বহুত জনম বিছুরে থে মাধো (ভক্ত রবিদাস)
ভক্ত রবিদাসের রাগ ধনাসরীর এই ভজন (অঙ্গ ৬৯৪), যেখানে ঈশ্বর থেকে বিচ্ছেদ ও মিলনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত; শব্দ-পাঠ সংক্রান্ত টীকাটি দেখুন।
শ্লোক
ধনাসরী রাগে — বহু জন্মের পর বিচ্ছিন্ন ছিলাম হে মাধব, এই দাস তোমারই গণনায় ধরা পড়ে। জীবনের ধন, প্রাণের আধার, রামরসের রেখায় মন প্রফুল্ল হয়েছে। (১)
শ্লোক 1
তিনি সদাশয়, সুজ্ঞান, অতুলনীয় রূপশ্রী — প্রাণের স্নেহে তাঁকে ভুলে গেছি। ভ্রমে বিভ্রান্ত হয়ে মন হয়েছে উন্মাদ, যেমন চাতক পাখি প্রেমপিয়াসী। (১) রহাউ।
শ্লোক 2
যে ভঙ্গিতে তারা নানা ক্রীড়া করত, সেই ভঙ্গিতেই মিলন ঘটল। নানা চেষ্টা করে ধ্যান করলাম, তথাপি সেই স্নেহ আমাকে ছাড়ে না। (২)
শ্লোক 3
তিনি নানা রূপে ও বহু রঙে বিচরণ করেন, নবনিধিরও তুলনা হয় না। ভক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো কাজে আসে না — দাসের সঙ্গে মিলন স্বাভাবিক। (৩)
শ্লোক 4
মিলনে মিলনে জীব অনন্ত হয়ে যায়, সে আর জন্মে আসে না। কহেন রবিদাস — আশায় বাঁচি, যাঁর মিলনে পরম গতি পাওয়া যায়। (৪)(১)
শ্লোক 5
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
প্রতিদিন অথবা শুভ তিথিতে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত (সকাল ৪টা - ৬টা) অথবা সন্ধ্যাবেলা
ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, তাজা ফুল ও নৈবেদ্য
- মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও শুভ শক্তি
প্রেক্ষাপট
“বহুত জনম বিছুরে থে মাধউ” পঙ্ক্তিটি শিখ ধর্মের কেন্দ্রীয় ধর্মগ্রন্থ গুরু গ্রন্থ সাহিবের অঙ্গ ৬৯৪-এ ভক্ত রবিদাসের রাগ ধনাসরীর একটি শব্দের অংশ। রবিদাস উত্তর ভারতের ভক্তি আন্দোলনের পঞ্চদশ শতাব্দীর সন্ত-কবি ছিলেন, এবং এই ধরনের শব্দ শিখ ও রবিদাসী সমাবেশে কীর্তনরূপে গাওয়া হয়। পাঠ সম্পর্কে স্পষ্ট টীকা: অঙ্গ ৬৯৪-এর শব্দে দুটি বন্ধ ও একটি ধুয়া আছে; এতে “ইহ জনম তুমহারে লেখে” পাঠ আছে, এবং শেষ হয় “কহি রবিদাস আস লাগি জীবউ চির ভইও দরসন দেখে ||২||১||” দিয়ে। এই পৃষ্ঠায় দেওয়া পাঠটি “বহুত জনম বিছুরে থে মাধউ” পঙ্ক্তির সঙ্গে মেলে, কিন্তু এরপর গ্রন্থে নেই এমন চারটি বন্ধে এগিয়ে যায়; তাই এটিকে ভাবানুবাদ হিসেবে পড়া উচিত, এবং হুবহু পাঠ অঙ্গ ৬৯৪-এ পড়তে হবে।
এই পাঠ সম্পর্কে
রচয়িতা: Bhagat Ravidas · Medieval Nirguna Bhakti Poet-Saint · 15th–16th century, Varanasi
A poet-saint and leather worker by trade from Varanasi, whose hymns envisioned Begampura — a utopian realm free of sorrow, fear, and caste-based inequality. His compositions are included in the Guru Granth Sahib and form the devotional core of the modern Ravidassia tradition.
আপনি কি জানেন?
লেখক ও স্থান
এই শব্দটি ভক্ত রবিদাসের রচনা (আনুমানিক ১৫শ থেকে ১৬শ শতাব্দী), যিনি ভক্তি আন্দোলনের একজন সন্ত-কবি; তাঁর প্রায় চল্লিশটি ভজন গুরু গ্রন্থ সাহিবে অন্তর্ভুক্ত। এটি অঙ্গ ৬৯৪-এ রাগ ধনাসরীতে রয়েছে।
রাগ ধনাসরী
ধনাসরী গুরু গ্রন্থ সাহিবের দশম রাগ।
পঙ্ক্তিটি
“বহুত জনম বিছুরে থে মাধউ”-এর অর্থ “হে মাধব, বহু জন্ম ধরে আমি তোমা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম”। মাধব ঈশ্বরের একটি নাম, এবং অঙ্গ ৬৯৪-এর পাঠ এগিয়ে যায় “ইহ জনম তুমহারে লেখে” দিয়ে, অর্থাৎ এই জন্ম তোমার হিসাবে সমর্পিত।
অঙ্গ ৬৯৪-এর বক্তব্য
ধুয়াটি হলো “হউ বলি বলি জাউ রমঈয়া কারণে”, অর্থাৎ রমঈয়া প্রভুর জন্য আমি বলিহার যাই। শব্দটি এই কথায় শেষ হয় যে রবিদাস তোমার দর্শনের আশায় বেঁচে আছেন, কারণ তোমাকে দেখার পর বহু সময় কেটে গেছে।
পাঠ সম্পর্কে টীকা
এই পৃষ্ঠার পাঠ ওই পঙ্ক্তির পরে চারটি বন্ধে এগিয়ে যায় (চাতক পাখি, নবনিধি, আত্মার মিলন), যা অঙ্গ ৬৯৪ বা গুরু গ্রন্থ সাহিবের অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটিকে ভাবানুবাদ হিসেবে পড়ুন এবং হুবহু শব্দটি অঙ্গ ৬৯৪ থেকে পড়ুন।
Guru Ravidas Ji
রবিদাসিয়া থেকে আরও
সম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
