শ্রী গণেশজীর আরতি
হিন্দি গণেশ আরতি: তাঁর মাতা-পিতা, একদন্ত ও চার বাহু, তাঁর বাহন মূষিক, লাড্ডু নৈবেদ্য, এবং প্রত্যেক ভক্তের জন্য বর।
শ্লোক
শ্রী গণেশদেবের আরতি।
শ্লোক 1
জয় গণেশ, জয় গণেশ, জয় গণেশ দেব। মাতা যাঁর পার্বতী, পিতা মহাদেব।
শ্লোক 2
একদন্ত দয়াবন্ত, চার ভুজাধারী। মাথায় তিলক শোভিত, মূষিকের বাহন।
শ্লোক 3
পান চড়ে, ফুল চড়ে, আর চড়ে মেওয়া। লাড্ডুর ভোগ লাগে, সন্ত করে সেবা।
শ্লোক 4
জয় গণেশ, জয় গণেশ, জয় গণেশ দেব। মাতা যাঁর পার্বতী, পিতা মহাদেব।
শ্লোক 5
অন্ধকে চক্ষু দেন, কুষ্ঠীকে দেহ। বন্ধ্যাকে পুত্র দেন, নির্ধনকে ধন।
শ্লোক 6
'সূর' শ্যাম শরণে এলেন, সফল করুন সেবা। মাতা যাঁর পার্বতী, পিতা মহাদেব।
শ্লোক 7
দীনের লাজ রক্ষা করো, শম্ভুপুত্রবর। কামনা পূর্ণ করো, জগৎ বলিহারী।
শ্লোক 8
জয় গণেশ, জয় গণেশ, জয় গণেশ দেব। মাতা যাঁর পার্বতী, পিতা মহাদেব।
শ্লোক 9
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই আরতিটি হিন্দু ভক্তি-পরম্পরার বৃহত্তর অংশ, এবং জনপ্রিয়ভাবে ষোড়শ শতকের ভক্তকবি সুরদাসের রচনা বলে মনে করা হয়, কারণ এর সমাপ্তি পঙ্ক্তিতে ‘সুর’ স্বাক্ষর আছে। এই আরোপ স্বাক্ষর-পঙ্ক্তি ও মৌখিক ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে; কোনো প্রাচীন পাণ্ডুলিপি উদ্ধৃত নেই, তাই একে নথিভুক্ত নয়, বরং ঐতিহ্যগত বলে গণ্য করাই যুক্তিসঙ্গত। গৃহে দৈনন্দিন পূজায় বা মন্দিরে, বিশেষত গণেশ চতুর্থীতে এটি সাধারণত গাওয়া হয়। গণপতির আবাহন আরতির চেয়ে অনেক প্রাচীন: ঋগ্বেদের ২.২৩.১ শ্লোক (‘গণানাং ত্বা গণপতিম্’) ঐতিহ্যগতভাবে তাঁর উদ্দেশে পাঠ করা হয়, এবং গণেশ পুরাণ তাঁর উপাসনায় নিবেদিত। আরতিতে গানের সঙ্গে দেবতার সামনে প্রদীপ আন্দোলিত করা হয়।
আপনি কি জানেন?
ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় হিন্দু ভক্তিগীতিগুলির একটি
ভগবান গণেশের উদ্দেশে এই ‘আরতি’ (প্রশংসার একটি আনুষ্ঠানিক গান) ভারতজুড়ে অগণিত ঘরে ও মন্দিরে প্রতিদিন গাওয়া হয়, বিশেষত পূজার শুরুতে। এর সরল, পুনরাবৃত্তিমূলক ধ্রুবপদ সকলের পক্ষে যোগ দেওয়া সহজ করে।
গণেশের প্রতীকী রূপের ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় শ্লোকে গণেশের একটি দাঁত (‘একদন্ত’), চার বাহু, কপালের তিলক এবং তাঁর মূষিক বাহনের বর্ণনা আছে। ইঁদুর প্রতীকী—গণেশের ক্ষমতা ক্ষুদ্রতম বাধাও অতিক্রম করার; তিনি বিনম্র ইঁদুরের উপর চড়েন, যা বোঝায় কোনো বাধাই তাঁর কৃপার কাছে অতি ছোট নয়।
মিষ্টান্ন নৈবেদ্যের গুরুত্ব
তৃতীয় শ্লোকে পান, ফুল, ফল এবং বিশেষ করে ‘লাড্ডু’—গোল, মিষ্টি মোদক যা গণেশের প্রিয় খাবার—এর নৈবেদ্যের কথা আছে। ‘সন্ত করেঁ সেবা’ (সাধুরা সেবা করেন) পঙ্ক্তিটি দেখায় যে নিবেদন একটি ভক্তিপূর্ণ সেবা, শুধু আনুষ্ঠানিক ক্রিয়া নয়।
গণেশের নামে আরোপিত অলৌকিক কাজ
পঞ্চম শ্লোকে নির্দিষ্ট বরের তালিকা আছে: অন্ধকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া, কুষ্ঠরোগ সারানো, নিঃসন্তান দম্পতিকে সন্তান দেওয়া এবং দরিদ্রকে ধন দেওয়া। এই উদাহরণগুলি দেখায় যে এই আরতি আধ্যাত্মিক আশীর্বাদের পাশাপাশি বাস্তব, জাগতিক সাহায্যের জন্যও পাঠ করা হয়।
সুরদাসের সঙ্গে ঐতিহ্যগত সংযোগ
ষষ্ঠ শ্লোকে স্বাক্ষর পঙ্ক্তি ‘সুর শ্যাম শরণ আয়ে’ রয়েছে, যেখানে ‘সুর’ নামটি আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে উল্লিখিত। এজন্যই এই আরতিকে জনপ্রিয়ভাবে ষোড়শ শতকের অন্ধ ভক্তকবি সুরদাসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই সংযোগ স্বাক্ষর ও মৌখিক ঐতিহ্যের উপর নির্ভর করে, উদ্ধৃত পাণ্ডুলিপির উপর নয়; তাই একে প্রমাণিত নয়, বরং ঐতিহ্যগত হিসেবে দেখাই শ্রেয়।
Ganesh
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
