্থিত নিজালয়ে মধ্যগতা!
শ্লোক 7
হে মধুমধুরে! হে মধুকৈটভগঞ্জিনি! হে কৈটভভঞ্জিনি! হে রাসরতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (৩)
শ্লোক 8
(প্রভু ভগবান শেষশাযী হয়েছিলেন, তখন কল্পান্তে দুই দারুণ অসুর মধু ও কৈটভ আবির্ভূত হন। যাহারা মধুকৈটভবধ ও মহিষাসুরহত্যা এবং শুম্ভ-নিশুম্ভবধের বর্ণনা করবে, তাহাদিগকে সেই ফল লাভ হইবে।)
শ্লোক 9
হে শতখণ্ডে বিখণ্ডিত রুণ্ড, বিতুণ্ডিত শুণ্ড হস্তিরাজ আরি হে শত্রুরাজ গজের গণ্ডদেশ বিদারণে চণ্ড পরাক্রমশালী সিংহাধিপতি!
শ্লোক 10
হে নিজ ভুজদণ্ডে নিপাতিত খণ্ড, বিপাতিত মুণ্ড ভটাধিপতি! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (৪)
শ্লোক 11
(উঠে এসে দেবী মহাসিংহবাহনে চণ্ডকে আক্রমণ করলেন এবং তাহার কেশ পাকড়াইয়া তরবারি দিয়া মস্তকচ্ছেদন করলেন। পরে মুণ্ডও ধাবিত হইলে তাহাকেও খড়্গাঘাতে ভূমিতে নিক্ষেপ করলেন।)
শ্লোক 12
হে রণদুর্মদ শত্রুবধে উদিত দুর্ধর নির্জরশক্তিভৃতে! হে চতুর বিচারধুরীণ মহাশিবদূতকৃত প্রমথাধিপতি!
শ্লোক 13
হে দুরিতদুরীহ দুরাশয় দুরমতি দানবদূতকৃত অন্তমতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (৫)
শ্লোক 14
এই কথা শুনে শুম্ভ তখন চণ্ড ও মুণ্ডের কারণে মহাসুর সুগ্রীবকে দূত রূপে দেবীর কাছে পাঠালেন।
শ্লোক 15
হে শরণাগত বৈরিবধূবর বীরবর অভয়দায়িকারে! হে ত্রিভুবনমস্তকস্থ শূলবিরোধী শিরোধিকৃত অমল শূলধারিণি!
শ্লোক 16
হে দুমিদুমি ইত্যাদি তিমির দুনদুভিনাদে মহোমুখরীকৃত তিগ্মকরে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (৬)
শ্লোক 17
হে নিজ হুঙ্কৃতিমাত্রে নিরাকৃত ধূম্রলোচন ধূম্রশত! হে সমরবিশোষিত শোণিতবীজসমুদ্ভব শোণিতবীজলতে!
শ্লোক 18
হে শিব শিব! হে শুম্ভনিশুম্ভ মহাহবে তর্পিত ভূতপিশাচরতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (৭)
শ্লোক 19
(এইরূপে আদিষ্ট হইয়া ধূম্রলোচন অসুর দেবীর প্রতি ধাবিত হইল, কিন্তু অম্বিকা তাঁহাকে হুঙ্কারমাত্রেই ভস্ম করিলেন।)
শ্লোক 20
হে ধনুরানুষঙ্গ রণক্ষণসঙ্গে পরিস্ফুরদঙ্গে নটৎ কটকে! হে কনকপিশঙ্গ পৃষৎক নিষঙ্গে রসদ্ভট শৃঙ্গহত বটুকে!
শ্লোক 21
হে কৃত চতুরঙ্গবল ক্ষিতিরঙ্গ ঘটদ্বহুরঙ্গ রটদ্বটুকে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (৮)
শ্লোক 22
হে সুরললনাগণের 'তত্থেই যত্থেই যত্থা' এই অভিনয়ের উত্তর নৃত্যরতে! হে হাসবিলাস হুলাসময়ি! হে প্রণত আর্তজনে অমিত প্রেমভরে!
শ্লোক 23
(হে কৃত কুকুথঃ কুকুথো গডদাদিকতাল কুতূহল গানরতে!) হে ধিমিকিট ধিক্কট ধিকট ধিমি ধ্বনি ধীর মৃদঙ্গনিনাদরতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (৯)
শ্লোক 24
জয় জয় জপ্যজয়ে! হে জয়শব্দপরস্তুতি তৎপর বিশ্বনুতে! হে ঝণঝণ ঝিঞ্ঝিমি ঝঙ্কৃত নূপুর সিঞ্জিত মোহিত ভূতপতে!
শ্লোক 25
হে নটিত নটার্ধ নটী নটনায়ক নাটিত নাট্য সুগানরতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১০)
শ্লোক 26
হে সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনোহর কান্তিযুতে! হে শ্রিত রজনী রজনী রজনী রজনী রজনীকর বক্ত্রবৃতে!
শ্লোক 27
হে সুনয়ন বিভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমরাধিপতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১১)
শ্লোক 28
হে সহিত মহাহব মল্ল মাতল্লিক মল্লিত রল্লক মল্লরতে! হে বিরচিত বল্লিক পল্লিক মল্লিক ঝিল্লিক ভিল্লিক বর্গবৃতে!
শ্লোক 29
হে সিতকৃত ফুল্ল সমুল্লসিত অরুণ তল্লজ পল্লব সল্ললিতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১২)
শ্লোক 30
হে অবিরল গণ্ডগলন্মদ মেদুর মত্ত মাতঙ্গজ রাজপতে! হে ত্রিভুবনভূষণ ভূত কলানিধি রূপ পয়োনিধিরাজ সুতে!
শ্লোক 31
হে সুদতীজন লালসমান সমোহন মন্মথরাজ সুতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১৩)
শ্লোক 32
হে কমলদলামল কোমল কান্তি কলাকলিত অমল ভাললতে! হে সকলবিলাস কলানিলয় ক্রমকেলি চলৎ কলহংসকুলে!
শ্লোক 33
হে অলিকুল সঙ্কুল কুবলয়মণ্ডল মৌলিমিলদ্বকুলালিকুলে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১৪)
শ্লোক 34
হে করমুরলীরব বীজিত কূজিত লজ্জিত কোকিল মঞ্জুমতে! হে মিলিত মিলিন্দ মনোহর গুঞ্জিত রঞ্জিত শৈলনিকুঞ্জগতে!
শ্লোক 35
হে নিজ গুণভূত মহাশবরীগণ সদ্গুণ সম্ভৃত কেলিতলে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১৫)
শ্লোক 36
হে কটিতট পীত দুকূল বিচিত্র ময়ূখ তিরস্কৃত চন্দ্ররুচে! হে প্রণত সুরাসুর মৌলিমণি স্ফুরদংশু লসন্নখ চন্দ্ররুচে!
শ্লোক 37
হে জিত কনকাচল মৌলি পদোর্জিত নির্জর কুঞ্জর কুম্ভকুচে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১৬)
শ্লোক 38
হে বিজিত সহস্রকর এক সহস্রকর এক সহস্রকর একনুতে! হে কৃত সুরতারক সঙ্গর তারক সঙ্গর তারক সুনুসুতে!
শ্লোক 39
হে সুরথ সমাধি সমান সমাধি সমাধি সমাধি সুজাতরতে! জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১৭)
শ্লোক 40
(হে বৈশ্যবর্য! তুমি যাহা অভিথি করিয়াছ, তাহা আমি প্রদান করিতেছি। তোমার সিদ্ধির জন্য জ্ঞান লাভ হইবে। দেবী কর্তৃক বর লাভ করিয়া সুরথ ক্ষত্রিয়র্ষভ সূর্য হইতে জন্মগ্রহণ করিয়া সাবর্ণি মনু হবেন।)
শ্লোক 41
হে করুণানিলয়ে! হে সুশিবে! যে ব্যক্তি প্রতিদিন তোমার পদকমলের সেবা করে, হে কমলে! হে কমলানিলয়ে! সে কীভাবে কমলানিলয় (বিষ্ণু) না হইতে পারে?
শ্লোক 42
হে শিবে! তোমার পদই পরম পদ — এ কথা আমি যদি অনুশীলন করি, তবে আমার কী লাভ হয় না? জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১৮)
শ্লোক 43
হে গুণরঙ্গভূমি! তোমাকে যদি কনকলসিত কলসিন্দু জল দিয়ে অভিষিক্ত করি, তবে সে কী শচীর কুচকুম্ভতটীর পরিরম্ভ সুখানুভব লাভ করে না?
শ্লোক 44
হে নতমরবাণী নিবাসি শিবে! আমি তোমার চরণেই শরণ গ্রহণ করি। জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (১৯)
শ্লোক 45
হে শিবে! তোমার বিশুদ্ধ ইন্দুকুল বদনের ইন্দু সকলকেই কলা করে। তবে কী পুরুহুতপুরীর ইন্দুমুখীগণ তাহাকে বিমুখী করিতে পারে?
শ্লোক 46
আমার মত এই যে, শিব নামধন তোমার কৃপায় কী না হয়? জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (২০)
শ্লোক 47
হে উমে! হে দীনদয়ালু! আমার প্রতি কৃপা করো — তোমার কৃপা ব্যতিরেকে আর কিছুই প্রয়োজন নাই। হে জগতের জননি! তুমি যেমন কৃপাস্বরূপা, তেমনি আমাকে কৃপা করো।
শ্লোক 48
হে রমে! এখানে যা উচিত তাই করো। আমার দুঃখ দূর করো। জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী! হে রম্যকপর্দিনী! হে শৈলসুতে! (২১)
শ্লোক 49
ইতি শ্রীমহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রং সম্পূর্ণম্।
শ্লোক 50
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই স্তোত্রটি ভগবতী-পদ্য-পুষ্পাঞ্জলি স্তোত্র-এর সর্বাধিক পরিচিত অংশ, যা দেবীর উদ্দেশে নিবেদিত ৩০ শ্লোকের একটি পুষ্পাঞ্জলি; ধুয়াসহ জনপ্রিয় 'ঐগিরি নন্দিনী' শ্লোকগুলি এর ৭ থেকে ২৭ নম্বর শ্লোক, যেগুলি ১ থেকে ২১ রূপে গণিত। এটি ব্যাপকভাবে আদি শঙ্করাচার্যের রচনা বলে গাওয়া হয়, কিন্তু সংস্কৃত ডকুমেন্টস-এর সংস্করণ এই আরোপ ভুল বলে উল্লেখ করে, কারণ এটি তাঁর সম্পূর্ণ রচনায় নেই, এবং কবি হিসেবে রামকৃষ্ণ কবির নাম দেয়; কাব্যের শেষ শ্লোকগুলিতে (২৯-৩০) শ্রীপতির পুত্র এক রামকৃষ্ণের নাম আছে। একটি অংশ শিবরহস্য, প্রথম ভাগ, ৫৩ অধ্যায়ের ৯-২১ শ্লোকেও পাওয়া যায়। কাব্যটি মার্কণ্ডেয় পুরাণের দেবী মাহাত্ম্যের ঘটনাবলির উপর ভিত্তি করে, এবং নবরাত্রিতে ও দৈনিক প্রার্থনায়, বিশেষত দক্ষিণ ভারতে, ব্যাপকভাবে পাঠ করা হয়।
এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Ramakrishna Kavi
আপনি কি জানেন?
রচয়িতা ও রচনা
এই স্তোত্রটি জনপ্রিয়ভাবে আদি শঙ্করাচার্যের রচনা বলে মানা হয়, কিন্তু সংস্কৃত ডকুমেন্টস-এর সংস্করণ কবি রামকৃষ্ণ কবিকে রচয়িতা বলে এবং শঙ্করের আরোপকে ভুল বলে, কারণ এটি তাঁর সম্পূর্ণ রচনায় নেই। এটি বৃহত্তর রচনা, ভগবতী পদ্য পুষ্পাঞ্জলি স্তোত্রম্-এর অংশ, যা দেবী জননীর উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্যের মতো নিবেদিত শ্লোকের সংকলন।
গঠন ও ধুয়া
কাব্যটি ২১টি শ্লোকে বিন্যস্ত, এবং প্রতিটি শ্লোক শক্তিশালী ধুয়া 'জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে' দিয়ে শেষ হয়। এই পুনরাবৃত্তি একটি ছন্দময় জপ তৈরি করে, যা দেবীকে তাঁর উপাধি দিয়ে সম্মান জানায়: মহিষাসুরের সংহারক, সুন্দর জটাধারিণী এবং হিমালয় পর্বতের কন্যা।
কেন্দ্রীয় যুদ্ধ
স্তোত্রটি দেবীর বহু অসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নাটকীয় বর্ণনা। এটি কেবল মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধের বর্ণনা নয়, বরং মধু ও কৈটভ, চণ্ড ও মুণ্ড, ধূম্রলোচন, রক্তবীজ এবং শুম্ভ ও নিশুম্ভ ভ্রাতৃদ্বয়ের মতো অন্যান্য শক্তিশালী অসুরদের উপর তাঁর বিজয়ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, দেবীকে চূড়ান্ত রক্ষাকর্ত্রী রূপে তুলে ধরে।
সংগীত ও নৃত্যের চিত্র
স্তোত্রটি তার ধ্বন্যাত্মক শব্দখেলার জন্য বিখ্যাত। এতে যুদ্ধের তাল বর্ণিত হয় ড্রামের বাজনার অনুকরণী শব্দে (ধিমি কিট ধিক্কট), তাঁর নূপুরের ঝনঝন ধ্বনিতে (ঝণ ঝণ), এমনকি তাঁর হাসির শব্দেও, যা দেবীকে কেবল যোদ্ধা নয়, বরং সংহারের তাণ্ডব নৃত্যরত মহাজাগতিক নর্তকী রূপে চিত্রিত করে।
শেষ প্রতিশ্রুতি ও কৃপা
স্তোত্রটি ব্যক্তিগত মোড়ে শেষ হয়। শেষ তিনটি শ্লোকে (২১ নম্বর শ্লোকের মধ্যে ১৯-২১), বীরত্বপূর্ণ কর্মের বর্ণনার পর কবি সরাসরি দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন, যাঁকে বিশ্বজননী বলে সম্বোধন করা হয়েছে, তাঁর কৃপার জন্য (কৃপয়া), এবং বলেন যে যিনি তাঁর পদ্মচরণে আশ্রয় নেন, তাঁর আর অন্য বরের প্রয়োজন নেই।
