বুদ্ধ জয়মঙ্গল অট্ঠগাথা — বুদ্ধের আটটি বিজয়ের স্তোত্র
এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ স্তোত্র, যা বুদ্ধের জীবনের আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের কথা বলে। প্রতিটি শ্লোকে বুদ্ধ কীভাবে কঠিন পরিস্থিতি বা শত্রুকে জয় করেছিলেন তা বর্ণনা করা হয়েছে, এবং এই স্তোত্র পাঠ করলে জীবনের বাধা দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
শ্লোক
সহস্র বাহু ও অস্ত্রে সজ্জিত, গিরিমেলু পর্বতের ন্যায় ভয়ংকর, নন্দন বনের প্রিয় সেই দেবরাজ ইন্দ্রকে ক্ষমা, পবিত্র ধী, মুনি ও নিধির ব্যবস্থায় জয় করেছিলেন; সেই জয়মঙ্গলার্থ গাথা জ্ঞানী ব্যক্তি উচ্চারণ করেন।
শ্লোক 1
সহস্র বাহু ও অস্ত্রে সজ্জিত, গিরিমেলু পর্বতের ন্যায় ভয়ংকর, নন্দন বনের প্রিয় সেই দেবরাজ ইন্দ্রকে ক্ষমা, পবিত্র ধী, মুনি ও নিধির ব্যবস্থায় জয় করেছিলেন; সেই মহাজয়ী মুনির ন্যায় জ্ঞানী ব্যক্তি মহত্ত্ব লাভ করেন।
শ্লোক 2
সহস্র বাহু ও অস্ত্রে সজ্জিত, গিরিমেলু পর্বতের ন্যায় ভয়ংকর, নন্দন বনের প্রিয় সেই দেবরাজ ইন্দ্রকে ক্ষমা, পবিত্র ধী, মুনি ও নিধির ব্যবস্থায় জয় করে, সেই ইন্দ্রের শিরোমণি ভূষিত হয়ে জয়মঙ্গল অষ্টগাথা প্রকাশিত হয়।
শ্লোক 3
মারের চেয়েও অধিক ভয়ংকর যে দেবপুত্র, সমগ্র রাত্রি যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন; গভীর ভয়ংকর নালাগিরি হস্তীকে বশ করে রাজা হন; সেই নালাগিরি নামক অতি মত্ত হস্তীশ্রেষ্ঠকে দাবানলের চক্রের ন্যায় জয় করে, সেই জয়মঙ্গল অষ্টগাথা।
শ্লোক 4
উত্থিত অসি হস্তে যোজন পর্যন্ত ধাবমান অঙ্গুলিমাল নামক জনকে দর্শন করে, ঋদ্ধির দ্বারা সংঘটিত মনকে জয় করে, সেই জয়মঙ্গল অষ্টগাথা।
শ্লোক 5
গর্ভিণীর ন্যায় কাষ্ঠ আবদ্ধ উদর করে, চঞ্চলার দুষ্ট বচন জনসমাজের মধ্যে প্রকাশ করে; শান্ত ও সোমের ন্যায় বিধানে মুনিশ্রেষ্ঠ জয় করেছিলেন; বাক্যের দ্বারা প্রকাশিত সেই জয়মঙ্গল অষ্টগাথা।
শ্লোক 6
সত্য পরিত্যাগ করে সচ্চক নামক বাদীর কেতুকে, বাদে আরোপিত চিত্তকে অতি অন্ধভাবে, পঞ্চদীপের ন্যায় জ্বলন্ত মুনিশ্রেষ্ঠ জয় করেছিলেন; বুদ্ধির দীপের ন্যায় জ্বলন্ত সেই জয়মঙ্গল অষ্টগাথা।
শ্লোক 7
নন্দোপানন্দ নামক মহান ভুজঙ্গম দেবতাকে পুত্র স্থবির ভুজঙ্গমের দ্বারা দমন করিয়ে, ঋদ্ধিপ্রদেশ বিধানে মুনিশ্রেষ্ঠ জয় করেছিলেন; সেই সাগর ঋদ্ধি দমনকারী জয়মঙ্গল অষ্টগাথা।
শ্লোক 8
দুষ্কৃত ভুজঙ্গম ব্রহ্মদত্তকে, বামা ও কক্ষের মুখে অতি হীন কর্ম করে; জ্ঞানগদ দ্বারা বিধান করে মুনিশ্রেষ্ঠ জয় করেছিলেন; বুদ্ধির দীপের ন্যায় জ্বলন্ত সেই জয়মঙ্গল অষ্টগাথা।
শ্লোক 9
এই বুদ্ধজয়মঙ্গল অষ্টগাথা যে ব্যক্তি প্রতিদিন স্মরণ করে ও উচ্চারণ করে, বিবিধ উপদ্রব পরিত্যাগ করে, জ্ঞানী ব্যক্তি সুখ ও মোক্ষ লাভ করেন।
শ্লোক 10
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই স্তোত্রটি বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অন্তর্গত এবং এটি 'বুদ্ধ জয়মঙ্গল অট্ঠগাথা' নামে পরিচিত। এটি প্রাচীন পালি ভাষায় রচিত, যা বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের ভাষা। ঐতিহ্যগতভাবে এটি সকালে বা ধ্যানের সময় পাঠ করা হয়, যাতে জীবনে শান্তি, সাফল্য এবং মঙ্গল আসে। রচয়িতার সঠিক পরিচয় জানা যায় না, তবে এটি বুদ্ধের জীবনের আটটি বিজয়ের কাহিনি তুলে ধরে, যা ভক্তদের মনে সাহস ও আস্থা জাগায়।
এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Anonymous (traditional Sri Lankan Pali composition)
আপনি কি জানেন?
অর্থ
এই স্তোত্রটি বুদ্ধের আটটি বিজয়ের কাহিনী বর্ণনা করে, যেখানে তিনি বিভিন্ন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছিলেন — হিংস্র হাতি, দস্যু, ব্রাহ্মণ পণ্ডিত এবং এমনকি একটি বিশাল সাপ। প্রতিটি শ্লোক একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে চিহ্নিত করে, যা বুদ্ধের অহিংসা, প্রজ্ঞা ও করুণার শক্তিকে তুলে ধরে।
রচনা
'জয়মঙ্গল অট্ঠগাথা' নামে পরিচিত এই আটটি শ্লোক পালি ভাষায় রচিত, যা বৌদ্ধ ধর্মীয় সাহিত্যের প্রাচীন ভাষা। এটি শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রতিদিন পাঠ করলে বিপদ থেকে রক্ষা ও সুখ লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
প্রথম বিজয়
প্রথম শ্লোকে বুদ্ধের সহস্র বাহু ও অস্ত্রধারী দৈত্যের উপর বিজয়ের কথা বলা হয়েছে, যা তাঁর অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা ও ধৈর্যের প্রতীক। এই ঘটনাটি বুদ্ধের জ্ঞানলাভের পরের সময়ের, যখন তিনি বিভিন্ন দেবতা ও অসুরের挑战ের সম্মুখীন হয়েছিলেন।
হাতির ঘটনা
তৃতীয় শ্লোকে দেবদত্তের পাঠানো মাতাল হাতি নালাগিরিকে বুদ্ধ শান্ত করেছিলেন — হাতিটি তাঁর দিকে ছুটে এলেও বুদ্ধের মৈত্রী ও শান্তির শক্তিতে তা নত হয়ে যায়। এই ঘটনাটি রাজগৃহে ঘটেছিল এবং এটি বুদ্ধের অহিংস পরাক্রমের সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণগুলির একটি।
অঙ্গুলিমালের গল্প
চতুর্থ শ্লোকে দস্যু অঙ্গুলিমালের উল্লেখ আছে, যিনি ৯৯৯ জন মানুষের আঙুল কেটে মালা পরতেন। বুদ্ধ তাঁর দিকে এগিয়ে গেলে অঙ্গুলিমাল তাঁকে অনুসরণ করতে না পেরে বিস্মিত হন এবং শেষ পর্যন্ত বুদ্ধের উপদেশে তিনি সন্ন্যাসী হয়ে নির্বাণ লাভ করেন।
চিঞ্চার অপবাদ
পঞ্চম শ্লোকে ব্রাহ্মণী চিঞ্চার কাহিনী রয়েছে, যিনি বুদ্ধকে অপবাদ দিতে গর্ভবতী সাজেন। বুদ্ধ তাঁর শান্ত ও সত্যনিষ্ঠ আচরণে এই মিথ্যা অভিযোগের জবাব দেন, এবং দেবতারা সত্য প্রকাশ করলে চিঞ্চা মাটিতে ধসে পড়ে।
শেষ শ্লোকের আশীর্বাদ
শেষ শ্লোকে বলা হয়েছে, যিনি প্রতিদিন এই আটটি শ্লোক স্মরণ করেন বা পাঠ করেন, তিনি সমস্ত বিপদ ও বাধা অতিক্রম করে মোক্ষ ও সুখ লাভ করেন। এই স্তোত্রটি তাই বৌদ্ধ গৃহস্থদের মধ্যে সুরক্ষা ও মঙ্গলের জন্য নিয়মিত পাঠের রীতি।
Buddha
বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
