ऐसी लगी लगन
এই ভজনটি মীরাবাঈ-এর কৃষ্ণের প্রতি অটুট প্রেম ও ভক্তির কথা বর্ণনা করে। তিনি কীভাবে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সন্ন্যাসিনীর বেশে গলিতে গলিতে কৃষ্ণের গুণগান করতে শুরু করেছিলেন, তা এই গানে ফুটে উঠেছে।
শ্লোক
সেই চোখই আসল যা শ্যামের দর্শন লাভ করে, আর সেই মাথাটাই ধন্য যা প্রভুর চরণে নত হয়। যে মুখ বৃথা কথায় লিপ্ত তা অসার, মুখ তো সেটাই যা হরিনাম স্মরণ করে।
শ্লোক 1
হাতের শোভা হীরা-মুক্তায় নয়, হাত সেটাই যা ভগবানের পূজা করে। মৃত্যুর পরেও এই জগতে সেই জীবের নাম অমর হয়ে থাকে, যে প্রভুর প্রেমে তার জীবন উৎসর্গ করে।
শ্লোক 2
মীরার এমন গভীর প্রেম জাগল যে তিনি মগ্ন হয়ে গেলেন এবং গলি গলি ঘুরে হরির গুণগান করতে লাগলেন। রাজপ্রাসাদে লালিত-পালিত হয়েও তিনি যোগিনীর বেশে বেরিয়ে পড়লেন এবং রানী মীরা দিওয়ানি নামে পরিচিত হলেন।
শ্লোক 3
কেউ তাকে বাধা দিল না, কেউ তাকে বারণ করল না; মীরা নির্ভয়ে গোবিন্দ-গোপালের নাম গান করতে লাগলেন।
শ্লোক 4
সাধুদের সঙ্গে বসে এবং মোহনের রঙে রঞ্জিত হয়ে, মীরা তার প্রিয়তম প্রভুকে প্রসন্ন করতে লাগলেন। তিনি গলি গলি ঘুরে হরির গুণগান করতে লাগলেন।
শ্লোক 5
মীরার এমন গভীর প্রেম জাগল যে তিনি মগ্ন হয়ে গেলেন এবং গলি গলি ঘুরে হরির গুণগান করতে লাগলেন। রাজপ্রাসাদে লালিত-পালিত হয়েও তিনি যোগিনীর বেশে বেরিয়ে পড়লেন এবং রানী মীরা দিওয়ানি নামে পরিচিত হলেন।
শ্লোক 6
রানা তাকে বিষ দিলেন, কিন্তু তিনি তা অমৃত জ্ঞান করে পান করলেন; মীরা যেন সাগরে নদীর মতো মিশে যেতে লাগলেন।
শ্লোক 7
লক্ষ লক্ষ দুঃখ সহ্য করেও তিনি মুখ দিয়ে 'গোবিন্দ' উচ্চারণ করলেন। মীরা গোবিন্দ-গোপাল গান করতে লাগলেন এবং গলি গলি ঘুরে হরির গুণগান করতে লাগলেন।
শ্লোক 8
মীরার এমন গভীর প্রেম জাগল যে তিনি মগ্ন হয়ে গেলেন এবং গলি গলি ঘুরে হরির গুণগান করতে লাগলেন। রাজপ্রাসাদে লালিত-পালিত হয়েও তিনি যোগিনীর বেশে বেরিয়ে পড়লেন এবং রানী মীরা দিওয়ানি নামে পরিচিত হলেন।
শ্লোক 9
মীরার এমন গভীর প্রেম জাগল যে তিনি মগ্ন হয়ে গেলেন; মীরার এমন গভীর প্রেম জাগল যে তিনি মগ্ন হয়ে গেলেন।
শ্লোক 10
Worship Guidelines & Chanting Benefits (Phalashruti)
বুধবার, বৃহস্পতিবার ও একাদশী
ব্রাহ্ম মুহূর্ত অথবা সন্ধ্যাবেলা
তুলসী পাতা, মাখন-মিছরি ও হলুদ ফুল
- পরম ভক্তি, চিত্তের আনন্দ ও সর্বপ্রকার উদ্বেগ থেকে মুক্তি
প্রেক্ষাপট
এই ভজনটি ষোড়শ শতাব্দীর রাজস্থানের ভক্তিমূলক কবি ও সাধিকা মীরাবাঈ-এর প্রতি আরোপিত একটি জনপ্রিয় গান। মীরা কৃষ্ণের প্রতি তাঁর অগাধ প্রেমের জন্য বিখ্যাত, এবং এই গানটি তাঁর সেই উন্মাদনাপূর্ণ ভক্তির কথা বলে। এটি সাধারণত ভজন-সন্ধ্যা বা কীর্তনের আসরে গাওয়া হয়, যেখানে ভক্তরা মীরার মতোই কৃষ্ণের নামে মগ্ন হতে চান। গানটির ভাষা ব্রজভাষা ও হিন্দির মিশ্রণ, যা উত্তর ভারতের ভক্তি-সঙ্গীতের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
আপনি কি জানেন?
ভক্তিমূলক কবিতার গঠন
এই পদগুলি ‘ভজন’ নামক একপ্রকার ভক্তিগীতি। এতে মীরাবাঈয়ের কৃষ্ণের প্রতি অটুট প্রেম ও ত্যাগের কাহিনী ফুটে উঠেছে। প্রতিটি স্তবক একটি নির্দিষ্ট ভাব বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত, যেমন প্রথম স্তবকে ইন্দ্রিয়ের সঠিক ব্যবহার, দ্বিতীয় স্তবকে হাতের প্রকৃত সৌন্দর্য, এবং পরবর্তী স্তবকগুলিতে মীরার জীবন-পরিণতি।
মীরাবাঈয়ের জীবন-পরিবর্তন
মীরা ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর রাজপুত রাজকন্যা, কিন্তু কৃষ্ণের প্রেমে তিনি ‘যোগন’ বা সন্ন্যাসিনী হয়ে ওঠেন। ‘মহলোঁ মে পলী, বন কে যোগন চলী’ এই পংক্তিটি তাঁর রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে পথে পথে কৃষ্ণের গুণগান করার সিদ্ধান্তকে নির্দেশ করে।
বিষপানের ঘটনা
‘রাণা নে বিষ দিয়া, মানো অমৃত পিয়া’ – এটি মীরার জীবনের একটি বিখ্যাত ঘটনা। তাঁর শ্বশুর (রাণা) তাঁকে বিষ দিয়েছিলেন, কিন্তু মীরা তা অমৃতের মতো গ্রহণ করেন, কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল কৃষ্ণের কৃপায় বিষও অমৃত হয়ে যায়। এই ঘটনা ভক্তির শক্তি ও ঈশ্বরের প্রতি অটুট আস্থার প্রতীক।
মীরার ‘দিওয়ানি’ উপাধি
‘মীরা রানী দিওয়ানি কহানে লগী’ – মীরাকে ‘দিওয়ানি’ বা পাগলী বলা হতো, কারণ তিনি জাগতিক সব কিছু ছেড়ে কেবল কৃষ্ণের প্রেমে মগ্ন ছিলেন। এই ‘পাগলামি’ আসলে ভক্তির চরম অবস্থা, যেখানে ভক্ত ঈশ্বরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান।
ভক্তির সার্বজনীনতা
প্রথম স্তবকে বলা হয়েছে যে চোখ, মাথা, মুখ ও হাতের প্রকৃত সার্থকতা কেবল ঈশ্বরের দর্শন, প্রণাম, নামস্মরণ ও পূজায়। মীরার জীবন এই শিক্ষার জীবন্ত উদাহরণ – তিনি রাজকীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের মাঝে কৃষ্ণের নাম গেয়ে ভক্তির সার্বজনীন বার্তা ছড়িয়ে দেন।
Krishna
হিন্দুধর্ম থেকে আরও
সব দেখুনসম্পর্কিত শিক্ষা
একই শিক্ষা, বিভিন্ন ঐতিহ্যে প্রতিধ্বনিত
