আনন্দ সাহিব (সুখের স্তোত্র)
এটি গুরু অমর দাস বিরচিত একটি পবিত্র স্তোত্র, যা ‘আনন্দ সাহিব’ নামে পরিচিত। এটি মানবজীবনে সুখ, শান্তি ও পরমাত্মার সাথে সংযোগের আনন্দ উদযাপন করে।
শ্লোক
রাগ রামকালী, তৃতীয় মহল, আনন্দ (পরম সুখ)।
শ্লোক 1
আনন্দ হয়েছে, হে আমার মা, আমি সতগুরুকে পেয়েছি। সতগুরুকে পেয়েছি সহজভাবে, মনে বেজেছে আনন্দের ধ্বনি। রত্নস্বরূপ রাগ ও তাদের পরিবার এসেছে শব্দ গাইতে। তোমরা হরির শব্দ গাও, যা মনে বসিয়েছে। নানক বলেন, আনন্দ হয়েছে, আমি সতগুরুকে পেয়েছি। ||১||
শ্লোক 2
হে আমার মন, তুমি সর্বদা হরির সাথে থাকো। হরি সাথে থাকো, হে আমার মন, সব দুখ ভুলে যাবে। তিনি তোমাকে গ্রহণ করবেন, তোমার সব কাজ সফল করবেন। সব বিষয়ে সমর্থ প্রভু, তাকে কেন মনে ভুলে যাও? নানক বলেন, হে আমার মন, সর্বদা হরির সাথে থাকো। ||২||
শ্লোক 3
হে সত্য প্রভু, তোমার ঘরে কী নেই? তোমার ঘরে সব কিছু আছে, তুমি যাকে দাও সে পায়। আমি সর্বদা তোমার স্তুতি ও প্রশংসা করি, নাম মনে বসাই। যাদের মনে নাম বসেছে, তাদের মধ্যে শব্দের বহু ধ্বনি বাজে। নানক বলেন, হে সত্য প্রভু, তোমার ঘরে কী নেই? ||৩||
শ্লোক 4
সত্য নাম আমার ভরসা। সত্য নাম আমার ভরসা, যা সব ক্ষুধা দূর করেছে। শান্তি ও সুখ দিয়ে মনে এসে বসেছে, সব ইচ্ছা পূর্ণ করেছে। আমি চিরকাল গুরুকে কুরবান, যিনি এই মহিমা দিয়েছেন। নানক বলেন, শোনো হে সন্তগণ, শব্দে প্রেম ধারণ করো। সত্য নাম আমার ভরসা। ||৪||
শ্লোক 5
সেই সৌভাগ্যশালী গৃহে পঞ্চ শব্দ বাজে। সৌভাগ্যশালী গৃহে শব্দ বাজে, যেখানে শক্তি স্থাপিত হয়েছে। তুমি পাঁচ দূতকে বশ করেছ, মৃত্যুর কাঁটা মারেছ। যারা পূর্বনির্ধারিত ভাগ্যে তোমাকে পেয়েছে, তারা হরির নামে লাগে। নানক বলেন, সেখানে সুখ হয়েছে, সেই গৃহে অহেতুক ধ্বনি বাজে। ||৫||
শ্লোক 6
আনন্দ শোনো, হে মহাভাগ্যবানগণ, সব মনোরথ পূর্ণ হয়েছে। পরব্রহ্ম প্রভুকে পেয়েছি, সব চিন্তা দূর হয়েছে। দুখ, রোগ, সন্তাপ দূর হয়েছে, সত্য বাণী শুনে। সন্ত ও মিত্রগণ আনন্দিত হয়েছেন, পূর্ণ গুরুকে জানিয়ে। শুনলে পবিত্র, বললে পবিত্র, সতগুরু সর্বত্র বিরাজমান। নানক বিনতি করেন, গুরুচরণে লেগে, অহেতুক তূর্য বাজে। ||৪০||১||
শ্লোক 7
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই স্তোত্রটি শিখ ধর্মগ্রন্থ গুরু গ্রন্থ সাহিবের রামকালী রাগে অন্তর্ভুক্ত। গুরু অমর দাস, তৃতীয় শিখ গুরু, এটি রচনা করেছিলেন। ঐতিহ্যগতভাবে এটি বিবাহ, ঈশ্বরের সেবা ও আনন্দের অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়, বিশেষত শিখ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও দৈনিক প্রার্থনার সময়।
এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Guru Amar Das Ji · Sikh Guru (Third of the Ten) · 1479–1574 CE, Punjab
The third Sikh Guru, known for institutionalizing the langar (community kitchen open to all castes) and composing the Anand Sahib, a hymn of spiritual bliss recited in Sikh ceremonies to this day.
আপনি কি জানেন?
রচয়িতা
এই স্তোত্রটি শিখধর্মের তৃতীয় গুরু, গুরু অমর দাস (১৪৭৯-১৫৭৪) রচিত ‘আনন্দ সাহিব’-এর অন্তর্গত। এটি শিখ ধর্মগ্রন্থ ‘গুরু গ্রন্থ সাহিব’-এর রাগ রামকালির অধীনে সংকলিত।
আনন্দের গান
‘আনন্দ’ শব্দের অর্থ ‘অতুলনীয় সুখ’। এই স্তোত্রটির মূল বিষয়বস্তু হলো সৎগুরুর (সত্যিকার গুরু) সঙ্গে মিলনের মাধ্যমে অর্জিত পূর্ণ আনন্দ ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি।
গঠন
পুরো ‘আনন্দ সাহিব’ ৪০টি পদ (স্তবক) নিয়ে গঠিত। এখানে দেওয়া প্রথম পাঁচটি পদ (০-৫) ও শেষ পদটি (৬) সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপিত। প্রতিটি পদের শেষে ‘কহৈ নানকু’ (বলেন নানক) পংক্তিটি পুনরাবৃত্তি হয়, যা গুরু-ভক্তির ঐক্য প্রকাশ করে।
প্রতীকী অর্থ
পঞ্চম পদে উল্লিখিত ‘পঞ্চ শবদ’ (পাঁচটি ধ্বনি) হলো শিখ ঐতিহ্যে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পাঁচটি স্তর বা 'পঞ্চ তত্ত্ব'-এর প্রতীক। এগুলো সাধারণত ধ্যান বা সঙ্গীতে ব্যবহৃত পবিত্র ধ্বনি বোঝায়, যা মনকে শুদ্ধ করে।
শিখ রীতিতে ব্যবহার
‘আনন্দ সাহিব’ শিখ ধর্মে বিবাহ, জন্মদিন বা অন্য কোনো শুভ অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয়। বিশেষ করে, ‘চল্লিশ পদী’ (চল্লিশ পদের) এই রচনাটি সঙ্গীতসহ গাওয়া হয় এবং এটি গুরু গ্রন্থ সাহিবের শেষ অংশে অবস্থিত।
ভাষা ও ভাষ্য
স্তোত্রটি পাঞ্জাবী ভাষায় লেখা (গুরুমুখী লিপি), তবে এর বার্তা সার্বজনীন। এখানে ‘সৎগুরু’ বা ‘হরি’ ইত্যাদি শব্দগুলোর মাধ্যমে কেবল শিখ নয়, বরং সমস্ত মানুষের জন্য আধ্যাত্মিক পথের দিশা দেওয়া হয়েছে।
