শ্রী গণেশ চালিশা
বিঘ্নহর্তা গণেশের স্তুতিতে রচিত চল্লিশ শ্লোকের এই স্তোত্র প্রজ্ঞা, সমৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোগের সূচনায় সাফল্যের জন্য পাঠ করা হয়।
শ্লোক
মঙ্গলাচরণ (দোহা)
চালীসা পাঠের পূর্বে গুরু বন্দনা ও মঙ্গলাচরণ দোহা।
জয় গণপতি, সদগুণের আবাস, কবিবরের মুখে কৃপালু। বিঘ্নহরণ, মঙ্গলকারী, জয় জয় গিরিজালাল।
শ্লোক Dohā
চালীসা (৪০টি চৌপাই)
প্রভুর অপার মহিমা, বল ও করুণার গুণকীর্তনকারী মূল ৪০টি চৌপাই।
জয় জয় জয় গণপতি গণরাজু। মঙ্গলভরণ, শুভ কাজের করণ।
শ্লোক 1
জয় গজবদন, সদন সুখদাতা। বিশ্ববিনায়ক, বুদ্ধি বিধাতা।
শ্লোক 2
বক্র তুণ্ড, শুচি ও সুন্দর শুঁড়। তিলক ও ত্রিপুণ্ড ললাটে, মন ভাবন।
শ্লোক 3
রাজিত মণি ও মুক্তার মালা বক্ষে। সোনার মুকুট শিরে, বিশাল নয়ন।
শ্লোক 4
পুস্তক করে, কুঠার, ত্রিশূল। মোদক ভোগ ও সুগন্ধি ফুল।
শ্লোক 5
সুন্দর পীতাম্বর তন সাজিত। চরণে পাদুকা, মুনি মনে রাজিত।
শ্লোক 6
ধন্য শিবপুত্র, ষড়ানন ভ্রাতা। গৌরী ললন, বিশ্ববিখ্যাত।
শ্লোক 7
ঋদ্ধি ও সিদ্ধি তোমার চামর ধরে। মূষক বাহন দ্বারে শোভিত।
শ্লোক 8
কহি তোমার জন্মের শুভ কথা। অতি বিচিত্র, অতি মঙ্গলকারী।
শ্লোক 9
এক সময় গিরিরাজকুমারী। পুত্র হেতু তপ করিলেন ভারী।
শ্লোক 10
যজ্ঞ যখন পূর্ণ হলো অনূপা। তখন তুমি পৌঁছলে দ্বিজ রূপ ধরি।
শ্লোক 11
অতিথি জেনে গৌরী সুখারিণী। বহুবিধ সেবা করিলেন তোমার।
শ্লোক 12
অতি প্রসন্ন হয়ে তুমি বর দিলে। মাতা-পুত্রের হিতে যে তপ করিলে।
শ্লোক 13
মিলিবে পুত্র তুমি, বুদ্ধি বিশালা। গর্ভধারণ ছাড়া এই কালে।
শ্লোক 14
গণনায়ক, গুণজ্ঞান নিধান। পূজিত প্রথম রূপ ভগবানের।
শ্লোক 15
এ কথা বলে অন্তর্ধান হলে। পালনাতে বালক প্রকাশ পেলে।
শ্লোক 16
বালক দেখে সকলে মুচকি হাসে। অতি সুখে উর অধিক না পারে।
শ্লোক 17
লালিত কোলে শিবের, কোলে উমার। নভ থেকে দেবগণ পুষ্প বর্ষে।
শ্লোক 18
সকল লোক উৎসব অধিকাই। বাজে মন্দিরে শঙ্খ ও শাহনাই।
শ্লোক 19
নামকরণ তখন ঋষিগণ করিলেন। শ্রী গণেশ নাম শুভ দিলেন।
শ্লোক 20
শম্ভু ও উমা বহু দান লুটান। সুর, নর, মুনি সকলে সুখ পান।
শ্লোক 21
এক সময় এলেন শনি জ্ঞানী। বালক রূপ দেখে হরষিত।
শ্লোক 22
দেখিলেন রূপ শনি, সব সুখ পেলেন। দৃষ্টি ফেরাতে শির উড়ে নভে গেল।
শ্লোক 23
হাহাকার মাচিল কৈলাসে। শনির দৃষ্টি করিল এই নাশ।
শ্লোক 24
তুরত গরুড়ে চড়ে বিষ্ণু গেলেন। চক্র কেটে শির নিয়ে এলেন।
শ্লোক 25
বালকের ধড়ে শির সংযোজন। প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে সুখ মানো।
শ্লোক 26
নাম প্রথম গণনায়ক দিলেন। বুদ্ধিনিধি, সব গুণ মন্দির করিলেন।
শ্লোক 27
প্রথম পূজ্য, সবে জগতে খ্যাত। সকল মনোরথ পূর্ণ দাতা।
শ্লোক 28
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ মানে। সবে মিলি প্রথম চরণে শির নেয়।
শ্লোক 29
বিঘ্নবিনাশক, মঙ্গলদাতা। ভক্তের সংকট সব হর্তা।
শ্লোক 30
ঋদ্ধি সিদ্ধি সঙ্গে বিরাজিত দেব। দেব দানব সবে নিত্য সেবা করে।
শ্লোক 31
যে এই পাঠ করে নিত্য ধ্যানে। তার মেলে পরম পদ জ্ঞান।
শ্লোক 32
ধন ধান্য ও সকল সুখ। পুত্র পৌত্র সুখ মেলে বিশাল।
শ্লোক 33
বিপত্তি কাটে, সব সংকট নাশে। যে গণেশ চালীসা গায়।
শ্লোক 34
নিত্য নিয়মে উঠে পাঠ করায়। সকল মনোরথ সিদ্ধি পায়।
শ্লোক 35
ভূত-পিশাচ কাছে না আসে। মহাবলী নাম যখন শুনায়।
শ্লোক 36
সংবৎ-সংবৎসর সুখ হয়। যে এই পাঠ করে নর কেউ।
শ্লোক 37
কবিকুল কমল বিমল বুদ্ধিদাতা। জয় গণপতি, সব সুখের দাতা।
শ্লোক 38
চারি পদার্থ পায় জ্ঞানী। যে জন করে গণেশ গুণ গানি।
শ্লোক 39
চরণ শরণ নিজ দাসে দীজৈ। সংকট হর, দয়া মোরে করো।
শ্লোক 40
সমাপন দোহা
প্রভু যেন হৃদয়ে চিরকাল বাস করেন সেই প্রার্থনা ও চালীসার সমাপ্তি দোহা।
শ্রী গণেশ এই চালীসা, পাঠ করে যে কেউ। নিত্য নব মঙ্গল গৃহে বাসে, সব সুখ সম্পত্তি হয়।
শ্লোক Dohā 1
সহস্র বদন গুণ গায়, শেষ ও শারদা ধ্যান। দীনবন্ধু দয়াল প্রভু, দীজৈ ভক্তি দান।
শ্লোক Dohā 2
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই স্তোত্রটি হিন্দু ঐতিহ্যের অন্তর্গত এবং 'চালীসা' ধারার অংশ, অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট দেবতাকে উৎসর্গীকৃত চল্লিশ শ্লোকের রচনা। এর রচয়িতা নিয়ে মতভেদ আছে: স্তোত্রের শেষ শ্লোকে রাম সুন্দর প্রভু দাস নামে এক রচয়িতার নাম আছে, আবার জনপ্রিয় ঐতিহ্যে কখনো তুলসীদাসের নামও করা হয়। কোনো একক রচয়িতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। এর শ্লোকগুলি পুরাণে বর্ণিত একই গণেশ-কথার উপর ভিত্তি করে রচিত, যেমন তাঁর হাতির মস্তক এবং বিঘ্নহর্তা হিসেবে তাঁর ভূমিকা। ভক্তেরা গণেশ চতুর্থীর মতো বিশেষ দিনে অথবা প্রতিদিন গণেশ চালীসা পাঠ করেন, কঠিনতা অতিক্রম ও লক্ষ্য অর্জনে গণেশের কৃপা প্রার্থনা করে।
এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Ram Sunder Prabhu Das
Ram Sunder Prabhu Das-এর আরও
আপনি কি জানেন?
গঠন ও মাপকাঠি
শ্রী গণেশ চালিসা মোট ৪২টি পদের সমন্বয়ে গঠিত—প্রথমে একটি দোহা, তারপর ৪০টি চৌপাই এবং শেষে আরেকটি দোহা। প্রতিটি চৌপাই ১৬ মাত্রার চারটি পংক্তির ছন্দে রচিত, আর দোহা ১৩ ও ১১ মাত্রার দুই পংক্তির ছন্দ।
প্রথাগত রচয়িতা
এই স্তোত্রটি ১৬শ শতকের বিখ্যাত সাধক কবি তুলসীদাসের রচনা বলে প্রচলিত, যিনি হনুমান চালিসাও রচনা করেছিলেন। তবে কিছু পণ্ডিত এটিকে অজ্ঞাতনামা রচয়িতার বলে মনে করেন।
জন্মকাহিনী ও শনির ঘটনা
চৌপাই ১০-২৭-এ গণেশের জন্মবৃত্তান্ত বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। পার্বতী ঘোর তপস্যার পর পুত্রলাভ করেন, কিন্তু শনিদেবের দৃষ্টিতে শিশুর মস্তক উড়ে যায়। বিষ্ণু গরুড়ে চড়ে এসে চক্র দিয়ে একটি হস্তিমস্তক এনে সংযোগ করেন এবং প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন।
প্রার্থনার ফলশ্রুতি
চৌপাই ৩২-৩৭ ও শেষ দোহায় বলা হয়েছে, নিয়মিত পাঠে ধনধান্য, পুত্রপৌত্র, সর্ব সুখ এবং বিপদমুক্তি লাভ হয়। ভূত-পিশাচও কাছে ঘেঁষে না। এটি গৃহে নিত্য নব মঙ্গল ও সমৃদ্ধি আনে।
গণেশের প্রতীকী বর্ণনা
চৌপাই ২-৬-তে গণেশের রূপবর্ণনায় বক্রতুণ্ড, শোভন শুঁড়, তিলক ও ত্রিপুণ্ড, মুক্তামালা, সোনার মুকুট, পুস্তক, কুঠার ও ত্রিশূল, মোদক, পীতাম্বর এবং পদুকা উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি অলংকার ও অস্ত্র তাঁর জ্ঞান, শক্তি ও সৌভাগ্যের প্রতীক।
Ganesh
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
