গুরুর পদ্মচরণের ধ্যান
এই শবদ গুরুগ্রন্থ সাহিবের একটি অংশ, যেখানে গুরুর পদ্মচরণের ধ্যান ও উপাসনার মাধ্যমে ভয়, দুঃখ ও সংসার-সাগর পার হওয়ার পথ বর্ণিত হয়েছে।
শ্লোক
আমি সর্বদা গুরুর চরণকমলে ধ্যান করি এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসে হরি-হরি নাম জপ করে গুরুর অঙ্গ স্পর্শ করি।
শ্লোক 1
গুরুদর্শন পেয়ে আমি বেঁচে থাকি, আমার মন গুরুচরণে লাগে; হরি-হরি নাম জপ করে আমি সংসার-সাগর পার হয়েছি।
শ্লোক 2
গুরুচরণের ধূলি আমার মস্তকে লাগলে দুঃখ, ভ্রম ও ভয় নাশ হয়। নানক কহেন, প্রভু দয়ালু হলেন, আমার আশা পূর্ণ হলো।
শ্লোক 3
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই শবদটি শ্রী গুরু নানক দেব জি-এর রচনা, যা গুরুগ্রন্থ সাহিবের অন্তর্গত। এটি সাধারণত সকালের প্রার্থনা বা বিশেষ ধার্মিক অনুষ্ঠানে গাওয়া হয় এবং গুরুর প্রতি ভক্তির মাধ্যমে মুক্তি লাভের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
আপনি কি জানেন?
গঠন
এই শবদটির প্রথম লাইনটি ‘রহাউ’ (বিরাম) অংশ, যা মূল ভাবকে ধারণ করে এবং প্রতিটি স্তবকের পরে পুনরাবৃত্ত হয়। গুরু গ্রন্থ সাহিবের এই কাঠামোটি শ্রোতার মনোযোগ কেন্দ্রীয় বার্তায় স্থির রাখে।
রূপক
‘ভব সাগর’ (সংসার-সাগর) পার হওয়ার রূপকটি শিখ ধর্মে অত্যন্ত প্রচলিত। এখানে গুরুর নাম জপ করাই সেই সাগর তরণের একমাত্র নৌকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে—একটি গভীর আধ্যাত্মিক উপমা যা জীবনের কষ্ট ও মায়া থেকে মুক্তির পথ দেখায়।
গুরুর চরণ
‘চরণ রেণু’ অর্থাৎ গুরুর পায়ের ধূলি মাথায় লাগানোর মাধ্যমে দুঃখ, ভ্রম ও ভয় নাশ হয় বলে বর্ণিত হয়েছে। এটি গুরুর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতীক, যা শিখ ভক্তিমার্গের কেন্দ্রীয় অনুশীলন।
রচয়িতা
শেষ লাইনে ‘কহু নানক’ (নানক বলেন) উল্লেখ রয়েছে। এটি গুরু নানক দেবের নিজস্ব রচনা হতে পারে, অথবা পরবর্তী কোনো গুরু ‘নানক’ নামে আত্মপ্রকাশ করে এই শবদ রচনা করেছেন—শিখ পরম্পরায় এটি একটি সাধারণ প্রথা।
সংখ্যা নির্দেশ
শবদের শেষে ‘২।২১।৮১’ সংখ্যাটি গুরু গ্রন্থ সাহিবের নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করে। এটি ‘২য় অঙ্গ, ২১তম শবদ, ৮১তম পংক্তি’ বোঝাতে পারে, যা পাঠককে মূল গ্রন্থে সহজেই খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
Guru Nanak Dev Ji
শিখধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
