জয় পার্শ্ব জিনেশ্বর আরতি
এটি জৈন ধর্মের ২৩তম তীর্থংকর পার্শ্বনাথের প্রশংসায় রচিত একটি ভক্তিমূলক গান (আরতি)। গানটিতে তাঁর জন্ম, তপস্যা, ভক্তদের প্রতি করুণা এবং মুক্তিদানের ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
শ্লোক
জয় পার্শ্ব জিনেশ্বর! আমি আপনার আরতি নিবেদন করি। আপনি ভবসাগরের ত্রাণকর্তা, তাই আমি আপনাকে দর্শন করি। জয় পার্শ্ব জিনেশ্বর!
শ্লোক 1
আপনার কায়া শ্বেতবর্ণ, মস্তকে ছত্র বিরাজ করে। নাগরাজ ইন্দ্রের ফণার ছত্র আপনার মাথায় অতি শোভা পায়। জয় পার্শ্ব জিনেশ্বর!
শ্লোক 2
আপনি কাশী নগরে জন্মেছিলেন, রাজা অশ্বসেনের পুত্ররূপে। মাতা বামাদেবীর কাছে আপনি প্রিয় নন্দন। জয় পার্শ্ব জিনেশ্বর!
শ্লোক 3
কমঠ অসুর উপদ্রব করেছিল, ভীষণ উপসর্গ এনেছিল। ধরণেন্দ্র ও পদ্মাবতী এসে আপনার পাশে থেকে রক্ষা করেছিলেন। জয় পার্শ্ব জিনেশ্বর!
শ্লোক 4
জ্ঞান-দর্শনের জ্যোতি জ্বালিয়ে আপনি মুক্তির মহল লাভ করেছেন; আপনার দর্শনপ্রাপ্ত ভক্তদের সংকট আপনি দূর করেন। জয় পার্শ্ব জিনেশ্বর!
শ্লোক 5
একাগ্রচিত্তে আমি আরতি করি, আপনি গতিদাতা। ‘জ্ঞানসুন্দর’ আপনার গুণগান করে সংসার-সাগর থেকে উত্তীর্ণ হন। জয় পার্শ্ব জিনেশ্বর, আমি আরতি নিবেদন করি।
শ্লোক 6
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এটি জৈন ধর্মের তীর্থংকর পার্শ্বনাথের উদ্দেশ্যে রচিত একটি ভক্তিমূলক আরতি। পার্শ্বনাথ জৈন ঐতিহ্যের ২৩তম তীর্থংকর এবং তাঁকে শান্তি ও জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। এই আরতিটি সাধারণত জৈন মন্দিরে বা বাড়িতে সন্ধ্যার প্রার্থনার সময় প্রদীপ জ্বালিয়ে গাওয়া হয়।
আপনি কি জানেন?
পার্শ্বনাথ কে?
জৈন ধর্মের ২৩তম তীর্থঙ্কর (আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক) হলেন পার্শ্বনাথ। তাঁকে 'পার্শ্ব' বা 'পার্শ্ব জিনেশ্বর' নামেও ডাকা হয় — 'জিন' অর্থ জয়ী, আর 'ঈশ্বর' অর্থ প্রভু। এই আরতিটি সেই মহান ব্যক্তিত্বের উদ্দেশ্যে নিবেদিত।
সবুজ ছত্রের রহস্য
এই স্তোত্রে বলা হয়েছে পার্শ্বনাথের মাথার ওপর সাপের ফণা ছত্রের মতো শোভা পায়। কথিত আছে, তাঁর ধ্যানের সময় এক ভয়ানক ঝড়-বৃষ্টি ও বিপদ এসেছিল, তখন সর্পরাজ ধরণেন্দ্র ও তাঁর সহধর্মিণী পদ্মাবতী এসে সাপের ফণা দিয়ে ছত্র তৈরি করে তাঁকে রক্ষা করেন। এই কারণে পার্শ্বনাথের মূর্তিতে প্রায়ই সাপের ফণা দেখা যায়।
রাজকীয় জন্ম
পার্শ্বনাথের জন্ম হয়েছিল বারাণসী (কাশী) নগরীতে, রাজা অশ্বসেন ও রানি বামাদেবীর ঘরে। তিনি ছিলেন ইক্ষ্বাকু বংশের রাজপুত্র — একই বংশে জন্মেছিলেন রাম ও জৈন ধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভদেব।
কমঠ অসুরের পরীক্ষা
পার্শ্বনাথ যখন কঠোর তপস্যায় নিমগ্ন, তখন অসুর কমঠ তাঁকে বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে — ঝড়, বৃষ্টি, এমনকি অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপদ সৃষ্টি করে। কিন্তু প্রতিবারই ধরণেন্দ্র ও পদ্মাবতী এসে তাঁকে রক্ষা করেন। এই ঘটনা জৈন সাহিত্যে 'উপসর্গ' বা আধ্যাত্মিক পরীক্ষা হিসেবে বিখ্যাত।
মুক্তির পথ
পার্শ্বনাথ তাঁর জীবনে চারটি মহাব্রত (অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য) প্রচার করেছিলেন — অপরিগ্রহ বা অ-সংগ্রহের পঞ্চম ব্রতটি পরে মহাবীর যোগ করেন। এই স্তোত্রে তাঁকে 'ভবসাগর তারক' বলা হয়েছে, অর্থাৎ সংসাররূপী সমুদ্র পার করার নৌকাস্বরূপ।
রচয়িতার স্বাক্ষর
শেষ স্তবকে 'জ্ঞানসুন্দর' নামটি এসেছে — এটি সাধারণত রচয়িতার নিজের নাম বা আধ্যাত্মিক পরিচয়। অনেক ভক্তিমূলক গানে রচয়িতা শেষে নিজের নাম রেখে দেন, যেন পাঠক বা শ্রোতা সেই নাম উচ্চারণ করলে রচয়িতারও কল্যাণ হয়।
Parshvanatha
জৈনধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
