কর্মসমর্পণ মন্ত্র
সম্পূর্ণ সমর্পণের একটি সংস্কৃত শ্লোক: দেহ, বাক্য, মন ও ইন্দ্রিয়ের প্রতিটি কর্ম ভগবান নারায়ণকে নিবেদন; এটি শ্রীমদ্ভাগবত ১১.২.৩৬-এর প্রতিধ্বনি।
শ্লোক
দেহ, বাক্য, মন, ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি, আত্মা অথবা প্রকৃতির স্বভাব দ্বারা আমি যা কিছু করি, সেই সমস্তই পরমেশ্বর নারায়ণের উদ্দেশ্যে সমর্পণ করি।
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এই শ্লোকটি নারায়ণ উপনিষদের অন্তর্গত একটি প্রসিদ্ধ মন্ত্র, যা বৈদিক ও ভাগবত ঐতিহ্যের অংশ। এটি সাধারণত পূজা, প্রার্থনা বা ধ্যানের শেষে বলা হয়—যখন একজন ব্যক্তি তার সমস্ত কাজ, কথা, চিন্তা ও ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়াকে ভগবান নারায়ণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। এই মন্ত্রটি 'সমর্পণ মন্ত্র' নামেও পরিচিত এবং এটি নিত্যপাঠ বা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভক্তির চেতনাকে দৃঢ় করতে ব্যবহৃত হয়।
এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Maharishi Vedavyasa · Ancient Vedic Rishi · Traditional antiquity
Traditionally credited as the compiler of the four Vedas and the author of the Mahabharata (within which the Bhagavad Gita appears) and the Puranas — making him one of the most cited authorial figures in the entire Hindu canon, spanning philosophy, epic narrative, and devotional literature.
আপনি কি জানেন?
উৎস
শ্লোকটি শ্রীমদ্ভাগবত ১১.২.৩৬-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলে; এটি নয় যোগেন্দ্রের একজন ঋষি হবির উপদেশের অংশ, যা তিনি রাজা নিমিকে দিয়েছিলেন। এটি দৈনন্দিন হিন্দু উপাসনায় সবচেয়ে ব্যাপকভাবে পঠিত সমর্পণ-প্রার্থনাগুলির একটি।
অর্থ
শ্লোকের অর্থ: “দেহ, বাক্য, মন, ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি, আত্মা, অথবা আমার স্বাভাবিক প্রকৃতি দিয়ে যা কিছু করি, সবই পরম নারায়ণকে নিবেদন করি।” এটি শুধু আচারের কাজ নয়, প্রতিটি কর্মের সম্পূর্ণ নিবেদন।
গঠন
প্রার্থনায় কর্মের সাতটি করণ বা উপকরণের নাম আছে: দেহ (কায়), বাক্য (বাচ), মন (মনস), ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি, আত্মা এবং জন্মগত প্রকৃতি (প্রকৃতি স্বভাব)। কর্মের সব সম্ভাব্য উৎস এতে ধরা হয়েছে, ফলে কিছুই নিবেদনের বাইরে থাকে না।
ব্যবহার
ভক্তরা প্রায়ই পূজার শেষে, আহারের আগে, বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের পরে এই শ্লোক পাঠ করেন, যাতে সাধারণ কর্মও ভক্তির রূপ নেয়। এটি নারায়ণ উপনিষদ-পাঠের ধারাবাহিকতারও একটি মূল অংশ।
