শ্রী সাই চালিশা
এই কাব্যটি সাঁই বাবার জীবন, তাঁর অলৌকিক লীলা ও ভক্তদের প্রতি অপরিমেয় করুণার এক ভক্তিমূলক বর্ণনা। এটি বাবার অজানা উৎস, তাঁর বিভিন্ন রূপে পূজা, ভক্ত কাশীরামের মতো ভক্তদের প্রতি স্নেহ ও তাঁর বিশ্বজনীন প্রেমের কথা তুলে ধরে।
শ্লোক
প্রথমে সাঁইয়ের চরণে নিজের মাথা নত করি। কীভাবে শিরডিতে সাঁই এলেন, সমস্ত ঘটনা বলব।
শ্লোক 1
কে মাতা, কে পিতা, তা কেউ জানে না। সাঁই কোথায় জন্ম নিলেন, প্রশ্নটি পहेली রয়ে গেল।
শ্লোক 2
কেউ বলে এরা অযোধ্যার রামচন্দ্র ভগবান। কেউ বলে সাঁইবাবা পবনপুত্র হনুমান।
শ্লোক 3
কেউ বলে মঙ্গলমূর্তি শ্রীগজানন হলেন সাঁই। কেউ বলে গোকুলমোহন দেবকীনন্দন হলেন সাঁই।
শ্লোক 4
অনেক ভক্ত শঙ্কর জ্ঞানে বাবাকে ভজে চলেন। কেউ বলে দত্তের অবতার, সাঁইয়ের পূজা করেন।
শ্লোক 5
তাঁকে যাই মানো, সাঁই সত্য ভগবান। বড় দয়ালু, দীনবন্ধু, কতজনকে জীবন দান দিয়েছেন।
শ্লোক 6
বহু বছর আগের ঘটনা, তোমাকে শোনাব। কোনো ভাগ্যবানের শিরডিতে বিয়ে এসেছিল।
শ্লোক 7
তাঁর সঙ্গে ছিল এক অতি সুন্দর বালক। এসে সেখানেই বাস করল, পবিত্র শিরডি নগর করল।
শ্লোক 8
বহু দিন ঘুরে বেড়াল, দর দর ভিক্ষা চাইল। আর এমন লীলা দেখাল, যা জগতে অমর হলো।
শ্লোক 9
যেমন বয়স বাড়ল, তেমনই বাড়ল শান। নগরে ঘরে ঘরে সাঁইবাবার গুণগান শুরু হল।
শ্লোক 10
দিকদিগন্তে গুঞ্জরিত হল সাঁইজির নাম। দীনদুখীর রক্ষা করাই ছিল বাবার কাজ।
শ্লোক 11
বাবার চরণে গিয়ে যে বলে আমি নির্ধন। তাঁরই প্রতি দয়া হয়, খুলে যায় দুঃখের বন্ধন।
শ্লোক 12
কখনো কেউ ভিক্ষা চাইল, দাও বাবা আমাকে সন্তান। 'এবং অস্তু' বলে সাঁই তাকে বর দিতেন।
শ্লোক 13
নিজেই দুঃখী হতেন বাবা, দীনদুখীর অবস্থা দেখে। শ্রী সাঁইয়ের অন্তঃকরণ সাগরের মতো বিরাট ছিল।
শ্লোক 14
এক মাদ্রাসী ভক্ত এল, ঘরের বড় ধনী। অঢেল ধন-সম্পদ, কেবল সন্তান ছিল না।
শ্লোক 15
সাঁইনাথকে মানাতে লাগল, বাবা আমার প্রতি দয়া কর। ঝড়ে দোলা নৌকাকে তুমিই পার কর।
শ্লোক 16
কুলদীপকের অভাবে ধনের মায়া বৃথা। আজ ভিখারি হয়ে বাবা, তোমার শরণে এলাম।
শ্লোক 17
আমাকে পুত্রদান দাও, আমি ঋণী থাকব সারা জীবন। আর কারো আশা নেই, কেবল তোমার উপর ভরসা।
শ্লোক 18
বহু অনুনয়-বিনয় করল, চরণে রাখল মাথা। তখন প্রসন্ন হয়ে বাবা ভক্তকে এই আশীর্বাদ দিলেন।
শ্লোক 19
'আল্লাহ ভালো করবে তোমার', তোমার ঘরে পুত্র জন্ম হবে। তাঁর কৃপা হবে তোমার ও তোমার সেই বালকের উপর।
শ্লোক 20
এখনো কেউ সাঁইয়ের কৃপার পার পায়নি। মাদ্রাসীকে পুত্ররত্ন দিয়ে তাঁর সংসার ধন্য করলেন।
শ্লোক 21
যে তন-মনে তাঁকে ভজে, জগতে তার উদ্ধার হয়। সাঁচে আঁচ নেই, সদা মিথ্যের হয় পরাজয়।
শ্লোক 22
আমি সদা তাঁর সাহায্যে, সদা থাকব তাঁর দাস। সাঁইয়ের মতো প্রভু মিলেছে, এতেই কি কম আশা?
শ্লোক 23
আমারও একদিন এমন ছিল, রুটি জুটত না। গায়ে কাপড় দূরে থাক, ছিল কেবল ছোট লেঙ্গটি।
শ্লোক 24
নদী সম্মুখে থাকলেও আমি পিপাসার্ত ছিলাম। দুর্দিন আমার উপর দাবানল বর্ষাত।
শ্লোক 25
পৃথিবী ছাড়া জগতে আমার কোনো অবলম্বন ছিল না। ভিখারি হয়ে দুনিয়ায় দর দর ঠোকর খেতাম।
শ্লোক 26
এমন সময় এক বন্ধু মিলল, যে সাঁইয়ের পরম ভক্ত। জঞ্জালমুক্ত কিন্তু এই জগতে সে আমার মতোই ছিল।
শ্লোক 27
বাবার দর্শনের জন্য দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিল। সাঁইয়ের মতো দয়ামূর্তির দর্শনে প্রস্তুত হল।
শ্লোক 28
পবিত্র শিরডি নগরে গিয়ে দেখলাম মাতাল মূর্তি। ধন্য জন্ম হলো যে আমরা সাঁইয়ের সুরতি দেখলাম।
শ্লোক 29
যেদিন দর্শন করলাম, সমস্ত দুঃখ কাফুর হলো। সমস্ত সংকট মিটল, বিপদের অন্ত হলো।
শ্লোক 30
মান ও সম্মান পেলাম, বাবার কাছ থেকে ভিক্ষায়। জগতে প্রতিবিম্বিত হলাম আমরা সাঁইয়ের আভায়।
শ্লোক 31
বাবা সম্মান দিয়েছেন, মান দিয়েছেন এই জীবনে। এই অবলম্বন নিয়েই হাসতে হাসতে যাব জীবনে।
শ্লোক 32
সাঁইয়ের লীলার আমার মনে এমন প্রভাব পড়ল। মনে হয় জগতের কণায় কণায় তিনি ভরা।
শ্লোক 33
'কাশীরাম' বাবার ভক্ত এই শিরডিতে থাকত। আমি সাঁইয়ের, সাঁই আমার, সে দুনিয়াকে বলত।
শ্লোক 34
সেকর নিজে কাপড় বেচত গ্রাম, নগর, বাজারে। তার হৃদতন্ত্রী ঝংকৃত ছিল সাঁইয়ের ঝংকারে।
শ্লোক 35
স্তব্ধ রাত ছিল, সবাই ঘুমিয়ে, রজনীর আঁচলে চাঁদ-তারা। অন্ধকারে হাত হাত দেখা যাচ্ছিল না।
শ্লোক 36
কাপড় বেচে ফিরছিল হায়! হাট থেকে 'কাশী'। বিচিত্র বড় সংযোগ যে সেদিন সে একা আসছিল।
শ্লোক 37
পথে দাঁড়িয়ে ঘিরে ফেলল তাকে কুটিল, অন্যায়ীরা। মারো, কাটো, লুটো এরই ধ্বনি শোনা গেল।
শ্লোক 38
লুটপাট করে তাকে সেখান থেকে কুটিলরা পালিয়ে গেল। আঘাতে মর্মাহত হয়ে সে সংজ্ঞা হারাল।
শ্লোক 39
অনেকক্ষণ পড়ে রইল সে সেখানেই সেই অবস্থায়। কখন যেন কোনো পলকে কিছু হুঁশ হল।
শ্লোক 40
অজান্তেই তার মুখ থেকে বেরিয়ে পড়ল 'সাঁই'। যার প্রতিধ্বনি শিরডিতে বাবার কানে পৌঁছাল।
শ্লোক 41
তাঁর মন ক্ষুব্ধ হল, বাবা ব্যাকুল হলেন। মনে হল যেন সমস্ত ঘটনা তাঁর সামনেই ঘটল।
শ্লোক 42
উন্মাদের মতো এদিক-ওদিক বাবা ঘুরতে লাগলেন। সামনে যা কিছু এল, তা পাটকাতে লাগলেন।
শ্লোক 43
আর ধধকতে থাকা অঙ্গারে বাবা নিজের হাত দিলেন। সবাই সশঙ্কিত হল, দেখে সেই তাণ্ডব নৃত্য।
শ্লোক 44
সবাই বুঝল যে কোনো ভক্ত বিপদে পড়েছে। সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, বিস্ময়ে পড়ে।
শ্লোক 45
তাকে বাঁচানোর জন্যই বাবা আজ ব্যাকুল। তারই পীড়ায় পীড়িত তাঁর অন্তঃস্থল।
শ্লোক 46
এতক্ষণে বিধি নিজের বিচিত্রতা দেখাল। দেখে জনতার শ্রদ্ধা-সরিতা উচ্ছ্বসিত হল।
শ্লোক 47
সংজ্ঞাহীন ভক্তকে নিয়ে একটি গাড়ি সেখানে এল। সামনে ভক্তকে দেখে সাঁইয়ের চোখ ভরে এল।
শ্লোক 48
শান্ত, ধীর, গম্ভীর সিন্ধুর মতো বাবার অন্তঃস্থল। আজ না জানি কেন বারবার চঞ্চল হয়ে যাচ্ছিল।
শ্লোক 49
আজ দয়ার মূর্তি নিজেই হয়েছিলেন চিকিৎসক। আর ভক্তের জন্য আজ দেব হয়েছিলেন প্রহরী।
শ্লোক 50
আজ ভক্তির বিষম পরীক্ষায় সফল হয়েছিল কাশী। তারই দর্শনের জন্য নগরবাসী উমড়ে এসেছিল।
শ্লোক 51
যখনই এবং যেখানেই কোনো ভক্ত বিপদে পড়ে। তার রক্ষা করতে বাবা আসেন পলকের মধ্যে।
শ্লোক 52
যুগ যুগের সত্য এই, কোনো নতুন কথা নয়। আপদগ্রস্ত ভক্ত হলে নিজেই আসেন অন্তর্যামী।
শ্লোক 53
ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে পূজারী, মানবতার ছিলেন সাঁই। যত প্রিয় হিন্দু-মুসলিম, ততই ছিলেন শিখ-খ্রিস্টান।
শ্লোক 54
মন্দির-মসজিদের ভেদাভেদ ভেঙে ফেললেন বাবা। রাম-রহীম সবই তাঁর, কৃষ্ণ-করীম-আল্লাহতালা।
শ্লোক 55
ঘণ্টার প্রতিধ্বনিতে গুঞ্জরিত হল মসজিদের কোণায় কোণায়। হিন্দু-মুসলিম পরস্পর মিলল, দিন দিন দ্বিগুণ বাড়ল প্রেম।
শ্লোক 56
কত সুন্দর চমৎকার ছিল, এই কায়া পরিচয় দিল। আর নিমের কটুতায়ও মিষ্টি ভরিয়ে দিলেন বাবা।
শ্লোক 57
সবাইকে স্নেহ দিলেন সাঁই, সবাইকে সমান ভালোবাসলেন। যে যা চাইল, বাবা তাকেই তাই দিলেন।
শ্লোক 58
এমন স্নেহশীল পাত্রের নাম যে সদা জপে। পর্বতের মতো দুঃখ থাকলেও পলকে তা দূর হয়।
শ্লোক 59
সাঁইয়ের মতো দাতা আমরা আর দেখিনি। যাঁর কেবল দর্শনেই সব বিপদ দূর হয়।
শ্লোক 60
তনে সাঁই, মনে সাঁই, সাঁই-সাঁই ভজ কর। নিজের তনের সুরতি হারিয়ে তাঁর সুরতি কর।
শ্লোক 61
যখন তুই নিজের সুরতি ত্যাগ করে বাবার সুরতি করবি। আর রাত-দিন বাবা, বাবাই তুই রটাবি।
শ্লোক 62
তবে বাবাকে আরে! বিবশ হয়ে তোমার সুরতি নিতেই হবে। তোমার প্রতিটি ইচ্ছা বাবাকে পূর্ণ করতেই হবে।
শ্লোক 63
জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়া পাগল, আর খুঁজতে বাবাকে। এক জায়গায় কেবল শিরডিতে তুই পাবি বাবাকে।
শ্লোক 64
ধন্য জগতে সেই প্রাণী, যে বাবাকে পেয়েছে। দুঃখে সুখে আট প্রহর সাঁইয়েরই গুণ গেয়েছে।
শ্লোক 65
সংকটের পর্বত পড়ুক, চাই বজ্রপাত হোক। সাঁইয়ের নাম নিয়ে সদা তুমি সবার সামনে দাঁড়িয়ে থাক।
শ্লোক 66
এই বুড়োর কারামত শুনে তুমি হবে হতবাক। শুনে স্তম্ভিত হয়েছে কত চতুর সুজান।
শ্লোক 67
একবার শিরডিতে এক ঢংগী সন্ন্যাসী এসেছিল। ভোলাভালা নগরবাসী জনতাকে ভুলিয়েছিল।
শ্লোক 68
জড়িবুটি দেখিয়ে সেখানে বক্তৃতা করতে লাগল। বলতে লাগল, শোন শ্রোতাগণ, আমার বাড়ি বৃন্দাবন।
শ্লোক 69
আমার কাছে এক ওষুধ আছে, আর অদ্ভুত এর শক্তি। এর সেবন করলেই দুঃখ থেকে মুক্তি হয়।
শ্লোক 70
যদি মুক্ত হতে চাও সংকট থেকে, অসুখ থেকে। তবে আমার নম্র নিবেদন, প্রতি নর ও নারীকে।
শ্লোক 71
নাও কিনে নাও এটি, এর সেবন পদ্ধতি আলাদা। যদিও তুচ্ছ বস্তু, গুণ তার অতি ভারী।
শ্লোক 72
যাদের সন্তানহানি এখানে, যদি আমার ওষুধ খায়। পুত্ররত্ন লাভ হয়, আরে! মনের মতো ফল পায়।
শ্লোক 73
আমার ওষুধ যে না কিনবে, সারা জীবন পস্তাবে। আমার মতো প্রাণী সম্ভবত আর এখানে আসবে না।
শ্লোক 74
দুনিয়া দুদিনের মেলা, মজা-শখ তুমিও কর। যদি এতে সব পাও, তুমিও এটি নাও।
শ্লোক 75
জনতার বিস্ময় বাড়ছে, দেখে তার কারসাজি। সে-ও মনে মনে খুশি, দেখে লোকের নির্বুদ্ধিতা।
শ্লোক 76
বাবাকে খবর দিতে এক সেবক দৌড়ে গেল। শুনে ভ্রুকুটি করলেন, আর সমস্ত বিবেক বিস্মৃত হল।
শ্লোক 77
সেবককে হুকুম দিলেন, তাড়াতাড়ি দুষ্টকে ধরে আন। অথবা শিরডির সীমা থেকে কপটীকে দূর করে দাও।
শ্লোক 78
আমার থাকতে ভোলাভালা শিরডির জনতাকে। কে এমন নীচ যে সাহস করে ঠকাতে?
শ্লোক 79
পলকের মধ্যে এমন ঢংগী, কপটী, নীচ, লুটেরাকে। মহানাশের মহাগর্তে পাঠিয়ে দিই সারা জীবনের জন্য।
শ্লোক 80
সামান্য আভাস পেল মদারী, কুটিল, অন্যায়ী। কাল নাচছে এখন মাথায়, রেগে গেলেন সাঁই।
শ্লোক 81
পলকের মধ্যে সব খেলা বন্ধ করে, পালাল মাথায় পা দিয়ে। মনে মনে ভাবছিল, ভগবান! এখন আর ভালো নেই।
শ্লোক 82
সত্যি, সাঁইয়ের মতো দানী জগতে মিলবে না। ঈশের অংশ সাঁইবাবা, জগতে তাঁর কিছুই কঠিন নয়।
শ্লোক 83
স্নেহ, শীল, সৌজন্য প্রভৃতি অলংকার ধারণ করে। এই দুনিয়ায় যে মানবসেবার পথে অগ্রসর হয়।
শ্লোক 84
সেই জয় করে জগতের জনে জনে অন্তঃস্থল। তার এক উদাসীই জগৎকে বিহ্বল করে দেয়।
শ্লোক 85
যখনই জগতে পাপের ভার বেড়ে বেড়েই যায়। তা মিটানোর জন্যই অবতারী আসেন।
শ্লোক 86
পাপ ও অন্যায় সব কিছু এই জগতের হরণ করে। দূর করে দেন দুনিয়ার দানবকে ক্ষণকালের মধ্যে।
শ্লোক 87
স্নেহসুধার ধারা বর্ষিত হতে থাকে এই দুনিয়ায়। গলায় গলায় মিলতে থাকে জনে জনে পরস্পর।
শ্লোক 88
এমনই অবতারী সাঁই মৃত্যুলোকে এসে। সমতার এই পাঠ শিখিয়েছেন, নিজেকে মিটিয়ে সবাইকে।
শ্লোক 89
নাম 'দ্বারকা মসজিদ' রেখেছিলেন শিরডিতে সাঁই। দাপ, তাপ, সন্তাপ মিটিয়েছিলেন যা কিছু এসেছিল সাঁইয়ের কাছে।
শ্লোক 90
সদা রামের স্মৃতিতে মগ্ন হয়ে বসে থাকতেন সাঁই। আট প্রহর রামনাম ভজে চলতেন সাঁই।
শ্লোক 91
শুকনো-রুক্ষ, তাজা-বাসি, চাই বা পক্বান্ন। সদা প্রেমের ক্ষুধার্ত সাঁইয়ের কাছে সবই সমান।
শ্লোক 92
স্নেহ ও শ্রদ্ধা দিয়ে জন যা কিছু দিয়ে যেত। বড় আগ্রহে সেই ভোজন বাবা পবিত্র করতেন।
শ্লোক 93
কখনো কখনো মন বিনোদনের জন্য বাবা বাগানে যেতেন। প্রমুদ্রিত মনে প্রকৃতির ছটা দেখে আনন্দ পেতেন।
শ্লোক 94
রঙবেরঙের ফুল বাগানের মৃদু মৃদু দুলে দুলে। বিজন প্রান্তর মনে স্নেহসলিল ভরিয়ে দিত।
শ্লোক 95
এমন সুমধুর সময়েও দুঃখ, আপদ, বিপদে জর্জরিত। নিজের মনের ব্যথা বলতে জনতা বাবাকে ঘিরে থাকত।
শ্লোক 96
যাদের করুণ কাহিনী শুনে নয়নকমল ভরে আসত। বিভূতি দিয়ে সমস্ত ব্যথা, শান্তি তাদের অন্তরে ভরিয়ে দিতেন।
শ্লোক 97
জানি না কী অদ্ভুত শক্তি সেই বিভূতিতে ছিল। যা মস্তকে ধারণ করলে সমস্ত দুঃখ হরণ করত।
শ্লোক 98
ধন্য সেই মানুষ যারা সাক্ষাৎ সাঁইবাবার দর্শন পেয়েছেন। ধন্য তাদের কমলকর যারা চরণকমল স্পর্শ করেছেন।
শ্লোক 99
কাশ! নির্ভয় তোমারও সাক্ষাৎ সাঁই মিলত। বছরের পর বছর উজাড় বাগান আজ আবার ফুটত।
শ্লোক 100
যদি আমি শ্রীচরণ ধরে রাখতাম, ছাড়তাম না সারা জীবন। নিশ্চয়ই মানিয়ে নিতাম তাঁকে, যদি সাঁই আমার উপর রুষ্ট হতেন।
শ্লোক 101
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
এটি সাঁই বাবা সম্প্রদায়ের একটি জনপ্রিয় ভক্তিমূলক কাব্য, যা সাধারনত সাঁই বাবার পূজা-অর্চনা ও ভজন সন্ধ্যায় গাওয়া হয়। ঐতিহ্যগতভাবে এটি ‘কাশীরাম’ নামক এক ভক্তের রচনা বলে কথিত আছে, যদিও সঠিক রচনাকাল ও রচয়িতা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই বলে সাধারণভাবে এটি সাঁই বাবার প্রতি নিবেদিত শ্রদ্ধার এক অমূল্য সম্পদ। শিরডি (মহারাষ্ট্র)-এ সাঁই বাবার জীবন ও লীলা কেন্দ্র করে এই কীর্তনের মূল অংশ রচিত।
আপনি কি জানেন?
রহস্যময় জন্ম
সাঁই বাবার জন্ম ও পরিচয় নিয়ে চিরকাল ধরে রহস্য রয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে অযোধ্যার রামচন্দ্র, কেউ হনুমান, কেউ গণেশ, কেউ শিব, আবার কেউ দত্তাত্রেয়ের অবতার বলে মনে করেন। কবি স্পষ্ট করে বলেছেন যে ভক্তরা তাঁকে যাই মনে করুক না কেন, সাঁই সত্যিকারের ভগবান।
মাদ্রাজী ভক্তের পুত্রপ্রাপ্তি
কবিতায় একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যেখানে এক ধনী মাদ্রাজী ভক্ত সন্তানহীন হয়ে সাঁই বাবার শরণাপন্ন হন। সাঁই বাবা তাঁকে 'আল্লাহ ভলা করেগা তেরা' (আল্লাহ তোমার মঙ্গল করবেন) বলে আশীর্বাদ করেন এবং তার পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এটি সাঁই বাবার করুণা ও ভক্তের প্রতি অগাধ ভালোবাসার নিদর্শন।
কবির নিজের অভিজ্ঞতা
কবি নিজের জীবনের এক ভয়াবহ দারিদ্র্যের সময়ের কথা বলেছেন, যখন তার কাছে খাবার বা কাপড় কিছুই ছিল না। সেই সময় এক সাঁই ভক্ত বন্ধুর সাথে দেখা হয় এবং তারা একসঙ্গে শির্ডিতে সাঁই বাবার দর্শনে যান। সাঁই বাবার দর্শন পাওয়ার পর কবির জীবন পাল্টে যায়, তিনি সম্মান ও মর্যাদা লাভ করেন।
ভক্ত 'কাশীরাম'-এর উপর অত্যাচার ও সাঁইয়ের প্রতিক্রিয়া
সাঁই বাবার এক ভক্ত 'কাশীরাম' কাপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একদিন রাতে বাজারের টাকা নিয়ে ফেরার পথে কিছু দুষ্ট লোক তাকে মেরে টাকা লুট করে নিয়ে যায়। অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকা অবস্থায় তার মুখ থেকে 'সাঁই' নাম উচ্চারিত হয়, যা শুনে শির্ডিতে সাঁই বাবা অস্থির হয়ে ওঠেন এবং নিজের হাত জ্বলন্ত অঙ্গারে রাখেন। শেষ পর্যন্ত এক গাড়ি করে সেই ভক্তকে তাঁর কাছে আনা হয়।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সর্বধর্ম সমন্বয়
সাঁই বাবা হিন্দু-মুসলিম সকল ধর্মের ভক্তদের সমান ভালোবাসতেন। তিনি মন্দির-মসজিদের ভেদাভেদ ভেঙে দিয়ে একটি মসজিদকেই 'দ্বারকা মসজিদ' নামে পরিচিত করেন। তাঁর ভক্তদের মধ্যে রাম, রহিম, কৃষ্ণ, করিম ও আল্লাহ—সবাই সমান গুরুত্ব পেতেন। এই ঘটনা ধর্মীয় ঐক্যের এক অসাধারণ উদাহরণ।
নকল সাধুর কাহিনী
একবার এক প্রতারক ভণ্ড সাধু শির্ডিতে এসে জড়িবুটির মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে সরল জনগণকে ঠকানোর চেষ্টা করে। তিনি দাবি করেন যে তাঁর ওষুধ খেলে বন্ধ্যা নারী পুত্র লাভ করে। সাঁই বাবা এই খবর শুনে ক্রুদ্ধ হন এবং তাঁর সেবককে আদেশ দেন ভণ্ডকে ধরে আনতে বা শহর থেকে তাড়িয়ে দিতে। ভণ্ড সাঁই বাবার ক্রোধের কথা শুনে প্রাণভয়ে পালিয়ে যায়।
Sai Baba
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
