তিন শরণ ও পাঁচ শীল
এটি বৌদ্ধধর্মের তিনটি রত্ন এবং পাঁচটি শীলের কাছে আশ্রয় গ্রহণের প্রার্থনা।
শ্লোক
আমি বুদ্ধের শরণ গ্রহণ করি, আমি ধর্মের শরণ গ্রহণ করি, আমি সংঘের শরণ গ্রহণ করি।
শ্লোক 1
দ্বিতীয়বার আমি বুদ্ধের শরণ গ্রহণ করি, দ্বিতীয়বার আমি ধর্মের শরণ গ্রহণ করি, দ্বিতীয়বার আমি সংঘের শরণ গ্রহণ করি।
শ্লোক 2
তৃতীয়বার আমি বুদ্ধের শরণ গ্রহণ করি, তৃতীয়বার আমি ধর্মের শরণ গ্রহণ করি, তৃতীয়বার আমি সংঘের শরণ গ্রহণ করি।
শ্লোক 3
আমি প্রাণীহত্যা থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করি।
শ্লোক 4
আমি অদত্তবস্তু গ্রহণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করি।
শ্লোক 5
আমি কামমিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করি।
শ্লোক 6
আমি মিথ্যাবাক্য থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করি।
শ্লোক 7
আমি মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় বস্তু সেবন থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করি।
শ্লোক 8
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এটি বৌদ্ধধর্মের অত্যন্ত মৌলিক ও প্রাচীন একটি প্রার্থনা যা পালি ভাষায় রচিত। তিন শরণ এবং পাঁচ শীল পালন করার অঙ্গীকার এতে অন্তর্ভুক্ত। বৌদ্ধ অনুসারীরা বিভিন্ন উৎসবে ও প্রতিদিনের প্রার্থনায় এই পঙ্ক্তিগুলো আবৃত্তি করেন। এটি বৌদ্ধধর্মের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। প্রথম অংশ তিন শরণ যখন কেউ বৌদ্ধ হয় তখন বলা হয়। দ্বিতীয় অংশ পাঁচটি নৈতিক শীল যা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করা হয়। পালি ভাষায় এই প্রার্থনা সংরক্ষিত রয়েছে বুদ্ধকাল থেকেই।
আপনি কি জানেন?
তিন শরণ
এই স্তবের প্রথম তিনটি অংশ বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের প্রতি শরণাগত (আশ্রয় গ্রহণ) প্রকাশ করে। প্রতিটি শরণ তিনবার উচ্চারণ করা হয়—প্রথমবার, দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার—যা গভীর প্রতিশ্রুতি ও আন্তরিকতার প্রতীক। বৌদ্ধ ধর্মে এই ‘তিসরন’ (তিন শরণ) গ্রহণই একজন বৌদ্ধ হিসেবে পরিচিত হওয়ার মূল ভিত্তি।
পাঁচটি শীল
এর পরের পাঁচটি পংক্তি ‘পঞ্চশীল’ নামে পরিচিত, যা বৌদ্ধ অনুশীলনের নৈতিক ভিত্তি। এগুলি হল: প্রাণিহত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা ও মাদকদ্রব্য সেবন না করা। প্রতিটি শীল ‘বিরমণী-সিক্খাপদং সমাদিযামি’ (আমি এই শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি) বলে উচ্চারণ করা হয়, যা ব্যক্তিগত সংকল্পের স্পষ্ট অভিব্যক্তি।
প্রতিদিনের আবৃত্তি
এই স্তবটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দৈনন্দিন প্রার্থনার অংশ, বিশেষ করে উপোসথ দিনে বা মন্দিরে গুরুজনদের সামনে শরণ ও শীল গ্রহণের সময়। এটি পালি ভাষায় রচিত, যা বুদ্ধের সময়ের একটি প্রাচীন ভারতীয় ভাষা, এবং বর্তমানে থেরবাদী বৌদ্ধ দেশগুলোতে (শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড) এটি অক্ষতভাবে সংরক্ষিত।
সর্বজনীন নৈতিকতা
পঞ্চশীলের বিষয়গুলি শুধু বৌদ্ধ ধর্মের জন্য সীমাবদ্ধ নয়—অহিংসা, সত্যবাদিতা ও মাদকবিরোধিতা প্রায় সব ধর্ম ও সংস্কৃতিতেই সম্মানিত। এই স্তবটির মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের জীবনে এই সার্বজনীন মানবিক মূল্যবোধগুলোকে পুনরায় স্মরণ ও গ্রহণ করে।
Buddha
বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
