মেত্তা সুত্ত (মৈত্রী সূত্র)
মেত্তা সুত্ত (সুত্তনিপাত 1.8): বুদ্ধের শিক্ষা যা সকল প্রাণীর প্রতি অসীম মৈত্রী ভাবনা বিকাশের বিষয়ে বর্ণনা করে, ঐতিহ্যগতভাবে আশীর্বাদ এবং সুরক্ষা হিসেবে পঠিত হয়।
শ্লোক
যিনি কল্যাণকর্মে দক্ষ, তিনি শান্তিপদ উপলব্ধি করে যা করণীয় তা করুন—সক্ষক, সরল, অতি সরল, বিনীত, কোমল ও অহংকারহীন হবেন।
শ্লোক 1
সন্তুষ্ট ও সহজে পালনীয়, অল্পকৃত্য ও লঘু বৃত্তি, শান্তেন্দ্রিয় ও নিপুণ, কুলে অনভিমানী ও অননুগদ্ধ হবেন।
শ্লোক 2
এমন কোনো ক্ষুদ্র আচরণ করবেন না যা জ্ঞানীজন নিন্দা করেন। সুখী ও নিরাপদ হোন, সকল সত্ত্বা সুখিতচিত্ত হোন।
শ্লোক 3
যত প্রাণী আছে, চঞ্চল বা স্থির, অনবশেষে—দীর্ঘ, বৃহৎ, মধ্যম, খর্ব, সূক্ষ্ম ও স্থূল।
শ্লোক 4
দৃষ্ট বা অদৃষ্ট, দূরে বা নিকটে বাসকারী, জাত বা জন্মপ্রার্থী—সকল সত্ত্বা সুখিতচিত্ত হোন।
শ্লোক 5
পরস্পরকে প্রতারিত করবেন না, কখনো কাউকে অবজ্ঞা করবেন না, ক্রোধ ও প্রতিঘাতের বশে পরস্পরের দুঃখ কামনা করবেন না।
শ্লোক 6
যেমন মাতা নিজ পুত্রকে, একমাত্র পুত্রকে প্রাণ দিয়ে রক্ষা করেন, তেমনি সকল প্রাণীর প্রতি অপরিমাণ চিত্ত ভাবনা করুন।
শ্লোক 7
আর সমগ্র জগতে মৈত্রীচিত্ত অপরিমাণ ভাবনা করুন—ঊর্ধ্বে, অধো ও তির্যকে, অবাধ, বৈরহীন ও শত্রুতাহীন।
শ্লোক 8
দাঁড়িয়ে, চলতে, বসে বা শুয়ে, যতক্ষণ জাগ্রত, এই স্মৃতি অধিষ্ঠিত করুন—একে ব্রহ্মবিহার বলে এখানে।
শ্লোক 9
দৃষ্টিতে অনাসক্ত হয়ে, শীলবান, দর্শনসম্পন্ন, কামে আসক্তি জয় করে—তিনি আর কখনো গর্ভশয্যায় পুনর্জন্ম লাভ করেন না।
শ্লোক 10
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
মেত্তা সুত্ত থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্মের পালি ত্রিপিটকের সুত্তনিপাত অংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। ঐতিহ্যগতভাবে এটি আশীর্বাদ এবং ধ্যান নির্দেশিকা হিসেবে পঠিত হয়, সাধারণত ভিক্ষু এবং গৃহস্থরা করুণা চাষ করতে, ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে এবং নিঃশর্ত প্রেমের মন বিকশিত করতে এটি পাঠ করেন। সূত্রটি বিনয়, সন্তুষ্টি এবং অহিংসার মতো গুণাবলীকে জোর দেয় এবং উচ্চ জগতে পুনর্জন্ম সহ এই ধরনের অনুশীলনের ফল বর্ণনা করে। এটি সুত্তনিপাত 1.8 এবং খুদ্দকপাঠ 9 হিসেবে উপস্থিত রয়েছে।
কথা ও মাহাত্ম্য
করনীয় মত্তা সূত্র হলো বৌদ্ধ ঐতিহ্যের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ, যা সমস্ত জীবিত সত্তার প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা ও সদিবস্থা জাগিয়ে তোলার শিক্ষা দেয়। এটি থেরবাদী বৌদ্ধধর্মে প্রতিদিন পাঠ করা হয় এবং ধ্যান ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
সম্পূর্ণ কথা পড়ুন →এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Gautama Buddha · Founder of Buddhism · c. 5th–6th century BCE, Northern India/Nepal
Born Siddhartha Gautama in Lumbini, he attained enlightenment and spent the rest of his life teaching the Dhamma across northern India. His discourses (Suttas), preserved orally for generations before being written down in the Pali Canon, form the doctrinal foundation of Buddhism.
আপনি কি জানেন?
পরিচিতি
করণীয় মেত্ত সূত্ত বুদ্ধের শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি পালি ত্রিপিটকের সুত্তনিপাতের অন্তর্গত এবং ভিক্ষু ও সাধারণ মানুষের জন্য মৈত্রী ভাবনার পদ্ধতি বর্ণনা করে। এই সূত্তটি প্রতিদিনের ধ্যান ও মঙ্গল পাঠে ব্যবহৃত হয়।
সাধকের গুণাবলী
প্রথম দুই পদে একজন সত্যিকারের মৈত্রী ভাবকের গুণাবলী উল্লেখ করা হয়েছে: সরল, নম্র, সন্তুষ্ট, লঘু জীবনযাপনে অভ্যস্ত, ইন্দ্রিয় সংযত, বিবেকবান, এবং অহংকারহীন। এই গুণগুলি অর্জনের মাধ্যমেই প্রকৃত মৈত্রী সম্ভব।
সর্বব্যাপী মৈত্রী
তৃতীয় থেকে পঞ্চম পদে সমস্ত প্রাণীর প্রতি নির্ভেজাল মৈত্রী বিস্তারের কথা বলা হয়েছে – যারা ভয় পায় বা স্থির, বড় বা ছোট, দৃশ্যমান বা অদৃশ্য, দূরে বা কাছের, জন্মেছে বা জন্ম নিতে চলেছে। কাউকে প্রতারণা না করা, কাউকে তুচ্ছ না করা, কারও প্রতি রাগ না পোষণ – এই নীতিগুলি মৈত্রীর ভিত্তি।
মাতৃ সাদৃশ্য
ষষ্ঠ পদে সবচেয়ে বিখ্যাত উপমা: যেমন মা নিজের একমাত্র সন্তানকে প্রাণ দিয়ে রক্ষা করেন, তেমনই প্রতিটি প্রাণীর প্রতি সীমাহীন মৈত্রী চিত্ত গড়ে তোলা উচিত। এই উপমা মৈত্রী ভাবনার তীব্রতা ও নিঃস্বার্থতা বোঝায়।
চর্চা ও ফল
অষ্টম ও নবম পদে পরামর্শ দেয়া হয়েছে – দাঁড়িয়ে, হাঁটতে, বসে বা শুয়ে যে কোনো অবস্থায়, জাগ্রত থাকাকালে এই মৈত্রী স্মৃতি ধারণ করা উচিত। যিনি এই 'ব্রহ্ম বিহার' (মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, উপেক্ষা) অনুশীলন করেন তিনি পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্ত হন। এই সূত্তটি 'মঙ্গল সূত্ত' ও 'রতন সূত্ত'-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষা পাঠ (পরিত্ত) হিসেবে সমাদৃত।
Buddha
বৌদ্ধধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
