উবসগ্গহরং স্তোত্র
পার্শ্বনাথের স্তুতি
পাঁচটি শ্লোকের এই জৈন স্তোত্র, যা নবস্মরণের একটি; এতে তেইশতম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথকে আহ্বান করে বাধা অপসারণ ও মুক্তিলাভের প্রার্থনা করা হয়।
শ্লোক
আমি বন্দনা করি উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে, সর্বজ্ঞ অর্হৎকে। তাঁকে প্রণাম করে, সেই দীপ্তিমানকে, আমার সমস্ত পাপকর্মের বিনাশ হোক।
শ্লোক 1
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও প্রশংসা সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 2
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও শ্রদ্ধা সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 3
শ্রুত ধর্মে স্থির চিত্তে বাধা-হর্তা ভগবান পার্শ্বকে প্রণাম করে তিনি সুখী ও কুশলে সিদ্ধত্ব লাভ করেন, সিদ্ধদের সঙ্গে মুক্তি অর্জন করেন।
শ্লোক 4
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও পুণ্য সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 5
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও বীর্য সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 6
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও সমতা সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 7
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও চারিত্র্য সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 8
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও তপ সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 9
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও সংযম সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 10
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও সমাধি সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 11
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও শুদ্ধতা সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 12
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও মুক্তি সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 13
উপসর্গহর বীর পার্শ্বনাথকে হৃদয় দিয়ে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 14
উপসর্গহর জিন পার্শ্বনাথকে হৃদয় দিয়ে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 15
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও জ্ঞান সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 16
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও দর্শন সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 17
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও চারিত্র্য সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 18
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে হৃদয় ও তপ সহকারে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 19
উপসর্গহর বীর পার্শ্বনাথকে হৃদয় দিয়ে প্রণাম করে, সাধক সিদ্ধি লাভ করেন, সুস্থির হন এবং সিদ্ধদের সঙ্গেই মুক্তিলাভ করেন।
শ্লোক 20
উপসর্গহর পার্শ্বনাথকে শ্রদ্ধাপূর্বক হৃদয় দিয়ে প্রণাম করে, আমার সমস্ত পাপকর্ম বিনাশ করুন।
শ্লোক 21
ওঁ হ্রীঁ পার্শ্বনাথায় নমঃ। ওঁ হ্রীঁ উপসর্গহরায় নমঃ। ওঁ হ্রীঁ ভদ্রবাহুস্বামিনে নমঃ।
শ্লোক 22
এইভাবে উপসর্গহর স্তোত্র সম্পূর্ণ হল।
শ্লোক 23
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এটি নবস্মরণের একটি, অর্থাৎ শ্বেতাম্বর মূর্তিপূজক পরম্পরায় পাঠ করা নয়টি পবিত্র স্তোত্রের মধ্যে একটি, এবং প্রাকৃত ভাষায় রচিত পাঁচটি শ্লোক নিয়ে গঠিত। ঐতিহ্য অনুসারে এটি জৈন সাধু ভদ্রবাহুর রচনা, যদিও প্রকৃত রচয়িতা নিশ্চিত নন এবং বিষয়টি ঐতিহ্যের উপর নির্ভরশীল। দৈনিক প্রার্থনা, ধ্যান বা ব্যক্তিগত বাধার সম্মুখীন হলে এই স্তোত্র প্রায়শই পাঠ করা হয়, কারণ বিশ্বাস করা হয় যে এটি পার্শ্বনাথের শক্তিকে আহ্বান করে, নেতিবাচক কর্ম বিলীন করে এবং জ্ঞানের দিকে পরিচালিত করে।
এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Acharya Bhadrabahu
আপনি কি জানেন?
স্তোত্রের পরিচয়
এই স্তোত্রটি জৈন ধর্মের ২৩তম তীর্থংকর পার্শ্বনাথের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। এটি 'উবসগ্গহরং স্তোত্র' নামে পরিচিত, যার অর্থ 'বিপদ-নাশক স্তোত্র'। স্তোত্রটি আর্ধমাগধী প্রাকৃত ভাষায় রচিত, যা প্রাচীন জৈন সাহিত্যের মূল ভাষা।
রচয়িতা
এই স্তোত্রের রচয়িতা জৈন আচার্য ভদ্রবাহু স্বামী। তিনি খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন এবং জৈন সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। মহাবীরের পরবর্তী যুগে জৈন ধর্মের প্রচারক হিসেবে তিনি বিখ্যাত।
গঠন ও পুনরাবৃত্তি
স্তোত্রটির ২০টি শ্লোকের প্রতিটিতে 'উবসগ্গহরং পাসং' (পার্শ্বনাথ, বিপদ-নাশক) দিয়ে শুরু হয় এবং তারপর ভিন্ন ভিন্ন গুণ (যেমন জ্ঞান, দর্শন, চরিত্র, তপস্যা, সংযম ইত্যাদি) সহ হৃদয় দিয়ে নমস্কার করা হয়। প্রতিটি শ্লোকের শেষে 'সিদ্ধিং গও সুহট্ঠো সিদ্ধেহিং সহ মোক্খলাভেণ' (সিদ্ধের সাথে মোক্ষলাভ) বলা হয়েছে। এই কাঠামো ধ্যান ও নিষ্ঠার প্রতীক।
প্রার্থনা ও মন্ত্র
শেষের দিকে একটি প্রার্থনা শ্লোক (২১ নম্বর) আছে যেখানে 'সর্ব পাপকর্মের বিনাশ' প্রার্থনা করা হয়েছে। তারপর পার্শ্বনাথ ও ভদ্রবাহু স্বামীর মন্ত্র (ওঁ হ্রীং পার্শ্বনাথায় নমঃ, ওঁ হ্রীং উবসগ্গহরায় নমঃ, ওঁ হ্রীং ভদ্রবাহুস্বামিনে নমঃ) দেওয়া আছে। এই অংশটি স্তোত্রটির শক্তিশালী ও প্রয়োগগত দিক।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
জৈন ধর্মে এই স্তোত্র পাঠ করলে বিপদ, কষ্ট ও পাপ দূর হয় বলে বিশ্বাস। প্রতিটি শ্লোকের পুনরাবৃত্তি এবং ভিন্ন গুণের উল্লেখ ভক্তকে পার্শ্বনাথের বিভিন্ন গুণাবলীর ধ্যানে নিমগ্ন করতে সহায়তা করে। এটি মোক্ষলাভের পথে একটি সহায়ক স্তোত্র হিসেবে সমাদৃত।
Parshvanatha
জৈনধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
